প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন করে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার শিক্ষককে দ্রুতই শ্রেণিকক্ষে পাঠানো হবে। বর্তমানে তাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন (ক্লিয়ারেন্স) প্রক্রিয়া চলছে। এটি শেষ হওয়ার পর দুই মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের চূড়ান্তভাবে পদায়ন করা হবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রসারে আমরা নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ইতিমধ্যে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এরপর দুই মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ শেষে তারা সরাসরি পাঠদানে যুক্ত হবেন।’
শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষকদের অনলাইন বদলি কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে স্থানীয় কমিটির ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় খুব দ্রুতই একটি স্থায়ী ও সুশৃঙ্খল বদলি নীতিমালা কার্যকর করতে যাচ্ছে।
স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবারে পাঁচটি আইটেম দেওয়া হয়। এই কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। যদি কেউ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তথ্যের সঠিক যাচাই-বাছাই না করে সংবাদ প্রকাশ করলে অনেকের ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী স্পিডবোটে করে উপজেলার দুর্গম হাওরাঞ্চলের সুলেমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঠাবুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। তিনি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাও ঘুরে দেখেন তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক ও তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
আপনার মতামত লিখুন