পড়াশোনার জন্য ছিল না ভালো কোনো কোচিং সেন্টার, ছিল না নামী কোনো লাইব্রেরির সুযোগ। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে ছিল কেবল অভাব আর অনিশ্চয়তা। কিন্তু সেই অভাবকেই জয়ের হাতিয়ার বানিয়েছেন আকাশ চক্রবর্তী। শত সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।
আকাশ চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চান্দপুর গ্রামের রিকশাচালক নিতাই চক্রবর্তীর ছেলে। স্থানীয় আলীপুর রহমানিয়া স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তার এই সাফল্যে খুশির জোয়ার বইছে পুরো এলাকায়।
আকাশের বাবা নিতাই চক্রবর্তী প্রতিদিন ভোর থেকে রাত অবধি রিকশা চালিয়ে ছেলের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। সংসারের টানাপোড়েন থাকলেও ছেলের বড় হওয়ার স্বপ্নে কখনো বাধা হতে দেননি তিনি। নিজের ঘামঝরানো উপার্জনে ছেলের স্বপ্নকে লালন করেছেন এই বাবা।
নিজের লড়াইয়ের গল্প শুনিয়ে আকাশ বলে, 'বাবা সারাদিন রিকশা চালিয়ে আমার জন্য টাকা জোগাড় করতেন। তার কষ্ট দেখে আমি ঠিক করেছিলাম আমাকে ভালো কিছু করতেই হবে। গ্রামে ভালো কোচিংয়ের সুযোগ নেই, তাই রাত জেগে নিজে নিজেই বই আর পুরনো নোট সংগ্রহ করে পড়তাম।'
আকাশের স্বপ্ন আরও আকাশছোঁয়া। ভবিষ্যতে বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশের গরিব ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় সে।
ছেলের সাফল্যে আনন্দাশ্রু ধরে রাখতে পারেননি বাবা নিতাই চক্রবর্তী। তিনি বলেন, 'আমি রিকশা চালাই তাতে দুঃখ নেই। আমার স্বপ্ন ছিল ছেলে বড় মানুষ হবে। অভাবের কাছে আমরা হার মানিনি। সে যেন ভবিষ্যতে বড় অফিসার হয়ে মানুষের সেবা করতে পারে, এটাই আমার একমাত্র চাওয়া।'
আলিপুর রহমানিয়া স্কুলের শিক্ষকরা বলছেন, সুযোগ-সুবিধা কম থাকলেও আকাশ প্রমাণ করেছে যে প্রবল ইচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো বাধা জয় করা সম্ভব। আকাশের এই জয় এখন ওই অঞ্চলের অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য বড় এক অনুপ্রেরণা।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
পড়াশোনার জন্য ছিল না ভালো কোনো কোচিং সেন্টার, ছিল না নামী কোনো লাইব্রেরির সুযোগ। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে ছিল কেবল অভাব আর অনিশ্চয়তা। কিন্তু সেই অভাবকেই জয়ের হাতিয়ার বানিয়েছেন আকাশ চক্রবর্তী। শত সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।
আকাশ চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চান্দপুর গ্রামের রিকশাচালক নিতাই চক্রবর্তীর ছেলে। স্থানীয় আলীপুর রহমানিয়া স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তার এই সাফল্যে খুশির জোয়ার বইছে পুরো এলাকায়।
আকাশের বাবা নিতাই চক্রবর্তী প্রতিদিন ভোর থেকে রাত অবধি রিকশা চালিয়ে ছেলের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। সংসারের টানাপোড়েন থাকলেও ছেলের বড় হওয়ার স্বপ্নে কখনো বাধা হতে দেননি তিনি। নিজের ঘামঝরানো উপার্জনে ছেলের স্বপ্নকে লালন করেছেন এই বাবা।
নিজের লড়াইয়ের গল্প শুনিয়ে আকাশ বলে, 'বাবা সারাদিন রিকশা চালিয়ে আমার জন্য টাকা জোগাড় করতেন। তার কষ্ট দেখে আমি ঠিক করেছিলাম আমাকে ভালো কিছু করতেই হবে। গ্রামে ভালো কোচিংয়ের সুযোগ নেই, তাই রাত জেগে নিজে নিজেই বই আর পুরনো নোট সংগ্রহ করে পড়তাম।'
আকাশের স্বপ্ন আরও আকাশছোঁয়া। ভবিষ্যতে বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশের গরিব ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় সে।
ছেলের সাফল্যে আনন্দাশ্রু ধরে রাখতে পারেননি বাবা নিতাই চক্রবর্তী। তিনি বলেন, 'আমি রিকশা চালাই তাতে দুঃখ নেই। আমার স্বপ্ন ছিল ছেলে বড় মানুষ হবে। অভাবের কাছে আমরা হার মানিনি। সে যেন ভবিষ্যতে বড় অফিসার হয়ে মানুষের সেবা করতে পারে, এটাই আমার একমাত্র চাওয়া।'
আলিপুর রহমানিয়া স্কুলের শিক্ষকরা বলছেন, সুযোগ-সুবিধা কম থাকলেও আকাশ প্রমাণ করেছে যে প্রবল ইচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো বাধা জয় করা সম্ভব। আকাশের এই জয় এখন ওই অঞ্চলের অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য বড় এক অনুপ্রেরণা।

আপনার মতামত লিখুন