মাটি ও মানুষের সুর, বাংলার লোকঐতিহ্য এবং আবহমান রূপকে সাহিত্যে ফুটিয়ে তোলা কালজয়ী কবি আবদুল হাই মাশরেকীর ১১৭তম জন্মোৎসবের তিন দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, গান, কবিতা আবৃত্তি, জারীগান ও অপূর্ব কোরিওগ্রাফির মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় লোকসংগীত ও লোকসাহিত্যের এই দিকপালকে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই গেন্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলা শিল্পীগোষ্ঠীর একঝাঁক শিশু-কিশোর ও শিল্পীদের কণ্ঠে পরিবেশিত হয় কবির অমর সৃষ্টি ‘আজান হাঁকো’, ‘দুখু মিয়ার জারী’, ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’ এবং ‘সোনার নাও বান্ধাইলে নাও’ গানগুলো। এরপর বিভিন্ন ধারার পরিবেশনা, গুণীজন সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়।
'এবার জাগাও মোরে' কবিতার মূল বাণীকে স্মারক ধরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের হাতে তুলে দেওয়া হয় 'মাশরেকী পুরস্কার ২০২৬' এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদান রাখায় গুণীজনদের দেওয়া হয় 'মাশরেকী পদক ২০২৫', সম্মাননা ক্রেস্ট, মেডেল ও সনদপত্র।
কবির জীবনের নানা স্মৃতিকথা ও রচনার ইতিহাস স্মরণ করে কবিপুত্র এবং কবি আবদুল হাই মাশরেকী গবেষণা কেন্দ্রের আহ্বায়ক নঈম মাশরেকী বলেন, "আবদুল হাই মাশরেকীর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেক তথ্য ও স্মৃতি রয়েছে। তার লেখা বহু কবিতা ও গান আজও মানুষের মাঝে বেঁচে আছে।"
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবির সাহিত্যের আবেদন তুলে ধরে বলেন, "কবির অসংখ্য জনপ্রিয় লেখা আজও শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের অনুপ্রেরণা দেয়। মানবতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজচেতনা তার সাহিত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।"
কবি আবদুল হাই মাশরেকী গবেষণা কেন্দ্রের উপদেষ্টা এবং উত্তরের ঈশ্বরগঞ্জ ফোরামের সভাপতি মো. মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এই সমাপনী আসরে অন্যান্যদের মধ্যে মূল্যবান মতামত প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন নজরুল ভাবুক এইচ এম সিরাজ, বিশিষ্ট গবেষক গাউসুর রহমান, চিত্রশিল্পী সন্তু সাহা এবং আবু তাহের বকুল।
উৎসবে পদক প্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, কবি ও সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার, প্রশাসনিক ক্যাটাগরিতে মো. শাহ আলম, চিত্রকলায় মরণোত্তর সৈয়দ লুৎফুল হক, আইন ও সমাজসেবায় মো. বোরহান উদ্দিন, কবি ও গবেষক গাউসুর রহমান, লোকসংগীতে আবদুর রহিম, মরণোত্তর শহীদ বুদ্ধিজীবী মো. আরজ আলী, মরণোত্তর কবি শাহরিয়ার হোসেন সাব্বির, কলামিস্ট ফাহমিদা চৌধুরী, সংস্কৃতিজন মো. মজিবুর রহমান এবং কবি মিজান মাহমুদ।
এ সময় শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে উপস্থিত সাংস্কৃতিকপ্রেমী দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি এক আনন্দময় লোকজ মেলায় পরিণত হয়।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাটি ও মানুষের সুর, বাংলার লোকঐতিহ্য এবং আবহমান রূপকে সাহিত্যে ফুটিয়ে তোলা কালজয়ী কবি আবদুল হাই মাশরেকীর ১১৭তম জন্মোৎসবের তিন দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, গান, কবিতা আবৃত্তি, জারীগান ও অপূর্ব কোরিওগ্রাফির মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় লোকসংগীত ও লোকসাহিত্যের এই দিকপালকে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই গেন্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলা শিল্পীগোষ্ঠীর একঝাঁক শিশু-কিশোর ও শিল্পীদের কণ্ঠে পরিবেশিত হয় কবির অমর সৃষ্টি ‘আজান হাঁকো’, ‘দুখু মিয়ার জারী’, ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’ এবং ‘সোনার নাও বান্ধাইলে নাও’ গানগুলো। এরপর বিভিন্ন ধারার পরিবেশনা, গুণীজন সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়।
'এবার জাগাও মোরে' কবিতার মূল বাণীকে স্মারক ধরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের হাতে তুলে দেওয়া হয় 'মাশরেকী পুরস্কার ২০২৬' এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদান রাখায় গুণীজনদের দেওয়া হয় 'মাশরেকী পদক ২০২৫', সম্মাননা ক্রেস্ট, মেডেল ও সনদপত্র।
কবির জীবনের নানা স্মৃতিকথা ও রচনার ইতিহাস স্মরণ করে কবিপুত্র এবং কবি আবদুল হাই মাশরেকী গবেষণা কেন্দ্রের আহ্বায়ক নঈম মাশরেকী বলেন, "আবদুল হাই মাশরেকীর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেক তথ্য ও স্মৃতি রয়েছে। তার লেখা বহু কবিতা ও গান আজও মানুষের মাঝে বেঁচে আছে।"
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবির সাহিত্যের আবেদন তুলে ধরে বলেন, "কবির অসংখ্য জনপ্রিয় লেখা আজও শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের অনুপ্রেরণা দেয়। মানবতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজচেতনা তার সাহিত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।"
কবি আবদুল হাই মাশরেকী গবেষণা কেন্দ্রের উপদেষ্টা এবং উত্তরের ঈশ্বরগঞ্জ ফোরামের সভাপতি মো. মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এই সমাপনী আসরে অন্যান্যদের মধ্যে মূল্যবান মতামত প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন নজরুল ভাবুক এইচ এম সিরাজ, বিশিষ্ট গবেষক গাউসুর রহমান, চিত্রশিল্পী সন্তু সাহা এবং আবু তাহের বকুল।
উৎসবে পদক প্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, কবি ও সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার, প্রশাসনিক ক্যাটাগরিতে মো. শাহ আলম, চিত্রকলায় মরণোত্তর সৈয়দ লুৎফুল হক, আইন ও সমাজসেবায় মো. বোরহান উদ্দিন, কবি ও গবেষক গাউসুর রহমান, লোকসংগীতে আবদুর রহিম, মরণোত্তর শহীদ বুদ্ধিজীবী মো. আরজ আলী, মরণোত্তর কবি শাহরিয়ার হোসেন সাব্বির, কলামিস্ট ফাহমিদা চৌধুরী, সংস্কৃতিজন মো. মজিবুর রহমান এবং কবি মিজান মাহমুদ।
এ সময় শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে উপস্থিত সাংস্কৃতিকপ্রেমী দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি এক আনন্দময় লোকজ মেলায় পরিণত হয়।

আপনার মতামত লিখুন