সংবাদ

অসুস্থ প্রবাসীকে রাস্তায় ফেলে গেল পরিবার


জুলহাস গায়েন, সখিপুর (টাঙ্গাইল)
জুলহাস গায়েন, সখিপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ: ৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম

অসুস্থ প্রবাসীকে রাস্তায় ফেলে গেল পরিবার
সৌদি আরব থেকে কিডনি বিকল হয়ে দেশে ফেরার পর জামাল উদ্দিনকে রাস্তায় ফেলে রাখে স্ত্রী ও সন্তানরা। ছবি : সংবাদ

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে জীবনের মূল্যবান ১২টি বছর সৌদি আরবে কাটিয়েছেন জামাল উদ্দিন (৫৫)। হাড়ভাঙা খাটুনির সব টাকা নিয়মিত পাঠিয়েছেন স্ত্রী-সন্তানদের কাছে। অথচ কিডনি বিকল হয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরার পর সেই মানুষটির ঠাঁই হলো গ্রামের এক নির্জন রাস্তায়। টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামে গত শনিবার রাতে এ অমানবিক ঘটনা ঘটে।

জামাল উদ্দিন ওই গ্রামের মৃত মন্নাছ মিয়ার ছেলে। স্বজনদের অভিযোগ, অসুস্থ হওয়ার পর স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বোঝা মনে করে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে গেছে। বর্তমানে এক ভাতিজির আশ্রয়ে তার দিন কাটছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক যুগ আগে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রী রিনা আক্তারকে নিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন জামাল। এরপর পাড়ি জমান সৌদি আরবে। সেখানে উপার্জিত সব অর্থ তিনি স্ত্রীর কাছে পাঠাতেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তিন মাস আগে কিডনি জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে তিনি দেশে ফেরেন। বর্তমানে তিনি অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না।

জামাল উদ্দিনের স্বজনরা জানান, অসুস্থ হওয়ার পর তার চিকিৎসা ও দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে অনীহা দেখান স্ত্রী ও সন্তানরা। গত শনিবার গভীর রাতে তাকে কৌশলে কালমেঘা গ্রামে তার বোনজামাইয়ের বাড়ির কাছের একটি রাস্তায় ফেলে যাওয়া হয়। সারারাত তিনি সেখানেই পড়ে ছিলেন। রোববার সকালে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। পরে তার ভাতিজি ইসমত আরা তাকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন।

কালমেঘা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন খান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পরে জামালের শাশুড়ি তাকে নিতে এলেও তার ভাইয়েরা আর পাঠাতে রাজি হননি। তাদের আশঙ্কা, অসুস্থ জামালকে আবারও কোথাও ফেলে দেওয়া হতে পারে।’

জামাল উদ্দিনের বড় ভাই ইদ্রিস মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যে মানুষটি সারাজীবন পরিবারের জন্য সব বিলিয়ে দিল, আজ তার এই পরিণতি মেনে নেওয়া যায় না। আমরাই এখন ভাইয়ের দেখাশোনা করছি।’

এ বিষয়ে জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রিনা আক্তার ও সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


অসুস্থ প্রবাসীকে রাস্তায় ফেলে গেল পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে জীবনের মূল্যবান ১২টি বছর সৌদি আরবে কাটিয়েছেন জামাল উদ্দিন (৫৫)। হাড়ভাঙা খাটুনির সব টাকা নিয়মিত পাঠিয়েছেন স্ত্রী-সন্তানদের কাছে। অথচ কিডনি বিকল হয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরার পর সেই মানুষটির ঠাঁই হলো গ্রামের এক নির্জন রাস্তায়। টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামে গত শনিবার রাতে এ অমানবিক ঘটনা ঘটে।

জামাল উদ্দিন ওই গ্রামের মৃত মন্নাছ মিয়ার ছেলে। স্বজনদের অভিযোগ, অসুস্থ হওয়ার পর স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বোঝা মনে করে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে গেছে। বর্তমানে এক ভাতিজির আশ্রয়ে তার দিন কাটছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক যুগ আগে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রী রিনা আক্তারকে নিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন জামাল। এরপর পাড়ি জমান সৌদি আরবে। সেখানে উপার্জিত সব অর্থ তিনি স্ত্রীর কাছে পাঠাতেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তিন মাস আগে কিডনি জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে তিনি দেশে ফেরেন। বর্তমানে তিনি অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না।

জামাল উদ্দিনের স্বজনরা জানান, অসুস্থ হওয়ার পর তার চিকিৎসা ও দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে অনীহা দেখান স্ত্রী ও সন্তানরা। গত শনিবার গভীর রাতে তাকে কৌশলে কালমেঘা গ্রামে তার বোনজামাইয়ের বাড়ির কাছের একটি রাস্তায় ফেলে যাওয়া হয়। সারারাত তিনি সেখানেই পড়ে ছিলেন। রোববার সকালে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। পরে তার ভাতিজি ইসমত আরা তাকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন।

কালমেঘা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন খান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পরে জামালের শাশুড়ি তাকে নিতে এলেও তার ভাইয়েরা আর পাঠাতে রাজি হননি। তাদের আশঙ্কা, অসুস্থ জামালকে আবারও কোথাও ফেলে দেওয়া হতে পারে।’

জামাল উদ্দিনের বড় ভাই ইদ্রিস মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যে মানুষটি সারাজীবন পরিবারের জন্য সব বিলিয়ে দিল, আজ তার এই পরিণতি মেনে নেওয়া যায় না। আমরাই এখন ভাইয়ের দেখাশোনা করছি।’

এ বিষয়ে জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রিনা আক্তার ও সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত