সংবাদ

জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায়


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায়

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হলে দেশে জনগণের অধিকার এবং একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র পথ হলো জনগণের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এই সভার আয়োজন করে। সভার শুরুতে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই আমাদের হৃদয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই আন্দোলনে যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়েছেন এবং যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের মহান আত্মত্যাগের কারণেই দেশে পরিবর্তনের এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমাদের এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে হবে, যেখানে জনগণের অধিকারই হবে শেষ কথা।’

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই আকাক্সক্ষাকে আরও বেগবান ও শক্তিশালী করেছে।

তিনি বলেন, ‘এখন বিভাজন বা সংঘাতের সময় নয়। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে এবং জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো আলোচনার ভিত্তিতেই সম্পন্ন করা হবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম হলো গণতন্ত্রের শক্তিশালী ভিত্তি। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও পেশাগত সমস্যাগুলো সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

আন্দোলনে শহীদ ও আহত সাংবাদিকদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

তিনি দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের বিকাশে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাইয়ের শহীদসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বীরদের অবদান জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। একটি কার্যকর সংসদের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই তাদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।

বিএফইউজে ও ডিইউজে-র শীর্ষ নেতাসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিনিধিরা আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায়

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হলে দেশে জনগণের অধিকার এবং একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র পথ হলো জনগণের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এই সভার আয়োজন করে। সভার শুরুতে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই আমাদের হৃদয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই আন্দোলনে যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়েছেন এবং যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের মহান আত্মত্যাগের কারণেই দেশে পরিবর্তনের এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমাদের এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে হবে, যেখানে জনগণের অধিকারই হবে শেষ কথা।’

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই আকাক্সক্ষাকে আরও বেগবান ও শক্তিশালী করেছে।

তিনি বলেন, ‘এখন বিভাজন বা সংঘাতের সময় নয়। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে এবং জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো আলোচনার ভিত্তিতেই সম্পন্ন করা হবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম হলো গণতন্ত্রের শক্তিশালী ভিত্তি। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও পেশাগত সমস্যাগুলো সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

আন্দোলনে শহীদ ও আহত সাংবাদিকদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

তিনি দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের বিকাশে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাইয়ের শহীদসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বীরদের অবদান জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। একটি কার্যকর সংসদের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই তাদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।

বিএফইউজে ও ডিইউজে-র শীর্ষ নেতাসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিনিধিরা আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত