সংবাদ

আর্কাইভ দেখুন

মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক নিয়ম কী?

মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক নিয়ম কী?

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন—১৮ অক্টোবর রাতে এমন খবর প্রকাশ করেছে একাধিক গণমাধ্যম।তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের খবর এবং প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা—দুটিকে আলাদা করে দেখা জরুরি।বাংলাদেশের সংবিধানে মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং তাকে পদ থেকে সরানোর প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট করা আছে। সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর পদ কখন শূন্য হবে, প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগ করতে বললে কী ঘটবে এবং রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়।মন্ত্রী নিজে পদত্যাগ করতে চাইলেসংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদের ১(ক) দফায় বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো মন্ত্রীর পদ শূন্য হবে, যদি তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দেন।সহজ ভাষায়, কোনো মন্ত্রী নিজে পদত্যাগ করতে চাইলে তাকে পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে দিতে হবে। সংবিধানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সেই পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করার জন্য গ্রহণ করবেন।এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংবিধানে পদত্যাগপত্র দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতির আলাদা করে অনুমোদন দেওয়াকে পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ৫৮(১)(ক) দফায় পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেওয়ার বিষয়টিকেই পদ শূন্য হওয়ার সাংবিধানিক ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।অর্থাৎ, পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া আর নির্ধারিত পদ্ধতিতে পদত্যাগপত্র দেওয়া এক নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা, সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য কিংবা মৌখিকভাবে পদত্যাগের কথা বললেই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে বললেএ ক্ষেত্রে সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদের ২ দফা প্রযোজ্য। সেখানে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে অনুরোধ করতে পারেন। মন্ত্রী সেই অনুরোধ পালন না করলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে তার নিয়োগের অবসান ঘটানোর পরামর্শ দিতে পারেন। এখানে দুটি পৃথক ধাপ রয়েছে।প্রথম ধাপ: প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলেন বা অনুরোধ করেন।দ্বিতীয় ধাপ: মন্ত্রী পদত্যাগ না করলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে তার নিয়োগ বাতিলের পরামর্শ দিতে পারেন। এরপর রাষ্ট্রপতি সংবিধানের বিধান অনুযায়ী নিয়োগের অবসান ঘটানোর নির্দেশ দিলে মন্ত্রীর পদ শূন্য হয়।অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বললেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পদ শূন্য হয়ে যায় না। মন্ত্রী নিজে পদত্যাগপত্র না দিলে এবং তাকে সরানোর সাংবিধানিক প্রক্রিয়াও সম্পন্ন না হলে শুধু নির্দেশের খবরের ভিত্তিতে পদ শূন্য হয়েছে বলা যায় না।প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও কি একই নিয়মসংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদের ৫ দফায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই অনুচ্ছেদে ‘মন্ত্রী’ বলতে প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকেও বোঝানো হয়েছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের ক্ষেত্রেও একই সাংবিধানিক বিধান প্রযোজ্য।তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়ে থাকলে সেটি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নেওয়া একটি পদক্ষেপ। কিন্তু পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে কি না, অথবা রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে নিয়োগের অবসান ঘটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কি না—সেটি নিশ্চিত না হয়ে তার পদ শূন্য হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।রাষ্ট্রপতির ভূমিকামন্ত্রী নিয়োগ ও মন্ত্রিসভার সাংবিধানিক কাঠামোয় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা রয়েছে। সংবিধানের ৫৮(২) দফা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলার পর তিনি পদত্যাগ না করলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে তার নিয়োগের অবসান ঘটানোর পরামর্শ দিতে পারেন।এখানে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা এক নয়। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের অনুরোধ করেন এবং প্রয়োজন হলে নিয়োগ বাতিলের পরামর্শ দেন; রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নিয়োগের অবসান ঘটানোর নির্দেশ দেন।তবে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৫৮(১)(ক) দফা আলাদা। সেখানে রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হাতে পদত্যাগপত্র দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই বিধানে রাষ্ট্রপতির পৃথক অনুমোদনকে পদ শূন্য হওয়ার শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রীর পদ শূন্য হওয়াসংবিধানের ৫৮(১) দফায় পদ শূন্য হওয়ার আরও কয়েকটি পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে।সংসদ সদস্যপদ হারালে: কোনো মন্ত্রী সংসদ সদস্য না থাকলে সাধারণ নিয়মে তার মন্ত্রীর পদ শূন্য হয়। তবে সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদের শর্ত অনুযায়ী সংসদ সদস্য নন—এমন কাউকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার যে ব্যতিক্রম রয়েছে, তা এখানে প্রযোজ্য।রাষ্ট্রপতির নির্দেশে নিয়োগের অবসান হলে: ৫৮(২) দফা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের পর রাষ্ট্রপতি নিয়োগের অবসান ঘটানোর নির্দেশ দিলে মন্ত্রীর পদ শূন্য হয়।প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বা পদে না থাকলে: সংবিধানের ৫৮(৪) দফা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বা তার পদে বহাল না থাকলে অন্য মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেছেন বলে গণ্য হন। তবে তাদের উত্তরসূরিরা দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তারা সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী দায়িত্বে বহাল থাকেন।ইশরাক হোসেনের ক্ষেত্রে কোনটি গুরুত্বপূর্ণএ মুহূর্তে মূল প্রশ্ন হলো, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশের খবরের পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেওয়া হয়েছে।যদি ইশরাক হোসেন পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে দিয়ে থাকেন, তাহলে সেটি সংবিধানের ৫৮(১)(ক) দফার আওতায় পড়বে। আর তিনি পদত্যাগ না করলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে তার নিয়োগের অবসান ঘটানোর পরামর্শ দিতে পারেন; সেই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতির নির্দেশ এলে তার পদ শূন্য হবে।তাই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় আলাদা করে যাচাই করা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগ করতে বলেছেন কি না, পদত্যাগপত্র জমা পড়েছে কি না এবং নিয়োগের অবসান ঘটানোর কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি হয়েছে কি না।মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া পরস্পর সম্পর্কিত হলেও এক নয়। প্রধানমন্ত্রী কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলতে পারেন; কিন্তু সেই বক্তব্য বা নির্দেশের খবরই পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রমাণ নয়। পদ শূন্য হওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হবে সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদে বর্ণিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী।ইশরাক হোসেনের ক্ষেত্রে তাই নিশ্চিত তথ্য ছাড়া তাকে পদত্যাগ করেছেন বা পদ থেকে সরানো হয়েছে—কোনোটিই চূড়ান্তভাবে বলা ঠিক নয়।


পদত্যাগের খবর সম্পূর্ণ অসত্য, প্রতিবাদ প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের

পদত্যাগের খবর সম্পূর্ণ অসত্য, প্রতিবাদ প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের

গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ সংক্রান্ত খবরকে সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা।রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীকে ‘পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’ বলে যে সংবাদটি প্রচারিত হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি এবং তার পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ও জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে এই ধরনের কাল্পনিক তথ্য ছড়াচ্ছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী তার সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন। গতকাল (শনিবার) নিজ সংসদীয় আসনে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেবল আত্মরক্ষার্থে আইনসম্মতভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি ঘটেছিল, যা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ইতিপূর্বেই তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার পদত্যাগ সংক্রান্ত কোনো খবর ছড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি ও সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী।সংশ্লিষ্ট সব গণমাধ্যম ও দেশবাসীকে এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যে সব মাধ্যম এই বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ করেছে, তাদেরকে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।এর আগে শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে উপস্থিত থাকার অভিযোগ ওঠে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও তার নিজের ফেসবুক পেজ থেকেই ছড়িয়ে পড়ে।ভিডিওতে তাকে গাড়ি থেকে নেমে পিস্তল উঁচিয়ে ‘ধর ধর ধর’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। এ সময় তার সহযোগীদের কেউ কেউ ‘একেবারে গুলি করে দেব’ বলতেও শোনা যায়। বেসামরিক ব্যক্তির হাতে অস্ত্র নিয়ে এ ধরনের অভিযানে নামা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।এর জেরে রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে পাঠিয়ে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত খবর অস্বীকার করে পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হলো।এর আগে ইশরাক হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেছিলেন, মাদক কারবারিদের হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার জন্যই তিনি ও তার নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য বৈধ অস্ত্রটি উঁচিয়ে ধরেছিলেন। তবে ঘটনার আগে পুলিশকে জানানো হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। বর্তমানে ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।


উচ্চশিক্ষায় বিদেশগামীদের জন্য কমিউনিটি ব্যাংক ও নুজহাত অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের চুক্তি

উচ্চশিক্ষায় বিদেশগামীদের জন্য কমিউনিটি ব্যাংক ও নুজহাত অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের চুক্তি

​বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও সহজ করতে এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স লেনদেনে উৎসাহ যোগাতে নুজহাত অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে একটি যৌথ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ। এই অংশীদারত্বের ফলে ব্যাংকের আধুনিক আর্থিক সেবা এবং নুজহাত অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের পরামর্শসেবা নেটওয়ার্কের মেলবন্ধন ঘটবে, যা বিদেশগামী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের যাবতীয় প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং নথি প্রস্তুত ও লেনদেন বহুলাংশে সহজ করে তুলবে। মূলত শিক্ষার্থীদের সরাসরি ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা, প্রয়োজনীয় স্টুডেন্ট ফাইল তৈরি এবং চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত আর্থিক সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিদেশে পড়ার প্রতিটি ধাপে কার্যকর সহায়তা দেওয়াই এই যৌথ উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। ​গ্রাহকদের সময়ের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যাংকের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন কমিউনিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দিন।নতুন এই কৌশলগত দূরদর্শিতা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গ্রাহকের সময়োপযোগী চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ব্যাংকের প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নিতে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশে উচ্চশিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং সেবা বহুগুণ সম্প্রসারণ করে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সাথে আমরা একটি দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। এর ফলে সাধারণ মানুষকে প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে আসার আমাদের যে লক্ষ্য, তা আরও বেগবান হবে।​কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির কর্পোরেট কার্যালয়ে আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দিন এবং নুজহাত অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামীম মুর্শেদ।এ সময় আন্তর্জাতিক সেবা কাঠামোর গতিশীলতা নিয়ে নিজেদের আশাবাদ ব্যক্ত করে নুজহাত অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সুবিধাজনক ব্যাংকিং সেবা এবং বৈধ চ্যানেলে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স লেনদেনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন সফলভাবে বাস্তবায়নে দুটি প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে। ​অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি ব্যাংকের চিফ অপারেটিং অফিসার সামসুল হক সুফিয়ানী এবং বোর্ড সেক্রেটারিয়েটের প্রতিনিধি সাইফুল আলমসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।এই সমঝোতার মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা যেমন সর্বসাধারণের নাগালের মধ্যে আসবে, তেমনি শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে সুরক্ষিত ও আইনসম্মত আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাবেন বলে উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ঐক্যমত প্রকাশ করেন।


জাতীয় প্রেসক্লাবের শুটিং প্রতিযোগিতায় প্রথম তাওরাতুল

জাতীয় প্রেসক্লাবের শুটিং প্রতিযোগিতায় প্রথম তাওরাতুল

জাতীয় প্রেসক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এয়ারগান শুটিং প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন তাওরাতুল ইসলাম লিখন। তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী।লিখন দৈনিক সংবাদ-এর সিনিয়র রিপোর্টার মহসীন ইসলাম টুটুলের ছোট ছেলে। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শুটিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করার স্বপ্ন দেখেন।শনিবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে দুই দিনব্যাপী ‘শিশু আনন্দমেলা’র সমাপনী দিনে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া। এসময় উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া উপকমিটির আহ্বায়ক শাহনাজ বেগম পলি।এর আগে শিশু আনন্দমেলার উদ্বোধন করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী। সমাপনী দিনে শিশুদের জন্য দৌড়, অংক দৌড় ও বিস্কুট দৌড়সহ বিভিন্ন খেলার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া নারী সদস্যদের জন্য ছিল পিলোপাসিং ও দড়ি টানাটানি প্রতিযোগিতা।বিকেলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পী ও শিশুদের পরিবেশনার পাশাপাশি ছিল বরেণ্য জাদুকর জুয়েল আইচের জাদু প্রদর্শনী, যা উপস্থিত শিশুদের মুগ্ধ করে।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ বখতিয়ার রাণা, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কাজী রওনাক হোসেন, মোহাম্মদ মোমিন হোসেন এবং এ কে এম মহসীন। ক্রীড়া উপকমিটির সদস্যসহ ক্লাবের বিপুলসংখ্যক সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ

মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের জন্ম দেওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠিয়ে এ নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। রাতে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সরকার ও দলের ভেতরেই তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়।সরকারসংশ্লিষ্টদের মতে, মাদকবিরোধী উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি না থাকলেও একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজে অস্ত্র হাতে অভিযানে নামা গ্রহণযোগ্য নয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর ওই দিনের আকস্মিক পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা আড়ালে পড়ে যায়।এ ঘটনাটিকে সরকারের সদস্যদের আচরণ ও জবাবদিহির প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে অনুরূপ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ঘনিষ্ঠদের নাম আসায় সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদ ছাড়তে হয়েছিল।এর আগে, নিজের ফেসবুক পেজে বিবৃতি দিয়ে ইশরাক দাবি করেন, মাদক কারবারিদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার জন্যই তিনি ও তার নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য বৈধ অস্ত্রটি উঁচিয়ে ধরেছিলেন। তবে ঘটনার আগে পুলিশকে জানানো হয়নি বলে ওয়ারী বিভাগের পুলিশ জানিয়েছে। বর্তমানে ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সূত্র: প্রথম আলো।


ইরানের অস্ত্রাগারে যুক্ত হলো প্রাণঘাতী নতুন অস্ত্র

ইরানের অস্ত্রাগারে যুক্ত হলো প্রাণঘাতী নতুন অস্ত্র

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বমঞ্চে তীব্র উত্তেজনার আবহ তৈরি করে ইরানের অস্ত্রভান্ডারে আরও অত্যাধুনিক ও উন্নত অস্ত্র যুক্ত করা হয়েছে।অত্যন্ত স্পর্শকাতর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, গত ‘৪০ দিনের যুদ্ধের’ পর দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা আগের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বিশদ ব্যাখ্যা প্রদানকালে মোহেব্বি তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা হবে একটি চরম ‘অযৌক্তিক’ সিদ্ধান্ত।তবে বিশ্ব রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনায় নতুন করে ভয়াবহ সংঘাত শুরুর আশঙ্কাকে এখনই পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।চলতি ভূ-রাজনীতির অভ্যন্তরীণ কৌশল প্রকাশ করে তিনি আরও দাবি করেন, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজেদের বড় ধরনের রাজনৈতিক সাফল্য ও শক্তি প্রদর্শন করার প্রচ্ছন্ন প্রয়োজন থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ বা আগ্রাসী তৎপরতা চালাতে পারে।তবে তেহরানের অবস্থান পরিষ্কার করে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক বার্তা দিয়ে এই মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এবার নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাবে তেহরান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও অনেক বেশি শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক জবাব দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।আইআরজিসির এই গুরুত্বপূর্ণ মুখপাত্র ইরানের সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের বিষয়টি বিশ্ববাসীকে অবহিত করলেও ঠিক কী ধরনের উন্নত ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র তাদের অস্ত্রাগারে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে, কৌশলগত সুরক্ষার কারণে সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেননি।


চোরবাগান কাণ্ডে এবার রহস্যের পর্দা ফাঁস!

চোরবাগান কাণ্ডে এবার রহস্যের পর্দা ফাঁস!

কলকাতার দুর্গোৎসবে নজিরবিহীন বিপর্যয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। আহত হয়েছেন ৩৫ জন। রবিবার, ১৮ অক্টোবর, সকাল থেকে এই ঘটনায় তদন্তে একাধিক পদক্ষেপের খবর সামনে এসেছে। পুজো কমিটির সম্পাদক ও সহ-সভাপতি-সহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। প্রকাশ্যে এসেছে মৃতদের নাম ও বয়সের তালিকাও। কিন্তু এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল? ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোথায় ঘাটতি ছিল? আর নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের কোনও দর্শনার্থী রয়েছেন কি না—সেই প্রশ্নও উঠছে।শনিবার (১৭ অক্টোবর) সপ্তমীর সন্ধ্যায় প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে বিপুল ভিড় জমেছিল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টি থেকে বাঁচতে বহু দর্শনার্থী একসঙ্গে মণ্ডপে প্রবেশের চেষ্টা করেন। আগে থেকেই জমে থাকা ভিড়ের মধ্যে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে একের পর এক মানুষের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।রোববার কলকাতা পুলিশ এই ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির সম্পাদক রাজকুমার সেওদা ওরফে রাজা এবং সহ-সভাপতি শান্তনু দুবে। এ ছাড়া মণ্ডপের বাঁশের কাঠামো নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত বিপ্লব মুখোপাধ্যায়, ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কৌশিক সাহা ও পিন্টু দে এবং বেসরকারি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সুমন চক্রবর্তী ও রাজেশ পালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে ১৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার ঘটনায় গিরিশ পার্ক থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫, ১১০ এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।তদন্তকারীরা ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, মণ্ডপের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ, নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা এবং দুর্ঘটনার আগে কী ধরনের ঘোষণা করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে সমস্যা দেখা দেয়।চোরবাগানকাণ্ডে মৃত ১৯ এর পরিচয় তালিকা জানিয়েছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী এবং প্রবীণরাও রয়েছেন। প্রকাশিত তালিকায় কলকাতা ও শহরতলির পাশাপাশি হুগলি, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান এবং বিহারের বাসিন্দাদের নাম রয়েছে। একই পরিবারের বাবা ও ছোট ছেলের মৃত্যুর ঘটনাও এই বিপর্যয়ের শোক আরও গভীর করেছে।আহত ৩৫ জনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেই বিশেষ তদন্তকারী দল কাজ শুরু করেছে। রোববার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের কথা জানানো হয়েছে। তদন্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি বা দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।মৃতদের পরিবারের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা এবং পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। আহতদের পাঁচ লক্ষ টাকা করে সহায়তা এবং চিকিৎসার খরচ বহনের কথাও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মৃতদের নিকটাত্মীয়দের জন্য দুই লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন।দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চোরবাগান ও বোবাজারের সংলগ্ন কিছু এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। ১৮ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত নির্দিষ্ট এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকাবে।নিরাপত্তার কারণে  দুর্ঘটনাস্থলের পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশও বন্ধ রাখা হয়েছে।চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কলকাতার দুর্গাপুজোয় প্রতিবছর বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে বহু মানুষ আসেন। তবে ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া সংবাদে নিহতদের মধ্যে কোনও বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি।প্রকাশিত মৃতদের তালিকায় ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও জেলার বাসিন্দাদের নাম রয়েছে। কিন্তু নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের কোনও নাগরিকের নাম এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। দু একটি গানমাধ্যমে বাংলাদেশের নাগরিক বিষয়টি উল্লেখ ছিল, তাই এ ব্যাপারে খোঁজ নিলে কোনো তথ্য সরকারি ভাবে নিশ্চিত করেনি।  তাই বাংলাদেশি দর্শনার্থীর মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে অনুমানভিত্তিক কোনও দাবি করা হচ্ছে না।সামনে এখন একাধিক প্রশ্নচোরবাগানের এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু একটি পুজো মণ্ডপের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে না, কলকাতার বড় জনসমাগমে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাকেও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে দর্শনার্থীদের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল? প্রবেশ ও নির্গমনের পথের পরিকল্পনা যথাযথ ছিল কি? জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশ, নিরাপত্তাকর্মী ও আয়োজকদের মধ্যে সমন্বয় ছিল কি না? তদন্তে এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে প্রশাসন।উৎসবের আনন্দের মাঝে ১৯টি প্রাণহানি বহু পরিবারকে শোকের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এখন নিহতদের পরিবারকে সহায়তা, আহতদের চিকিৎসা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যাতে এমন বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিও জোরালো হচ্ছে।চোরবাগান পদপিষ্ট কাণ্ডের তদন্তে পরবর্তী পদক্ষেপ, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে নতুন তথ্য এবং বাংলাদেশি দর্শনার্থীদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত খবর সামনে এলে তা তাৎক্ষণিক ‘সংবাদ’র মাধ্যমে জানানো দেয়া হবে।


চীনের ভয়ে সালমানের সিনেমার গল্প পরিবর্তনের তীব্র অভিযোগ

চীনের ভয়ে সালমানের সিনেমার গল্প পরিবর্তনের তীব্র অভিযোগ

বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’ ঘিরে বিতর্ক দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ২০২০ সালের ভারত-চীন সীমান্ত সংঘাতের ঘটনা নিয়ে তৈরি এই ছবিটির নাম পরিবর্তন থেকে শুরু করে মুক্তি পর্যন্ত সবকিছু নিয়েই চলছে জোর আলোচনা।এর মধ্যেই জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী সরকারের বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কায় এই ছবির মূল গল্প ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার জন্য নির্মাতাদের বাধ্য করা হয়েছে।ধ্রুবের অভিযোগ অনুযায়ী, ছবিতে চীনের সমালোচনা রয়েছে এমন দৃশ্য নিয়ে আগেই তীব্র আপত্তি উঠেছিল। যার ফলে পুরো সিনেমাটিই আবার নতুন করে চিত্রায়ণের নির্দেশ দেওয়া হয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় ধ্রুব বলেন, ‘সরকারের সাহস নেই ছবিটি যে ভাবে তৈরি হয়েছিল, সেই ভাবে মুক্তি দেওয়ার। পুরো ছবিটাই নতুন করে শুটিং করানো হয়েছে। নির্মাতাদের বলা হয়েছিল, চীনকে ইতিবাচক ভাবে দেখাতে হবে।’এখানেই তিনি থেমে থাকেননি; সরকারের নীতিকে আক্রমণ করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘ওরা চীন, আমেরিকা আর ইলন মাস্ককে ভয় পায়। ওরা কাপুরুষ।’ একই সঙ্গে তিনি জানান যে, তিনি নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কথা বলছেন না, বরং সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে সমালোচনা করে আসছেন।জার্মান প্রবাসী ধ্রুব রাঠীকে দিল্লিতে এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে গুরুগ্রামের বাসা থেকে আটক করা হয়েছিল বলে খবরে জানা যায়। তবে সব বিতর্ক ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে চলচ্চিত্রটির মুক্তিতে কিছুটা অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পেয়েছে সংশোধিত চলচ্চিত্রটি।শোনা যাচ্ছে, পরিবর্তিত সংস্করণে ভারত-চীন সম্পর্ককে কিছুটা নমনীয়ভাবে উপস্থাপন করায় ছাড়পত্র দিতে সম্মত হয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৩ নভেম্বর ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।উল্লেখ্য, শুরুর দিকে সিনেমাটির নামকরণ করা হয়েছিল ‘ব্যাটল অফ গলওয়ান’, যা নিয়ে চীনের সরকারি গণমাধ্যমও কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল। পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’। ছবির পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া অবশ্য জানান, দুটি নামই প্রথম থেকে নিবন্ধিত ছিল এবং সিনেমাটি শুধু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের গল্প নয়, বরং এর সঙ্গে সেনাসদস্যদের নীরব আত্মত্যাগ ও মানবিকতার কাহিনি জড়িত।


ঢালাও ভর্তুকি বন্ধের আহ্বান আন্তর্জাতিক সংস্থার

ঢালাও ভর্তুকি বন্ধের আহ্বান আন্তর্জাতিক সংস্থার

বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও ঋণের লাগামহীন চাপ সামাল দিতে কর ব্যবস্থার কার্যকর সংস্কার, অযৌক্তিক কর অব্যাহতি কমানো এবং সরকারি ব্যয়ে সর্বোচ্চ দক্ষতা বাড়ানোর জোর তাগিদ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সঙ্গে ঢালাও ভর্তুকির পরিবর্তে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সপ্তাহব্যাপী বৈঠকের তৃতীয় দিনে ‘ফিসক্যাল মনিটর’ বিষয়ক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়। এতে সরাসরি বক্তব্য রাখেন আইএমএফের ফিসক্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক রদ্রিগো ভালদেস, উপপরিচালক এরা দাবলা-নরিস এবং বিভাগের ডিভিশন চিফ ডেভিডে ফুরচেরি। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটিতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন থিলেন পাভিস দেবাহাসাদিন।সংস্থাটির বিশ্লেষণে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, করের আওতা বাড়ানো, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন ও সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলো সহজে রাজস্ব আয় বাড়াতে পারে। তবে কর সংস্কার ও ভর্তুকি পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর যাতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আইএমএফের মতে, ঢালাও ভর্তুকির বড় অংশ প্রায়ই দরিদ্রদের পরিবর্তে বেশি ভোগক্ষমতাসম্পন্ন প্রভাবশালী জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়। ফলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যে নির্বিচারে ভর্তুকি না দিয়ে কেবল প্রকৃত সুবিধাভোগীদের সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর রাজস্ব আদায় বাড়াতে করের আওতা সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রয়োজনীয় কর সুবিধা প্রত্যাহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে উদাহরণ হিসেবে মিশরের ভ্যাট সংস্কার, আর্জেন্টিনার ভর্তুকি পুনর্বিন্যাস এবং কলম্বিয়ার সরকারি ব্যয় কমানোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়। বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, কর প্রশাসনের উন্নয়নের মাধ্যমে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ সমপরিমাণ অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব।অন্যদিকে, মরক্কো ও নাইজেরিয়ার প্রসঙ্গ টেনে আইএমএফ সতর্ক করে যে, ঢালাও ভর্তুকি প্রত্যাহারের পর উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ঋণ পরিশোধের অতিরিক্ত ব্যয় অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।পাশাপাশি ক্যারিবীয় অঞ্চলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম তহবিল গঠন এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বয়স্ক জনসংখ্যার বৃদ্ধিতে পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবায় নজর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।ঋণ সংকটে থাকা দেশগুলোর জন্য দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, বিশেষ করে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে নীতিনির্ধারকদের টেকসই অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার তাগিদ দেওয়া হয়।


নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে নিয়ে ভারতের নীরবতা

নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে নিয়ে ভারতের নীরবতা

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকান প্রখ্যাত আইনজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক বিচারক নাভি পিল্লাই। তবে এই মর্যাদাপূর্ণ বিশ্বমঞ্চে অনন্য অর্জনের পর চার দিন পার হয়ে গেলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে এখনো তাঁকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানানো হয়নি।সাধারণত বিশ্বমঞ্চে ভারতের সঙ্গে সামান্যতম যোগসূত্র থাকা কোনো ব্যক্তি সাফল্য লাভ করলেই দেশটি উল্লাসে মেতে ওঠে ও ব্যাপক প্রচার চালায়। কিন্তু নাভি পিল্লাইয়ের মতো ব্যক্তিত্বকে ঘিরে ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের এই রহস্যময় নীরবতা দেশটিতে তীব্র বিতর্ক ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ৯ অক্টোবর শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।ভারতের সঙ্গে নাভি পিল্লাইয়ের গভীর ঐতিহাসিক ও পারিবারিক যোগসূত্র রয়েছে; তাঁর পূর্বপুরুষেরা ছিলেন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে শ্রম দিতে আফ্রিকায় পাড়ি জমানো ভারতীয়দের উত্তরসূরি। ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সভাপতি, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক এবং ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার তীব্র সমালোচনা করেন এবং নরওয়েজীয় নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তকেও নিশানা করেন।বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ২০১৪ সালের পর থেকে মোদী সরকারের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সম্পর্ক অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ হয়েছে। চলতি বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে মোদী ইসরায়েল সফর করেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে এবং ফিলিস্তিনিদের পক্ষে নাভি পিল্লাইয়ের দৃঢ় অবস্থানই কি ভারত সরকারের অভিনন্দন না জানানোর মূল কারণ; এমন প্রশ্ন তুলছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়সহ ভারতের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা তাঁকে অভিনন্দন জানালেও পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছে।ইতিপূর্বেও দেখা গেছে, মোদী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বা মতাদর্শের সমালোচনা করা ব্যক্তিরা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও সরকারিভাবে তাঁদের এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কারজয়ী বানু মুশতাক ও গীতাঞ্জলি শ্রী, প্রখ্যাত সাংবাদিক রবীশ কুমার কিংবা মানবাধিকারকর্মী বেজওয়াদা উইলসনের মতো ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ আচরণ লক্ষ করা গেছে।এতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মূল্যায়ন সরকারের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভরশীল কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।


দিল্লির নতুন পেস বোলিং কোচ চামিন্দা ভাস

দিল্লির নতুন পেস বোলিং কোচ চামিন্দা ভাস

আইপিএলের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি দিল্লি ক্যাপিটালস শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তী পেসার চামিন্দা ভাসকে তাদের নতুন পেস বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিশেষ ভিডিও পোস্ট করে এই লঙ্কান কিংবদন্তিকে যুক্ত করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষ।বিগত দুটি মৌসুমে দিল্লির বোলিং কোচের দায়িত্ব সামলানো ভারতের সাবেক পেসার মুনাফ প্যাটেলের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। সাবেক এই লঙ্কান তারকাকে বরণ করে নিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দিল্লি ক্যাপিটালস উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিখেছে, ‘বিশ্বকাপজয়ী এবং শ্রীলঙ্কার সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। টাইগার টেরিটরিতে স্বাগতম, কোচ।’শ্রীলঙ্কার ঐতিহাসিক ১৯৯৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের এই অপরিহার্য সদস্য ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল পেসার হিসেবে পরিগণিত। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে টেস্টে ১১১টি ম্যাচে ৩৫৫টি উইকেট এবং ওয়ানডেতে ৪০০টি উইকেটের দুর্দান্ত মাইলফলক রয়েছে তার ঝুলিতে। নতুন বলে চমৎকার সুইং করানো, নিখুঁত লাইন-লেংথ বজায় রাখা এবং বিশ্বের যেকোনো কন্ডিশনে কার্যকর বোলিং করার জন্য ক্রিকেটবিশ্বে আলাদা পরিচিতি রয়েছে তার।ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অধিনায়ক ও প্রধান কোচ সৌরভ গাঙ্গুলির নেতৃত্বাধীন অভিজ্ঞ কোচিং স্টাফে যোগ দিতে যাচ্ছেন ভাস। এর আগে দিল্লির কোচিং প্যানেলে আরেক ভারতীয় কিংবদন্তি ও সাবেক অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংকে ব্যাটিং ও সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল তারা।খেলোয়াড় হিসেবে আইপিএলে খেলার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাও রয়েছে এই বাঁহাতি পেসারের। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী বছর ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রথম তিন মৌসুমে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ডেকান চার্জার্সের হয়ে মাঠ মাতিয়েছিলেন তিনি। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিং পেশাতেও বেশ সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন ভাস।নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে কোচিং শুরু করার পর ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিন দফায় শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের বোলিং কোচের মূল দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন তিনি। এছাড়া ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ড জাতীয় দলেরও বোলিং কোচ ছিলেন এই লঙ্কান তারকা।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে দীর্ঘদিনের কোচিং অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ চামিন্দা ভাসকে দলে এনে দিল্লি ক্যাপিটালস এবার প্রথম শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে। ২০২০ আসরে ফাইনাল খেললেও ট্রফি ছোঁয়া হয়নি দিল্লির, আর সবশেষ দুই মৌসুমে টুর্নামেন্টের প্লে-অফে উঠতেই ব্যর্থ হয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এবার সাবেক ও বর্তমান তারকাদের সমন্বয়ে তৈরি শক্তিশালী কোচিং প্যানেল ও ভাসের অভিজ্ঞতায় প্রথমবার আইপিএল ট্রফি জয়ের লক্ষ্য অর্জনে আশাবাদী দলটি।


চিকিৎসায় এআই, প্রযুক্তির সঙ্গে বাড়বে দায়িত্বও

চিকিৎসায় এআই, প্রযুক্তির সঙ্গে বাড়বে দায়িত্বও

প্রযুক্তি এখন শুধু আমাদের দৈনন্দিন জীবন বদলাচ্ছে না, স্বাস্থ্যসেবার ধরনও পরিবর্তন করছে। রোগের তথ্য বিশ্লেষণ, চিকিৎসাসংক্রান্ত ছবি পর্যালোচনা, হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজ সহজ করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত খুঁজে পেতে সহায়তা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে আসছে—প্রযুক্তি যত উন্নত হবে, চিকিৎসার সিদ্ধান্তে মানুষের দায়িত্ব কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?আমার দৃষ্টিতে, ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে, কিন্তু এটি চিকিৎসকের পেশাগত বিচারবোধ ও দায়িত্বের বিকল্প নয়। একজন রোগীর চিকিৎসা শুধু পরীক্ষার ফল বা ডিজিটাল তথ্যের ওপর নির্ভর করে না। তার বয়স, আগের রোগের ইতিহাস, বর্তমান শারীরিক অবস্থা, ওষুধ ব্যবহারের বিবরণ এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করতে বা প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু সেই তথ্য রোগীর ক্ষেত্রে কতটা প্রাসঙ্গিক, তা মূল্যায়নের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞান ও পেশাগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।স্বাস্থ্যসেবায় দ্রুততা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু দ্রুত সিদ্ধান্তই সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যের ওপর নির্ভর করলে বিভ্রান্তিকর ফল দিতে পারে। আবার প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত তথ্যের সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু রোগী বা জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে প্রযুক্তির কার্যকারিতাও ভিন্ন হতে পারে। তাই চিকিৎসায় এমন প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে এর নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা, সীমাবদ্ধতা এবং বাস্তব পরিবেশে কার্যকারিতা যাচাই করা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, নিরাপত্তা এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি রোগীর সঙ্গে মানবিক যোগাযোগের গুরুত্ব কমে যায় না। একজন রোগী শুধু তার পরীক্ষার ফল জানতে চান না; তিনি জানতে চান তার সমস্যার অর্থ কী, কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী। প্রযুক্তি চিকিৎসককে তথ্য বিশ্লেষণে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু রোগীর উদ্বেগ শোনা, চিকিৎসার বিকল্প ব্যাখ্যা করা এবং সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব বুঝতে সাহায্য করাও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে জটিল চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগী ও পরিবারের সঙ্গে পরিষ্কার যোগাযোগ অপরিহার্য।হাসপাতালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হলে শুধু নতুন প্রযুক্তি চালু করাই যথেষ্ট নয়। চিকিৎসক ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ, রোগীর তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, প্রযুক্তির ফলাফল যাচাই এবং ভুল শনাক্ত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও থাকতে হবে। একই সঙ্গে দেখতে হবে, প্রযুক্তি বাস্তবে কী পরিবর্তন আনছে—এটি কি প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে সময় কমাচ্ছে, প্রশাসনিক কাজ সহজ করছে, চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করছে, নাকি নতুন জটিলতা তৈরি করছে? প্রযুক্তির মূল্য নির্ধারিত হওয়া উচিত তার বাস্তব উপযোগিতা দিয়ে, শুধু আধুনিকতার পরিচয় দিয়ে নয়।বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষতা, নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। প্রযুক্তি যেন মানুষের জন্য নতুন বৈষম্য তৈরি না করে, সে দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রশিক্ষিত কর্মী, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং কার্যকর নীতিমালা ছাড়া প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন। তাই হাসপাতালের নেতৃত্বের দায়িত্ব হবে প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি সেটিকে নিরাপদ ও কার্যকরভাবে ব্যবহারের পরিবেশ তৈরি করা।আমার বিশ্বাস, ভবিষ্যতের সফল হাসপাতাল হবে সেই প্রতিষ্ঠান, যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শুধু আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে নয়, মানুষের বাস্তব সমস্যা সমাধানের উপায় হিসেবে ব্যবহার করবে। প্রযুক্তি চিকিৎসার কাজকে আরও কার্যকর করতে পারে, তথ্য বিশ্লেষণে সহায়তা করতে পারে এবং কিছু প্রক্রিয়াকে সহজ করতে পারে। কিন্তু প্রতিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোগীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং মানবিক মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। স্বাস্থ্যসেবার মূল উদ্দেশ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো নয়; মানুষের জন্য নিরাপদ, কার্যকর ও দায়িত্বশীল চিকিৎসা নিশ্চিত করা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই লক্ষ্য অর্জনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, যদি এর ব্যবহার যথাযথ যাচাই, মানবিক বিবেচনা এবং জবাবদিহির সঙ্গে পরিচালিত হয়।কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্বাস্থ্যসেবাকে আরও উন্নত করার সুযোগ তৈরি করছে। কিন্তু সেই অগ্রগতির কেন্দ্রে থাকতে হবে মানুষকে—রোগীকে, চিকিৎসককে এবং তাদের পারস্পরিক আস্থাকে।লেখক: হেড অব ডিজিটাল (ব্র্যান্ড অ্যান্ড পিআর), এভারকেয়ার হাসপাতাল, চট্টগ্রাম।


আগামী বছর বিদ্যুৎ রাখার জায়গা থাকবে না: চিফ হুইপ

আগামী বছর বিদ্যুৎ রাখার জায়গা থাকবে না: চিফ হুইপ

আগামী বছর দেশে বিদ্যুৎ রাখার জায়গা থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বরগুনার বেতাগী উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।নুরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, ‘হাসিনার বিদ্যুৎ প্লান্ট আছে, কিন্তু ভেতরে মেশিন নাই। হাসিনা টাকা খাওয়ার জন্য এসব বিদ্যুৎ প্লান্ট করেছে। তাই এখন বিল কমানোর কোনো রাস্তা সরকারের কাছে নাই।’দেশে গত দুই বছরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কোনো ঘটনা ঘটেনি দাবি করে চিফ হুইপ বলেন, ‘বাংলাদেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই এ দেশের নাগরিক, সবার অধিকার সমান।’এ সময় তিনি বেতাগী উপজেলার অসহায় ও দুস্থ ৩৭টি পরিবারের মাঝে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা এবং দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার সব পূজা মণ্ডপে নগদ অর্থ ও জিআর চাল বিতরণ করেন।


খরচ, ভয় না সংকোচ - চিকিৎসা এড়িয়ে চলেন কেন?

খরচ, ভয় না সংকোচ - চিকিৎসা এড়িয়ে চলেন কেন?

অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি, কিন্তু বাস্তবে নানা কারণে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। কারও কাছে চিকিৎসার ব্যয় বড় বাধা, কেউ আবার রোগ ধরা পড়ার ভয় কিংবা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার সংকোচে পিছিয়ে থাকেন। কাজের ব্যস্ততা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং উপযুক্ত চিকিৎসক খুঁজে না পাওয়ার সমস্যাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।চিকিৎসা নিতে অনীহার পেছনে কী কী কারণ কাজ করে, তা জানা থাকলে নিজের কিংবা কাছের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার পথে বাধাগুলো চিহ্নিত করা সহজ হতে পারে।চিকিৎসার ব্যয়ই বড় দুশ্চিন্তাচিকিৎসা নিতে অনীহার অন্যতম কারণ খরচের ভয়। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক কিংবা চিকিৎসকের চেম্বারে সেবা নেওয়া অনেকের জন্য ব্যয়বহুল। সরকারি হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও সেখানে রোগীর ভিড় বেশি হতে পারে।এর পাশাপাশি রোগ শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচও রোগীর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। সব পরীক্ষা সরকারি হাসপাতালেই করানো সম্ভব হয় না। ফলে চিকিৎসা নিতে গেলে কত টাকা খরচ হবে, সেই দুশ্চিন্তায় অনেকে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া পিছিয়ে দেন।সুস্থ বোধ করলেও ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে শারীরিকভাবে সুস্থ বোধ করলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগ্রহ কম থাকতে পারে। কিন্তু বর্তমানে কোনো অসুস্থতা অনুভব না করলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি পুরোপুরি নেই, এমনটা ধরে নেওয়া যায় না।ধূমপানের মতো কিছু ঝুঁকি সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও বংশগত ও পরিবেশগত কারণে তৈরি হওয়া ঝুঁকি সব সময় বোঝা যায় না। নিজের শারীরিক অবস্থা ভালো মনে হওয়া কিংবা পরিবারে কোনো রোগের ইতিহাস না থাকলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। এ কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।রোগ ধরা পড়ার ভয় ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সংকোচচিকিৎসা নিতে অনীহার পেছনে মানসিক অস্বস্তিও কাজ করতে পারে। কেউ সুচ বা হাসপাতালকে ভয় পান, আবার কেউ গুরুতর কোনো রোগ শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কায় চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না।ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয় নিয়েও অনেকে খোলামেলা কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করেন। মলত্যাগের অভ্যাস, যৌনজীবন, শারীরিক পরীক্ষা কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনার সময় লজ্জা ও সংকোচ তৈরি হতে পারে। অতীতে কোনো আঘাতজনিত অভিজ্ঞতা থাকলেও চিকিৎসা নেওয়া কঠিন মনে হতে পারে।আবার কেউ কেউ আশঙ্কা করেন, চিকিৎসক হয়তো তাঁদের উপসর্গকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেবেন না। এসব ভয় ও অস্বস্তির কারণে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা নেওয়া পিছিয়ে যেতে পারে।যাতায়াত, সময় ও পারিবারিক দায়িত্বের চাপচিকিৎসা নিতে চাইলেও সবার পক্ষে সহজে হাসপাতালে বা চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়া সম্ভব হয় না। দারিদ্র্য, শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা এবং যাতায়াতের অসুবিধা স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।কখনো চিকিৎসকের কাছে যেতে অন্যের সাহায্য প্রয়োজন হয়। কিন্তু সাহায্য চাইতে সংকোচ বোধ করায় কেউ কেউ সেই উদ্যোগ নেন না। ব্যক্তিগত গাড়ি না থাকলে কিংবা যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা না পেলে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো আরও কঠিন হতে পারে।কাজ, পড়াশোনা ও পরিবারের দায়িত্বও চিকিৎসা নেওয়ার সময় কমিয়ে দেয়। চিকিৎসকের কাছে যেতে ছুটি নিলে কাজের সময় ও আয়ের ক্ষতি হতে পারে। ছোট সন্তান বা পরিবারের অন্য সদস্যদের দেখাশোনার দায়িত্ব থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা না পাওয়ায় অনেকে চিকিৎসা নিতে পারেন না।কোথায় গেলে চিকিৎসা পাওয়া যাবে, কোন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন কিংবা জটিল সমস্যার জন্য কোন বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে - এসব বিষয়ে অনিশ্চয়তাও চিকিৎসা নেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ শহরের তুলনায় সীমিত হতে পারে। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে দূরে যাতায়াত করতে হয়, যা সময় ও খরচ দুটোই বাড়ায়।এ ক্ষেত্রে টেলিহেলথ সেবা একটি বিকল্প হতে পারে। এর মাধ্যমে হাসপাতালে সরাসরি না গিয়েও চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবাদাতার পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।বাধা চেনা জরুরিচিকিৎসা নিতে অনীহার পেছনে শুধু ব্যক্তিগত অনিচ্ছা নয়, আর্থিক চাপ, ভয়, সংকোচ, সময়ের অভাব ও স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগের মতো একাধিক কারণ থাকতে পারে। এসব বাধা চিহ্নিত করতে পারলে নিজের বা প্রিয়জনের চিকিৎসা নেওয়ার পথে সমস্যাগুলো বুঝতে এবং সমাধানের উপায় খুঁজতে সুবিধা হয়।


চিংড়ির পরিচিত স্বাদে নতুনত্ব, পূজায় বানান কোলিওয়াড়া

চিংড়ির পরিচিত স্বাদে নতুনত্ব, পূজায় বানান কোলিওয়াড়া

দুর্গাপূজা মানেই সাজগোজ, আনন্দ, আড্ডা আর জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। উৎসবের এই আমেজে খাবারের তালিকায় একটু ভিন্ন স্বাদ যোগ করতে চাইলে বেছে নিতে পারেন মুচমুচে কোলিওয়াড়া চিংড়ি। পরিচিত চিংড়ির পদ থেকে আলাদা এই আয়োজনে থাকবে মসলার ঝাঁঝ আর বাইরের সোনালি, মুচমুচে আবরণের সঙ্গে ভেতরের রসালো স্বাদ।দুর্গাপূজার দুপুরে গরম ভাতের সঙ্গে কিংবা বিকেলে বন্ধু-পরিবারের আড্ডায় সস বা চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করতে পারেন এই পদ। ঘরেই সহজে তৈরি করতে জেনে নিন প্রয়োজনীয় উপকরণ ও প্রস্তুতপ্রণালি।তৈরিতে যা লাগবেমাঝারি আকারের চিংড়ি - আধা কেজিচালের গুঁড়া - ২ কাপমরিচ গুঁড়া - ১ চা চামচগরম মসলা গুঁড়া - ২ টেবিল চামচআদা বাটা - ১ টেবিল চামচরসুন বাটা - ১ টেবিল চামচধনেপাতা কুচি - ১ টেবিল চামচএকটি লেবুর রসলবণ - স্বাদমতোতেল - পরিমাণমতোযেভাবে তৈরি করবেন পূজার কোলিওয়াড়া চিংড়িমসলা মাখানোর প্রস্তুতিপ্রথমে চিংড়ির খোসা ছাড়িয়ে নিন। চাইলে লেজ রেখে দিতে পারেন। পিঠের কালো শিরা বের করে চিংড়িগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর পেপার টাওয়েল দিয়ে পানি মুছে শুকিয়ে রাখুন।একটি বড় পাত্রে মরিচ গুঁড়া, গরম মসলা, আদা বাটা, রসুন বাটা, ধনেপাতা কুচি ও লবণ নিন। এর সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে তৈরি করুন মসলার মিশ্রণ। এবার চিংড়িগুলো দিয়ে ভালোভাবে মাখিয়ে নিন, যাতে প্রতিটির গায়ে মসলা সমানভাবে লাগে। নিজের পছন্দ অনুযায়ী ঝালের পরিমাণ কমবেশি করতে পারেন।মুচমুচে আবরণ তৈরিমসলা মাখানো চিংড়িগুলো চালের গুঁড়ায় ভালোভাবে গড়িয়ে নিন। প্রতিটি চিংড়ির গায়ে যেন চালের গুঁড়ার আবরণ থাকে, তা নিশ্চিত করুন। এই আবরণই ভাজার পর চিংড়ির বাইরের অংশকে সোনালি ও মুচমুচে করতে সাহায্য করবে।গরম তেলে ভেজে নিনকড়াইয়ে পর্যাপ্ত তেল গরম করুন। তেল গরম হলে আঁচ মাঝারি করে অল্প অল্প করে চিংড়ি ছাড়ুন। প্রতিটি চিংড়ি প্রায় ৩ থেকে ৪ মিনিট ভাজুন। বাইরের অংশ সোনালি ও মুচমুচে হলে এবং চিংড়ি ভেতর পর্যন্ত সিদ্ধ হয়ে গেলে তুলে নিন।বেশি সময় ধরে ভাজবেন না। এতে চিংড়ি শক্ত হয়ে যেতে পারে। ভাজা চিংড়ি থেকে অতিরিক্ত তেল ঝরিয়ে নিন।পূজার আড্ডায় পরিবেশন করুন গরম গরমতৈরি হয়ে গেল মসলাদার কোলিওয়াড়া চিংড়ি। পছন্দের চাটনি বা সসের সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন। পূজার দুপুরের ভোজ কিংবা বিকেলের আড্ডায় এই পদ হতে পারে খাবারের তালিকায় স্বাদ বদলের আয়োজন।


সাইবার আইনে সাংবাদিকতার সুরক্ষায় ১২ দফা সুপারিশ

সাইবার আইনে সাংবাদিকতার সুরক্ষায় ১২ দফা সুপারিশ

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার জন্য ১২ দফা সুপারিশ করেছে সম্পাদক পরিষদ। সংগঠনটির মতে, আইনটির কাঠামোয় একদিকে সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের পেশাগত স্বাধীনতার সুস্পষ্ট সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।রোববার (১৮ অক্টোবর) পরিষদের সভাপতি নূরুল কবির ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। সুপারিশগুলো তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর কাছে পৌঁছানোর জন্য প্রধান তথ্য কর্মকর্তার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদ জানায়, কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করা, গ্রেপ্তার, তল্লাশি, জব্দ ও নজরদারির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি এবং দ্রুত বিচারিক তদারকি থাকতে হবে। সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের কারণে তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাহী ক্ষমতার বদলে স্বাধীন বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।সুপারিশ১. সাংবাদিকতা ও বৈধ মতপ্রকাশের জন্য স্পষ্ট সুরক্ষা: জনস্বার্থে প্রকাশিত সংবাদ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ ও মতামতকে শুধু সমালোচনামূলক হওয়ার কারণে সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। পেশাগত সাংবাদিকতার কারণে কোনো বিষয়কে অজামিনযোগ্য করা যাবে না।২. বিচারিক অনুমোদন: সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, তল্লাশি বা জব্দের আগে আদালতের অনুমোদন নিতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আদালতের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করতে হবে।৩. ভুল তথ্য ও গুজবের সংজ্ঞা: ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যকে অপরাধ গণ্য করা যাবে না। ভুল তথ্য, অপতথ্য ও গুজবকে আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। মানহানি ও সেক্সটর্শনের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা থাকতে হবে।৪. জনস্বার্থের সুরক্ষা: দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে জনস্বার্থের সুস্পষ্ট আইনি স্বীকৃতি থাকতে হবে।৫. সমালোচনার সীমারেখা: সরকার বা জনপ্রতিনিধিদের সমালোচনা, রাজনৈতিক মতামত ও ব্যঙ্গাত্মক প্রকাশ সাইবার অপরাধ হবে না। 'রাষ্ট্রকে হেয়প্রতিপন্ন করা'র মতো অস্পষ্ট শব্দবন্ধ বাদ দিতে হবে।৬. কনটেন্ট অপসারণে স্বচ্ছতা: কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের ক্ষেত্রে লিখিত কারণ দিতে হবে এবং এর বিরুদ্ধে আদালতে আপিলের সুযোগ থাকতে হবে।৭. মানহানি: অনলাইনে মানহানিকে নতুন কঠোর অপরাধ না বানিয়ে প্রেস কাউন্সিলের কাছে পাঠাতে হবে।৮. মোবাইল কোর্ট নয়: সাংবাদিকতা-সংক্রান্ত অভিযোগে মোবাইল কোর্ট বা নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করা যাবে না।৯. প্রতিষ্ঠানকে শাস্তি নয়: কোনো একটি প্রতিবেদনের কারণে পুরো সংবাদমাধ্যমের নিবন্ধন বাতিল বা কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না।১০. তথ্যসূত্রের গোপনীয়তা: সাংবাদিককে তার তথ্যসূত্রের পরিচয় প্রকাশে বাধ্য করা যাবে না।১১. প্রেস কাউন্সিলের ভূমিকা: সাংবাদিকতা-সংক্রান্ত অভিযোগে সরাসরি ফৌজদারি মামলার বদলে প্রথমে প্রেস কাউন্সিলের প্রক্রিয়াকে কার্যকর করতে হবে এবং এর আওতায় ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমকেও আনতে হবে।১২. স্বাধীন তদারকি: জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলে গণমাধ্যম ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের রাখতে হবে এবং তাদের কার্যক্রমের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।সম্পাদক পরিষদ মনে করে, সাইবার নিরাপত্তা ও সাংবাদিকতা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। আইনে এই সীমারেখা স্পষ্ট না থাকলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই স্বচ্ছতা ও বিচারিক তদারকির মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সাইবার আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।