সংবাদ

ক্ষমতায় বসেই বিধানসভায় গুন্ডাদমন আইন পাস


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪০ এএম

ক্ষমতায় বসেই বিধানসভায় গুন্ডাদমন আইন পাস

রাজ্যে কার্যকর হতেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ‘গুন্ডাদমন আইন’। আর সেই বিতর্ক এবার পৌঁছে গেল আদালতের দরজায়।

বহু বিতর্কিত ‘গুন্ডাদমন বিল’ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে দ্রুত পাশ করানো হয়, কার্যত কোনও বিস্তৃত পর্যালোচনা ছাড়াই। এর পরেই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়ে ১৩ জুলাই (সোমবার) থেকেই সারা রাজ্যে এই আইন কার্যকর করার ঘোষণা করা হয়, যা ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক। এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্ট-এ দায়ের করা হয় একটি জনস্বার্থ মামলা।

সোমবার থেকে চালু হয়েছে বহুচর্চিত ‘পশ্চিমবঙ্গ  পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাক্ট, ২০২৬’।   কিন্তু এই  আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা।

কলকাতা হাইকোর্ট-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী-র ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানিয়েছেন আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। আদালত সূত্রে খবর, আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই শুনানির দিন নির্ধারণ হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২৯ জুন রাজ্য বিধানসভায় দীর্ঘ আলোচনার পর ধ্বনিভোটে পাশ হয় এই বিল। পরে রাজ্যপালের সম্মতিও মেলে। এর পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন,  ১৩ জুলাই থেকে আইন কার্যকর হয়ে গেল।

নতুন আইনে পুলিশের হাতে দেওয়া হয়েছে বিস্তৃত ক্ষমতা। অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে এক বছর পর্যন্ত আটক রাখার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, দুষ্কৃতীমূলক কাজ বা সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগেও এই আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এমনকি ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে ‘দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ’ ধার্য করার ক্ষমতাও রাখা হয়েছে, যা প্রকৃত ক্ষতির দ্বিগুণ পর্যন্ত হতে পারে।

রাজ্য সরকারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা অপরাধচক্র, তোলাবাজি এবং সংঘবদ্ধ দুষ্কৃতী দমনে এই আইন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রাজ্যকে ‘গুন্ডামুক্ত’ করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে বিরোধীরা একেবারেই ভিন্ন সুরে। তাদের অভিযোগ, এই আইনের একাধিক ধারা নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও সাংবিধানিক সুরক্ষার পরিপন্থী। মামলাকারীর বক্তব্য, শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার বা দীর্ঘ সময় আটক রাখা ব্যক্তি স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং এই আইন ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আইনের উপর অবিলম্বে স্থগিতাদেশের আর্জি জানানো হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করায় এখন নজর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার হাতিয়ার, না কি নাগরিক স্বাধীনতার উপর চাপ—গুন্ডাদমন আইন নিয়ে এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে আদালতের রায়ের উপর।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


ক্ষমতায় বসেই বিধানসভায় গুন্ডাদমন আইন পাস

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাজ্যে কার্যকর হতেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ‘গুন্ডাদমন আইন’। আর সেই বিতর্ক এবার পৌঁছে গেল আদালতের দরজায়।

বহু বিতর্কিত ‘গুন্ডাদমন বিল’ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে দ্রুত পাশ করানো হয়, কার্যত কোনও বিস্তৃত পর্যালোচনা ছাড়াই। এর পরেই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়ে ১৩ জুলাই (সোমবার) থেকেই সারা রাজ্যে এই আইন কার্যকর করার ঘোষণা করা হয়, যা ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক। এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্ট-এ দায়ের করা হয় একটি জনস্বার্থ মামলা।

সোমবার থেকে চালু হয়েছে বহুচর্চিত ‘পশ্চিমবঙ্গ  পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাক্ট, ২০২৬’।   কিন্তু এই  আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা।

কলকাতা হাইকোর্ট-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী-র ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানিয়েছেন আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। আদালত সূত্রে খবর, আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই শুনানির দিন নির্ধারণ হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২৯ জুন রাজ্য বিধানসভায় দীর্ঘ আলোচনার পর ধ্বনিভোটে পাশ হয় এই বিল। পরে রাজ্যপালের সম্মতিও মেলে। এর পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন,  ১৩ জুলাই থেকে আইন কার্যকর হয়ে গেল।

নতুন আইনে পুলিশের হাতে দেওয়া হয়েছে বিস্তৃত ক্ষমতা। অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে এক বছর পর্যন্ত আটক রাখার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, দুষ্কৃতীমূলক কাজ বা সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগেও এই আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এমনকি ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে ‘দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ’ ধার্য করার ক্ষমতাও রাখা হয়েছে, যা প্রকৃত ক্ষতির দ্বিগুণ পর্যন্ত হতে পারে।

রাজ্য সরকারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা অপরাধচক্র, তোলাবাজি এবং সংঘবদ্ধ দুষ্কৃতী দমনে এই আইন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রাজ্যকে ‘গুন্ডামুক্ত’ করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে বিরোধীরা একেবারেই ভিন্ন সুরে। তাদের অভিযোগ, এই আইনের একাধিক ধারা নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও সাংবিধানিক সুরক্ষার পরিপন্থী। মামলাকারীর বক্তব্য, শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার বা দীর্ঘ সময় আটক রাখা ব্যক্তি স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং এই আইন ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আইনের উপর অবিলম্বে স্থগিতাদেশের আর্জি জানানো হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করায় এখন নজর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার হাতিয়ার, না কি নাগরিক স্বাধীনতার উপর চাপ—গুন্ডাদমন আইন নিয়ে এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে আদালতের রায়ের উপর।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত