পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর এবার প্রশাসনের স্টিয়ারিং ঠিকঠাক করার পালা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে প্রথম বিজেপি সরকার অবশেষে মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন করে দিল—আর সেই বণ্টনেই স্পষ্ট হয়ে গেল আগামী দিনের রোডম্যাপ।
ব্রিগেডের জমকালো শপথ গ্রহণের পর থেকেই জল্পনা চলছিল—কার হাতে যাবে কোন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। সোমবার সেই জল্পনার অবসান। আর দপ্তর বণ্টনের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক বার্তা, সংগঠনের অগ্রাধিকার, আর ভোটব্যাঙ্কের হিসেব।
উত্তরবঙ্গ, যেখানে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি তৈরি হয়েছে গত কয়েক বছরে, সেই অঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিশীথ প্রামাণিককে। শুধু উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন নয়, তাঁর হাতে ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দপ্তরও। অর্থাৎ, এক ঢিলে দুই পাখি, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং যুব সমাজে প্রভাব বাড়ানো।
দলের পুরনো ও আক্রমণাত্মক মুখ দিলীপ ঘোষকে দেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। সঙ্গে প্রাণী সম্পদ বিকাশ। গ্রামীণ বাংলার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এখন তার হাতে, যেখানে রাজনৈতিক লড়াই সবচেয়ে বেশি তীব্র। স্পষ্ট, গ্রাম দখলের লড়াইকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি।
খাদ্য দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন অশোক কীর্তনীয়া। রেশন, খাদ্য সরবরাহ, এই সংবেদনশীল ক্ষেত্র সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এখানে সাফল্য বা ব্যর্থতা, দুটোই সরকারের ভাবমূর্তিতে বড় প্রভাব ফেলবে।
অগ্নিমিত্রা পলের কাঁধে পড়েছে নারী ও শিশু কল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর, সঙ্গে পুর দপ্তরও। শহর এবং নারী সুরক্ষা, এই দুই ফ্রন্টে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে তাঁকে। বিজেপি এখানে স্পষ্টভাবে মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে টার্গেট করছে।
অন্যদিকে, আদিবাসী মুখ ক্ষুদিরাম টুডুকে দেওয়া হয়েছে আদিবাসী উন্নয়ন ও পর্যটন দপ্তর। জঙ্গলমহল থেকে পর্যটন মানচিত্র, দুই ক্ষেত্রেই উন্নয়ন দেখিয়ে রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে সরকার।
সব মিলিয়ে, এই দপ্তর বণ্টন শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটা একেবারে স্ট্র্যাটেজিক মুভ। কোথায় জোর, কোন ভোটব্যাঙ্কে ফোকাস, আর কোথায় দ্রুত ফল দেখাতে হবে, সবটাই পরিষ্কার।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট, “কথা কম, কাজ বেশি।” এখন দেখার, এই নতুন টিম সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর এবার প্রশাসনের স্টিয়ারিং ঠিকঠাক করার পালা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে প্রথম বিজেপি সরকার অবশেষে মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন করে দিল—আর সেই বণ্টনেই স্পষ্ট হয়ে গেল আগামী দিনের রোডম্যাপ।
ব্রিগেডের জমকালো শপথ গ্রহণের পর থেকেই জল্পনা চলছিল—কার হাতে যাবে কোন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। সোমবার সেই জল্পনার অবসান। আর দপ্তর বণ্টনের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক বার্তা, সংগঠনের অগ্রাধিকার, আর ভোটব্যাঙ্কের হিসেব।
উত্তরবঙ্গ, যেখানে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি তৈরি হয়েছে গত কয়েক বছরে, সেই অঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিশীথ প্রামাণিককে। শুধু উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন নয়, তাঁর হাতে ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দপ্তরও। অর্থাৎ, এক ঢিলে দুই পাখি, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং যুব সমাজে প্রভাব বাড়ানো।
দলের পুরনো ও আক্রমণাত্মক মুখ দিলীপ ঘোষকে দেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। সঙ্গে প্রাণী সম্পদ বিকাশ। গ্রামীণ বাংলার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এখন তার হাতে, যেখানে রাজনৈতিক লড়াই সবচেয়ে বেশি তীব্র। স্পষ্ট, গ্রাম দখলের লড়াইকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি।
খাদ্য দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন অশোক কীর্তনীয়া। রেশন, খাদ্য সরবরাহ, এই সংবেদনশীল ক্ষেত্র সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এখানে সাফল্য বা ব্যর্থতা, দুটোই সরকারের ভাবমূর্তিতে বড় প্রভাব ফেলবে।
অগ্নিমিত্রা পলের কাঁধে পড়েছে নারী ও শিশু কল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর, সঙ্গে পুর দপ্তরও। শহর এবং নারী সুরক্ষা, এই দুই ফ্রন্টে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে তাঁকে। বিজেপি এখানে স্পষ্টভাবে মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে টার্গেট করছে।
অন্যদিকে, আদিবাসী মুখ ক্ষুদিরাম টুডুকে দেওয়া হয়েছে আদিবাসী উন্নয়ন ও পর্যটন দপ্তর। জঙ্গলমহল থেকে পর্যটন মানচিত্র, দুই ক্ষেত্রেই উন্নয়ন দেখিয়ে রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে সরকার।
সব মিলিয়ে, এই দপ্তর বণ্টন শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটা একেবারে স্ট্র্যাটেজিক মুভ। কোথায় জোর, কোন ভোটব্যাঙ্কে ফোকাস, আর কোথায় দ্রুত ফল দেখাতে হবে, সবটাই পরিষ্কার।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট, “কথা কম, কাজ বেশি।” এখন দেখার, এই নতুন টিম সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন