দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে জনবল ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ৭৯টি পদ এখন শূন্য। এর ফলে পণ্য খালাস ও প্রশাসনিক তদারকিসহ বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিস্ময়কর তথ্য হলো, বেনাপোলে যখন কর্মকর্তাদের চেয়ার খালি পড়ে আছে, তখন ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে অনুমোদিত পদের চেয়ে বেশি কর্মকর্তা কাজ করছেন।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক পদটি গত ৩ আগস্ট থেকে শূন্য। প্রশাসনিক প্রধান না থাকায় বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বা তদারকিতে সমন্বয়হীনতা দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া উপপরিচালকের চারটি পদের তিনটিই খালি। অথচ ঢাকার প্রধান দপ্তরে চারজন উপপরিচালকের বিপরীতে কর্মরত আছেন সাতজন। বেনাপোলের জন্য নির্ধারিত কর্মকর্তারা ঢাকায় অবস্থান করায় এখানে একজন উপপরিচালককে চারজনের কাজ সামলাতে হচ্ছে।
বর্তমানে বেনাপোল বন্দরে বিভিন্ন স্তরে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২১৬। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৪১ জন। অর্থাৎ প্রায় ৩৫ শতাংশ পদই খালি। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পণ্য ওঠানামা এবং গুদাম ও ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনায়।
বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, ‘জনবল না থাকায় আমদানিকৃত পণ্য সময়মতো লোড-আনলোড করা যাচ্ছে না। এক দিনের কাজ করতে দুই-তিন দিন লেগে যাচ্ছে। এতে আমদানিকারকদের খরচ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারে।’
একই সুরে কথা বললেন বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় বাড়তি কর্মকর্তা বসিয়ে না রেখে তাদের দ্রুত বেনাপোলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে বদলি করা উচিত। এতে নিয়োগের আগেই বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব।’
পণ্য খালাসে ধীরগতির কারণে আমদানি বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় তদারকি দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা প্রশাসনিক অনিয়মের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মানজারুল মান্নান বলেন, ‘বেনাপোল বন্দরে জনবলসংকট রয়েছে, এটি সত্য। এই সংকট নিরসনে দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।’

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে জনবল ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ৭৯টি পদ এখন শূন্য। এর ফলে পণ্য খালাস ও প্রশাসনিক তদারকিসহ বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিস্ময়কর তথ্য হলো, বেনাপোলে যখন কর্মকর্তাদের চেয়ার খালি পড়ে আছে, তখন ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে অনুমোদিত পদের চেয়ে বেশি কর্মকর্তা কাজ করছেন।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক পদটি গত ৩ আগস্ট থেকে শূন্য। প্রশাসনিক প্রধান না থাকায় বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বা তদারকিতে সমন্বয়হীনতা দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া উপপরিচালকের চারটি পদের তিনটিই খালি। অথচ ঢাকার প্রধান দপ্তরে চারজন উপপরিচালকের বিপরীতে কর্মরত আছেন সাতজন। বেনাপোলের জন্য নির্ধারিত কর্মকর্তারা ঢাকায় অবস্থান করায় এখানে একজন উপপরিচালককে চারজনের কাজ সামলাতে হচ্ছে।
বর্তমানে বেনাপোল বন্দরে বিভিন্ন স্তরে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২১৬। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৪১ জন। অর্থাৎ প্রায় ৩৫ শতাংশ পদই খালি। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পণ্য ওঠানামা এবং গুদাম ও ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনায়।
বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, ‘জনবল না থাকায় আমদানিকৃত পণ্য সময়মতো লোড-আনলোড করা যাচ্ছে না। এক দিনের কাজ করতে দুই-তিন দিন লেগে যাচ্ছে। এতে আমদানিকারকদের খরচ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারে।’
একই সুরে কথা বললেন বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় বাড়তি কর্মকর্তা বসিয়ে না রেখে তাদের দ্রুত বেনাপোলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে বদলি করা উচিত। এতে নিয়োগের আগেই বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব।’
পণ্য খালাসে ধীরগতির কারণে আমদানি বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় তদারকি দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা প্রশাসনিক অনিয়মের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মানজারুল মান্নান বলেন, ‘বেনাপোল বন্দরে জনবলসংকট রয়েছে, এটি সত্য। এই সংকট নিরসনে দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।’

আপনার মতামত লিখুন