দেশে চলমান চরম জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের পেছনে বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রভাবের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অপ্রতুল উদ্যোগকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণকে পোহানো দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি জানান, সংকট মোকাবিলায় সরকার তার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, "আমাদের গোপন করার কিছু নেই। আমরা আপনাদের হয়ে কাজ করছি।"
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে বড় বড় যেসব সমস্যা ঘনীভূত হয়েছে, সেগুলো সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট কাজ করা হয়েছে।
জ্বালানি সংকটের মূল কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে স্বাভাবিক পণ্য আমদানি ও বিতরণ ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি থাকলেও তারা এখন রপ্তানিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছে এবং পণ্যবাহী জাহাজ পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। পরিস্থিতি সামলাতে সরকারকে অতিরিক্ত প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "অত্যন্ত অপ্রস্তুত অবস্থায় আমরা এই সংকটের মধ্যে পড়েছি। কে জানত, যুদ্ধটা এভাবে শুরু হবে? কে জানত, এর প্রভাবে আমাদের আমদানি প্রক্রিয়া এভাবে ব্যাহত হবে?"
তবে সরকার আশাবাদী যে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি না থাকায় দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
সংকট কেবল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণেই নয়, বরং বহু বছর ধরে দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস আহরণে উদাসীনতার ফলেও তৈরি হয়েছে বলে তিনি মত দেন। বাপেক্সকে অকার্যকর করে রাখার সমালোচনা করে তিনি জানান, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।
একই সংবাদ সম্মেলনে বিদেশে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "তিনি একজন আসামি এবং তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়।"
তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা এবং সেখানে আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের মাধ্যমে সরকার তাকে ফেরত আনার সর্বোচ্চ আইনি চেষ্টা চালাচ্ছে।
সংসদের ভেতরে ও বাইরের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, সরকার তাদের সমালোচনাকেও ইতিবাচক সহযোগিতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। সরকারি সংস্থায় নিয়োগের বিষয়ে যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রতি নজর রাখার ওপরও তিনি বিশেষ জোর দেন।

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
দেশে চলমান চরম জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের পেছনে বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রভাবের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অপ্রতুল উদ্যোগকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণকে পোহানো দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি জানান, সংকট মোকাবিলায় সরকার তার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, "আমাদের গোপন করার কিছু নেই। আমরা আপনাদের হয়ে কাজ করছি।"
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে বড় বড় যেসব সমস্যা ঘনীভূত হয়েছে, সেগুলো সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট কাজ করা হয়েছে।
জ্বালানি সংকটের মূল কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে স্বাভাবিক পণ্য আমদানি ও বিতরণ ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি থাকলেও তারা এখন রপ্তানিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছে এবং পণ্যবাহী জাহাজ পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। পরিস্থিতি সামলাতে সরকারকে অতিরিক্ত প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "অত্যন্ত অপ্রস্তুত অবস্থায় আমরা এই সংকটের মধ্যে পড়েছি। কে জানত, যুদ্ধটা এভাবে শুরু হবে? কে জানত, এর প্রভাবে আমাদের আমদানি প্রক্রিয়া এভাবে ব্যাহত হবে?"
তবে সরকার আশাবাদী যে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি না থাকায় দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
সংকট কেবল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণেই নয়, বরং বহু বছর ধরে দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস আহরণে উদাসীনতার ফলেও তৈরি হয়েছে বলে তিনি মত দেন। বাপেক্সকে অকার্যকর করে রাখার সমালোচনা করে তিনি জানান, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।
একই সংবাদ সম্মেলনে বিদেশে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "তিনি একজন আসামি এবং তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়।"
তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা এবং সেখানে আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের মাধ্যমে সরকার তাকে ফেরত আনার সর্বোচ্চ আইনি চেষ্টা চালাচ্ছে।
সংসদের ভেতরে ও বাইরের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, সরকার তাদের সমালোচনাকেও ইতিবাচক সহযোগিতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। সরকারি সংস্থায় নিয়োগের বিষয়ে যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রতি নজর রাখার ওপরও তিনি বিশেষ জোর দেন।

আপনার মতামত লিখুন