সংবাদ

বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক

নদীর পাড়ে উৎসবের আমেজ


প্রতিনিধি, চরফ্যাশন (ভোলা)
প্রতিনিধি, চরফ্যাশন (ভোলা)
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

নদীর পাড়ে উৎসবের আমেজ

শহরের ইট-পাথরের দেয়ালবদ্ধ জীবন, পিচঢালা রাস্তায় দমবন্ধ করা নিদাঘ বাতাস এবং মন-মস্তিষ্কের ক্লান্তির মাঝে একটুখানি প্রশান্তি খুঁজতে মানুষ ছুটে আসে চরফ্যাশনের মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত বেতুয়া প্রশান্তি পার্কে। এই পার্ক যেন শহরের ব্যস্ততা থেকে এক ছোট্ট মুক্তির দ্বার, যেখানে প্রকৃতি, বাতাস, নদী ও ঘাসের স্পর্শ মিলিয়ে মানুষ খুঁজে পায় মানসিক আরাম।

গোধূলি লগনের সময় আকাশ লালিমার ছোঁয়ায় ভরে ওঠে, নদীর স্বচ্ছ জলে প্রতিফলিত রঙ যেন চাঁদের আলোয় সোনালি খেলা শুরু করে। কলকল করে বয়ে চলা জলের শব্দ মানুষের মনকে নিয়ে যায় অতীতের স্মৃতি, ভেসে আসে বাল্যকালের খেলাধুলা, প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের গল্প। শিশুরা ফুটবল, ক্রিকেট, ঘোল্লাছুট ও কানামাছি খেলায় ব্যস্ত থাকে, আর দম্পতি কিংবা বন্ধু-বান্ধবীরা নদীর ধারে বসে নীরব আলাপ ও হাসির ছন্দে ডুবে থাকে।

কবি ও সাহিত্যিকরা এই পার্ককে তাদের সৃজনশীলতার আশ্রয়স্থল মনে করেন। কবি সিরাজ মাহমুদ বলেন, “এখানে এসে মানুষ প্রকৃতি ও নদীর স্পর্শে নতুন ভাবনা, সাহিত্যচর্চা ও গবেষণার উপাদান খুঁজে পান। বাতাসের শীতলতা এবং জলধারার শব্দ তাদের মনকে শান্তি দেয়।”
নদীবাংলার কবি, বহুমাত্রিক লেখক প্রভাষক রিপন শান বলেন, “আমি প্রায়শই বিষণ্ণ মনে এখানে আসি। নদীর তীরে বসে জোৎস্না-ছায়ার আলোতে ভাবি, লিখি, প্রকৃতির সঙ্গে সংলাপ করি। এটি লেখকের জন্য এক অনন্য রসদ।”

সিনিয়র সাংবাদিক ও বর্তমানে স্কুল শিক্ষক হারুন বেপারী বলেন, “পর্যটকরা জীবনের ব্যস্ততা থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে এখানে আসে। তবে কিছু স্থানীয় ব্যক্তি পর্যটকদের অযথা হয়রানি ও অর্থ হাতানোর চেষ্টা করে, যা প্রতিরোধে প্রশাসনের টহল জোরদার করা প্রয়োজন।”

উল্লেখ্য, চরফ্যাশন উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পূর্বে আয়েশাবাগ এলাকায় অবস্থিত বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক। এখানে প্রতিনিয়ত আসে পরিবার, একক পর্যটক, বন্ধু-বান্ধবী, কবি ও সাহিত্যিকরা। কেউ নদীর তীরে বসে জোৎস্নার আলোয় গল্প করে, কেউ বিস্তীর্ণ আকাশের নিচে ঘাসের বিছানায় কবিতা রচনা করে, আবার শিশু-কিশোররা হৈ-হুল্লোড়ে আনন্দের সময় কাটায়। প্রতিদিনই এই পার্ক হয়ে ওঠে একটি প্রাণবন্ত উৎসবের আয়োজন, যেখানে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মিলন ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


নদীর পাড়ে উৎসবের আমেজ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

শহরের ইট-পাথরের দেয়ালবদ্ধ জীবন, পিচঢালা রাস্তায় দমবন্ধ করা নিদাঘ বাতাস এবং মন-মস্তিষ্কের ক্লান্তির মাঝে একটুখানি প্রশান্তি খুঁজতে মানুষ ছুটে আসে চরফ্যাশনের মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত বেতুয়া প্রশান্তি পার্কে। এই পার্ক যেন শহরের ব্যস্ততা থেকে এক ছোট্ট মুক্তির দ্বার, যেখানে প্রকৃতি, বাতাস, নদী ও ঘাসের স্পর্শ মিলিয়ে মানুষ খুঁজে পায় মানসিক আরাম।

গোধূলি লগনের সময় আকাশ লালিমার ছোঁয়ায় ভরে ওঠে, নদীর স্বচ্ছ জলে প্রতিফলিত রঙ যেন চাঁদের আলোয় সোনালি খেলা শুরু করে। কলকল করে বয়ে চলা জলের শব্দ মানুষের মনকে নিয়ে যায় অতীতের স্মৃতি, ভেসে আসে বাল্যকালের খেলাধুলা, প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের গল্প। শিশুরা ফুটবল, ক্রিকেট, ঘোল্লাছুট ও কানামাছি খেলায় ব্যস্ত থাকে, আর দম্পতি কিংবা বন্ধু-বান্ধবীরা নদীর ধারে বসে নীরব আলাপ ও হাসির ছন্দে ডুবে থাকে।

কবি ও সাহিত্যিকরা এই পার্ককে তাদের সৃজনশীলতার আশ্রয়স্থল মনে করেন। কবি সিরাজ মাহমুদ বলেন, “এখানে এসে মানুষ প্রকৃতি ও নদীর স্পর্শে নতুন ভাবনা, সাহিত্যচর্চা ও গবেষণার উপাদান খুঁজে পান। বাতাসের শীতলতা এবং জলধারার শব্দ তাদের মনকে শান্তি দেয়।”
নদীবাংলার কবি, বহুমাত্রিক লেখক প্রভাষক রিপন শান বলেন, “আমি প্রায়শই বিষণ্ণ মনে এখানে আসি। নদীর তীরে বসে জোৎস্না-ছায়ার আলোতে ভাবি, লিখি, প্রকৃতির সঙ্গে সংলাপ করি। এটি লেখকের জন্য এক অনন্য রসদ।”

সিনিয়র সাংবাদিক ও বর্তমানে স্কুল শিক্ষক হারুন বেপারী বলেন, “পর্যটকরা জীবনের ব্যস্ততা থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে এখানে আসে। তবে কিছু স্থানীয় ব্যক্তি পর্যটকদের অযথা হয়রানি ও অর্থ হাতানোর চেষ্টা করে, যা প্রতিরোধে প্রশাসনের টহল জোরদার করা প্রয়োজন।”

উল্লেখ্য, চরফ্যাশন উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পূর্বে আয়েশাবাগ এলাকায় অবস্থিত বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক। এখানে প্রতিনিয়ত আসে পরিবার, একক পর্যটক, বন্ধু-বান্ধবী, কবি ও সাহিত্যিকরা। কেউ নদীর তীরে বসে জোৎস্নার আলোয় গল্প করে, কেউ বিস্তীর্ণ আকাশের নিচে ঘাসের বিছানায় কবিতা রচনা করে, আবার শিশু-কিশোররা হৈ-হুল্লোড়ে আনন্দের সময় কাটায়। প্রতিদিনই এই পার্ক হয়ে ওঠে একটি প্রাণবন্ত উৎসবের আয়োজন, যেখানে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মিলন ঘটে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত