১৮ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন। একমাত্র সন্তান মরিয়মও সাত-আট বছর বয়সে মারা যায় সাপের কামড়ে। এরপর থেকে দীর্ঘ এক দশক একা ও স্বজনহীন জীবন কাটছিল মোছা. রাইমা খাতুনের (৪৫)। থাকার মতো এক চিলতে ভালো ঘর ছিল না, ছিল না কোনো আপনজন। এই অসহায়ত্বের জীবনে অবশেষে কিছুটা স্বস্তির দেখা পেয়েছেন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার এই নারী। স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির পরিবারের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি পেয়েছেন একটি নতুন পাকা ঘর।
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের পরিবারের নিজস্ব অর্থায়নে এই ঘরটি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। উপজেলার ব্রজবাকশা সরদারপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, নতুন পাকা ঘরের বারান্দায় বসে আছেন রাইমা খাতুন। জীবনের দীর্ঘ অনিশ্চয়তা শেষে একটি নিরাপদ আশ্রয়ের দেখা পেয়ে তার চোখেমুখে এখন স্বস্তি।
স্থানীয়রা জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর ভাঙাচোরা মাটির ঘরে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে থাকতেন রাইমা। কিন্তু ১০ বছর আগে মেয়েটি মারা যাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তার এই কষ্টের কথা জানতে পেরে চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের পরিবার তাদের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে রাইমার জন্য বারান্দাসহ একটি পাকা ঘর তৈরি করে দেন।
নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত রাইমা খাতুন বলেন, ‘স্বামী-সন্তান হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলাম। মাথা গোঁজার মতো নিরাপদ কোনো জায়গা ছিল না। এখন একটি ঘর পাওয়ায় নিরাপদে ঘুমাতে পারব।’
ইউপি সদস্য খায়রুল ইসলাম জানান, চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ও তার ভাই শিল্পপতি ইমাম হোসেনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০২৪ সাল থেকে ইউনিয়নের গৃহহীনদের ঘর করে দেওয়ার এই প্রকল্প শুরু হয়েছে। এর আওতায় ২০২৪ সালে ২টি এবং ২০২৫ সালে ৭টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে ২০২৬ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী আরও ১০টি ঘরের কাজ চলমান রয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা থেকে আমরা দুস্থদের তালিকা করে ঘর দিচ্ছি। রাইমার মতো অসহায় মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। বিত্তবানরা এগিয়ে এলে সমাজের চিত্র বদলে যাবে।’
আপনার মতামত লিখুন