গত প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নাটকীয় ও স্মরণীয় এক সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হয়েছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের কোটি কোটি মানুষ। বুধবার (১২ আগস্ট) এক প্রজন্মের সেরা এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করেন তারা। মহাকাশপ্রেমীদের মতে, এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল যে মহাবিশ্ব কতটা বিস্ময়কর।
যুক্তরাজ্যের বাসিন্দারা মূলত একটি আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখেছেন। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার কিছু পর যখন গ্রহণ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন দেশটির বেশিরভাগ এলাকায় সূর্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি অংশ চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়। তবে আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড ও স্পেনের কিছু অংশের মানুষ সম্পূর্ণ ভিন্ন ও জাদুকরী অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন। সেখানে দেখা গেছে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, যার ফলে দিনের বেলাতেই চারপাশ ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢেকে যায়।
এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথটি রাশিয়ার সাইবেরিয়ার উত্তর প্রান্ত থেকে শুরু হয়েছিল। এরপর তা উত্তর মহাসাগর ও আইসল্যান্ড হয়ে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়। স্পেনের আ করুনা শহরে এই বিরল দৃশ্য দেখতে হাজার হাজার মাইল দূর থেকে ছুটে এসেছিলেন বিজ্ঞানীরা। চিলির বিজ্ঞানী ইয়াসমিন কাত্রিচিও তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘পূর্ণগ্রহণের সেই মুহূর্তে সবাই উল্লাস করছিলেন। সেই উত্তেজনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
পূর্ণগ্রহণের সময় চাঁদের অন্ধকার গোলকের পেছন থেকে উঁকি দেওয়া সূর্যের তপ্ত গ্যাস বা ‘করোনা’ এবং গোলাপি রঙের ‘সৌরশিখা’ দর্শকদের মুগ্ধ করে। তবে এই দৃশ্য উপভোগ করতে গিয়ে অনেককে বেগ পেতে হয়েছে। বিশেষ চশমার তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় অনেকেই রান্নাঘরের ঝাঁঝরি, শস্যদানার (সেরিয়াল) বাক্স বা পিনহোল ক্যামেরা ব্যবহার করে নিরাপদে গ্রহণ দেখার চেষ্টা করেন।
পৃথিবী থেকে সূর্য ও চাঁদকে একই আকারের মনে হওয়া মূলত এক মহাজাগতিক কাকতাল মাত্র। সূর্য পৃথিবী থেকে চাঁদের তুলনায় ৪০০ গুণ দূরে থাকলেও সূর্যের ব্যাসও চাঁদের চেয়ে ঠিক ৪০০ গুণ বড়। এই নিখুঁত সমীকরণের কারণেই মানুষ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পায়।
বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল হতে যাচ্ছে সূর্যগ্রহণের ‘স্বর্ণযুগ’। তবে যুক্তরাজ্যে পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য ২০৯০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
গত প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নাটকীয় ও স্মরণীয় এক সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হয়েছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের কোটি কোটি মানুষ। বুধবার (১২ আগস্ট) এক প্রজন্মের সেরা এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করেন তারা। মহাকাশপ্রেমীদের মতে, এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল যে মহাবিশ্ব কতটা বিস্ময়কর।
যুক্তরাজ্যের বাসিন্দারা মূলত একটি আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখেছেন। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার কিছু পর যখন গ্রহণ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন দেশটির বেশিরভাগ এলাকায় সূর্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি অংশ চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়। তবে আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড ও স্পেনের কিছু অংশের মানুষ সম্পূর্ণ ভিন্ন ও জাদুকরী অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন। সেখানে দেখা গেছে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, যার ফলে দিনের বেলাতেই চারপাশ ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢেকে যায়।
এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথটি রাশিয়ার সাইবেরিয়ার উত্তর প্রান্ত থেকে শুরু হয়েছিল। এরপর তা উত্তর মহাসাগর ও আইসল্যান্ড হয়ে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়। স্পেনের আ করুনা শহরে এই বিরল দৃশ্য দেখতে হাজার হাজার মাইল দূর থেকে ছুটে এসেছিলেন বিজ্ঞানীরা। চিলির বিজ্ঞানী ইয়াসমিন কাত্রিচিও তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘পূর্ণগ্রহণের সেই মুহূর্তে সবাই উল্লাস করছিলেন। সেই উত্তেজনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
পূর্ণগ্রহণের সময় চাঁদের অন্ধকার গোলকের পেছন থেকে উঁকি দেওয়া সূর্যের তপ্ত গ্যাস বা ‘করোনা’ এবং গোলাপি রঙের ‘সৌরশিখা’ দর্শকদের মুগ্ধ করে। তবে এই দৃশ্য উপভোগ করতে গিয়ে অনেককে বেগ পেতে হয়েছে। বিশেষ চশমার তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় অনেকেই রান্নাঘরের ঝাঁঝরি, শস্যদানার (সেরিয়াল) বাক্স বা পিনহোল ক্যামেরা ব্যবহার করে নিরাপদে গ্রহণ দেখার চেষ্টা করেন।
পৃথিবী থেকে সূর্য ও চাঁদকে একই আকারের মনে হওয়া মূলত এক মহাজাগতিক কাকতাল মাত্র। সূর্য পৃথিবী থেকে চাঁদের তুলনায় ৪০০ গুণ দূরে থাকলেও সূর্যের ব্যাসও চাঁদের চেয়ে ঠিক ৪০০ গুণ বড়। এই নিখুঁত সমীকরণের কারণেই মানুষ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পায়।
বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল হতে যাচ্ছে সূর্যগ্রহণের ‘স্বর্ণযুগ’। তবে যুক্তরাজ্যে পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য ২০৯০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন