বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। টরন্টোর মাঠে প্রথমার্ধে কোনো দলই জালের দেখা না পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে জমে ওঠে চরম নাটকীয়তা। বলের দখল এবং আক্রমণে রবার্তো মার্তিনেজের দল এগিয়ে থাকলেও ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণ ও গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানে।
ম্যাচের শুরুতেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায়। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় ক্রোয়েশিয়া। ইভান পেরিসিচের পাস থেকে মার্টিন বাতুরিনা বল বাড়িয়ে দেন আন্তে বুদিমিরকে। প্রথম ছোঁয়ায় নেওয়া সেই শটটি দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা।
এর ঠিক এক মিনিট পরই জবাব দেয় পর্তুগাল। নুনো মেন্দেসের পাসে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে রাফায়েল লিয়াও বল বাড়ান ব্রুনো ফার্নান্দেসকে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকার জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন ডমিনিক লিভাকোভিচ। বিরতির আগে পর্তুগাল একের পর এক আক্রমণ করলেও প্রথমার্ধ শেষ হয় গোল ছাড়াই।
বিরতি থেকে ফিরেই খোলস বদলে ফেলে জ্লাতকো দালিচের ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেয়ে যায় তারা। ডান প্রান্ত থেকে যোসিপ স্তানিশিচের নিখুঁত ক্রস বক্সে ফ্লিক করেন এক ক্রোয়াট ফুটবলার। দূরের পোস্টে একেবারে ফাঁকায় থাকা ইভান পেরিসিচ বল নিয়ন্ত্রণ করে নিচু শটে জাল খুঁজে নেন। দিয়োগো কস্তার কোনো সুযোগই ছিল না।
গোল করে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। এর কিছুক্ষণ পর ইগর মাতানোভিচ বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হলে ব্যবধান দ্বিগুণ করা হয়নি তাদের। পিছিয়ে পড়ে ৫৮ মিনিটে রাফায়েল লিয়াও দূরপাল্লার দুর্দান্ত বাঁকানো শটে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করলেও বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
ম্যাচের ৫৯ মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থামাতে ভিটিনিয়াকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদরিচ।
ম্যাচের ৬১ মিনিটে দর্শকরা ভেবেছিলেন অবশেষে ইতিহাস গড়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। হোয়াও ক্যানসেলোর দুর্দান্ত পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণ করে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকা এবং পরে ভিএআর পর্যালোচনায় সেই গোল বাতিল হওয়ায় হতাশ হতে হয় রোনালদোকে।
এরপরই বড় সিদ্ধান্ত নেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। ৬২ থেকে ৬৩ মিনিটের মধ্যে একসঙ্গে চারটি পরিবর্তন করে আক্রমণের গতি বাড়ায় পর্তুগাল। এর সুফলও আসে দ্রুত।
৬৪ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে রেনাতো ভেইগাকে বক্সের মধ্যে টেনে ধরেন নিকোলা ভ্লাশিচ। ভিএআর পর্যালোচনার পর পর্তুগালের পক্ষে পেনাল্টটির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।
৬৮ মিনিটে স্পট-কিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ডানদিকে জোরালো শটে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরান পর্তুগিজ অধিনায়ক। অফসাইডে বাতিল হওয়া গোলের হতাশা কাটিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে আবারও দলকে ম্যাচে ফেরান তিনি। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত দুই দলই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে লড়াই চালিয়ে যায়।

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। টরন্টোর মাঠে প্রথমার্ধে কোনো দলই জালের দেখা না পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে জমে ওঠে চরম নাটকীয়তা। বলের দখল এবং আক্রমণে রবার্তো মার্তিনেজের দল এগিয়ে থাকলেও ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণ ও গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানে।
ম্যাচের শুরুতেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায়। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় ক্রোয়েশিয়া। ইভান পেরিসিচের পাস থেকে মার্টিন বাতুরিনা বল বাড়িয়ে দেন আন্তে বুদিমিরকে। প্রথম ছোঁয়ায় নেওয়া সেই শটটি দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা।
এর ঠিক এক মিনিট পরই জবাব দেয় পর্তুগাল। নুনো মেন্দেসের পাসে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে রাফায়েল লিয়াও বল বাড়ান ব্রুনো ফার্নান্দেসকে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকার জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন ডমিনিক লিভাকোভিচ। বিরতির আগে পর্তুগাল একের পর এক আক্রমণ করলেও প্রথমার্ধ শেষ হয় গোল ছাড়াই।
বিরতি থেকে ফিরেই খোলস বদলে ফেলে জ্লাতকো দালিচের ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেয়ে যায় তারা। ডান প্রান্ত থেকে যোসিপ স্তানিশিচের নিখুঁত ক্রস বক্সে ফ্লিক করেন এক ক্রোয়াট ফুটবলার। দূরের পোস্টে একেবারে ফাঁকায় থাকা ইভান পেরিসিচ বল নিয়ন্ত্রণ করে নিচু শটে জাল খুঁজে নেন। দিয়োগো কস্তার কোনো সুযোগই ছিল না।
গোল করে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। এর কিছুক্ষণ পর ইগর মাতানোভিচ বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হলে ব্যবধান দ্বিগুণ করা হয়নি তাদের। পিছিয়ে পড়ে ৫৮ মিনিটে রাফায়েল লিয়াও দূরপাল্লার দুর্দান্ত বাঁকানো শটে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করলেও বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
ম্যাচের ৫৯ মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থামাতে ভিটিনিয়াকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদরিচ।
ম্যাচের ৬১ মিনিটে দর্শকরা ভেবেছিলেন অবশেষে ইতিহাস গড়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। হোয়াও ক্যানসেলোর দুর্দান্ত পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণ করে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকা এবং পরে ভিএআর পর্যালোচনায় সেই গোল বাতিল হওয়ায় হতাশ হতে হয় রোনালদোকে।
এরপরই বড় সিদ্ধান্ত নেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। ৬২ থেকে ৬৩ মিনিটের মধ্যে একসঙ্গে চারটি পরিবর্তন করে আক্রমণের গতি বাড়ায় পর্তুগাল। এর সুফলও আসে দ্রুত।
৬৪ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে রেনাতো ভেইগাকে বক্সের মধ্যে টেনে ধরেন নিকোলা ভ্লাশিচ। ভিএআর পর্যালোচনার পর পর্তুগালের পক্ষে পেনাল্টটির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।
৬৮ মিনিটে স্পট-কিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ডানদিকে জোরালো শটে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরান পর্তুগিজ অধিনায়ক। অফসাইডে বাতিল হওয়া গোলের হতাশা কাটিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে আবারও দলকে ম্যাচে ফেরান তিনি। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত দুই দলই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে লড়াই চালিয়ে যায়।

আপনার মতামত লিখুন