সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর, ভোটার তালিকা নিয়ে শীর্ষ আদালতে বিতর্ক


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর, ভোটার তালিকা নিয়ে শীর্ষ আদালতে বিতর্ক

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক এখন সুপ্রিম কোর্টে।

সোমবার শুনানিতে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, লাখ লাখ বাদ পড়া ভোটারের আর্জি বিচারাধীন রেখেই নির্বাচন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।

ভারতের এই রাজ্যের এবারের বিধানসভার ভোটের ফল ঘোষণার পর সোমবার প্রথমবার এই মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তার বক্তব্য, রাজ্যের অন্তত ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রে বাদ পড়া বা বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা সংশ্লিষ্ট আসনের জয়ের ব্যবধানের তুলনায় অনেক বেশি।

একটি ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, মাত্র ৮৬২ ভোটে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে, সেখানে পাঁচ হাজারেরও বেশি ভোটারের আবেদন তখনও বিচারাধীন ছিল।

তৃণমূলের অভিযোগ, এই আবেদনগুলির নিষ্পত্তি না করেই নির্বাচন করানো হয়েছে, যা সরাসরি নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলছে।

তবে, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, যদি নির্বাচনের ফলাফলে বাস্তবিক প্রভাবের অভিযোগ তোলা হয়, তাহলে আলাদা পিটিশন দায়ের করতে হবে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেন।

এসআইআর সংক্রান্ত ট্রাইবুনাল নিয়েও প্রশ্ন ওঠে আদালতে। কলকাতা হাই কোর্টের তত্ত্বাবধানে গঠিত এই ট্রাইবুনালের একাধিক সদস্য দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোয় কার্যকারিতা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, ‘কাউকে জোর করে দায়িত্বে রাখা সম্ভব নয়।’

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটগ্রহণ ও ফলপ্রকাশ হওয়ার পর আইনি চ্যালেঞ্জের একমাত্র পথ হল নির্বাচন পিটিশন। তৃণমূলও জানিয়েছে, তারা সেই পথেই এগোতে প্রস্তুত।

সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এখন আদালতের পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর, ভোটার তালিকা নিয়ে শীর্ষ আদালতে বিতর্ক

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক এখন সুপ্রিম কোর্টে।

সোমবার শুনানিতে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, লাখ লাখ বাদ পড়া ভোটারের আর্জি বিচারাধীন রেখেই নির্বাচন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।

ভারতের এই রাজ্যের এবারের বিধানসভার ভোটের ফল ঘোষণার পর সোমবার প্রথমবার এই মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তার বক্তব্য, রাজ্যের অন্তত ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রে বাদ পড়া বা বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা সংশ্লিষ্ট আসনের জয়ের ব্যবধানের তুলনায় অনেক বেশি।

একটি ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, মাত্র ৮৬২ ভোটে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে, সেখানে পাঁচ হাজারেরও বেশি ভোটারের আবেদন তখনও বিচারাধীন ছিল।

তৃণমূলের অভিযোগ, এই আবেদনগুলির নিষ্পত্তি না করেই নির্বাচন করানো হয়েছে, যা সরাসরি নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলছে।

তবে, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, যদি নির্বাচনের ফলাফলে বাস্তবিক প্রভাবের অভিযোগ তোলা হয়, তাহলে আলাদা পিটিশন দায়ের করতে হবে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেন।

এসআইআর সংক্রান্ত ট্রাইবুনাল নিয়েও প্রশ্ন ওঠে আদালতে। কলকাতা হাই কোর্টের তত্ত্বাবধানে গঠিত এই ট্রাইবুনালের একাধিক সদস্য দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোয় কার্যকারিতা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, ‘কাউকে জোর করে দায়িত্বে রাখা সম্ভব নয়।’

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটগ্রহণ ও ফলপ্রকাশ হওয়ার পর আইনি চ্যালেঞ্জের একমাত্র পথ হল নির্বাচন পিটিশন। তৃণমূলও জানিয়েছে, তারা সেই পথেই এগোতে প্রস্তুত।

সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এখন আদালতের পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত