সংবাদ

গাইবান্ধায় ৪৮ পয়েন্টে তীব্র নদীভাঙন, ঝুঁকিতে ১০ হাজার পরিবার


আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা
আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪০ এএম

গাইবান্ধায় ৪৮ পয়েন্টে তীব্র নদীভাঙন, ঝুঁকিতে ১০ হাজার পরিবার
ছবি : সংবাদ

পরিকল্পনাহীনতা ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে গাইবান্ধায় নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর অন্তত ৪৮টি পয়েন্টে ভাঙন শুরু হওয়ায় জেলার চার উপজেলার ১০ হাজার পরিবারের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী টেকসই বাঁধ না থাকায় প্রতিবছরই এমন সংকটের মুখে পড়ছে নদীতীরবর্তী মানুষ।

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ৪৮টি গ্রামে তীব্র ভাঙন চলছে। প্রতিদিন তিলে তিলে গড়ে তোলা বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও সরকারি-বেসরকারি নানা স্থাপনা নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ফুলছড়ির ফজলুপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে শত শত পরিবার চরে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিবছরই ঘরবাড়ি সরাতে সরাতে আমরা ক্লান্ত।’ সাঘাটার দিঘলকান্দি চরের আলম মিয়ার অভিযোগ, ভাঙন প্রতিরোধে দৃশ্যমান কোনো টেকসই কাজ হচ্ছে না। এদিকে সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া চরের রাজা মিয়া আক্ষেপ করে জানান, চোখের সামনে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে চলে গেলেও তা রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও স্থানীয়দের দাবি, মূল ভূখণ্ডে কিছু কাজ হলেও চরাঞ্চল এখনো অবহেলিত। ফলে চরের হাজারো মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

উন্নয়ন গবেষক ও গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্ সালাম বলেন, ‘গাইবান্ধার ৩৫ শতাংশ মানুষ চরাঞ্চলে থাকে। তারা অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখলেও নদীভাঙনে বারবার নিঃস্ব হচ্ছে। তাদের সুরক্ষায় দ্রুত টেকসই পরিকল্পনা ও পুনর্বাসন প্রয়োজন।’ তিনি জানান, কামারজানিতে সম্প্রতি ২২০টি পরিবারকে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা সামান্য।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর ফুলছড়িতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬


গাইবান্ধায় ৪৮ পয়েন্টে তীব্র নদীভাঙন, ঝুঁকিতে ১০ হাজার পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পরিকল্পনাহীনতা ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে গাইবান্ধায় নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর অন্তত ৪৮টি পয়েন্টে ভাঙন শুরু হওয়ায় জেলার চার উপজেলার ১০ হাজার পরিবারের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী টেকসই বাঁধ না থাকায় প্রতিবছরই এমন সংকটের মুখে পড়ছে নদীতীরবর্তী মানুষ।

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ৪৮টি গ্রামে তীব্র ভাঙন চলছে। প্রতিদিন তিলে তিলে গড়ে তোলা বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও সরকারি-বেসরকারি নানা স্থাপনা নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ফুলছড়ির ফজলুপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে শত শত পরিবার চরে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিবছরই ঘরবাড়ি সরাতে সরাতে আমরা ক্লান্ত।’ সাঘাটার দিঘলকান্দি চরের আলম মিয়ার অভিযোগ, ভাঙন প্রতিরোধে দৃশ্যমান কোনো টেকসই কাজ হচ্ছে না। এদিকে সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া চরের রাজা মিয়া আক্ষেপ করে জানান, চোখের সামনে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে চলে গেলেও তা রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও স্থানীয়দের দাবি, মূল ভূখণ্ডে কিছু কাজ হলেও চরাঞ্চল এখনো অবহেলিত। ফলে চরের হাজারো মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

উন্নয়ন গবেষক ও গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্ সালাম বলেন, ‘গাইবান্ধার ৩৫ শতাংশ মানুষ চরাঞ্চলে থাকে। তারা অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখলেও নদীভাঙনে বারবার নিঃস্ব হচ্ছে। তাদের সুরক্ষায় দ্রুত টেকসই পরিকল্পনা ও পুনর্বাসন প্রয়োজন।’ তিনি জানান, কামারজানিতে সম্প্রতি ২২০টি পরিবারকে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা সামান্য।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর ফুলছড়িতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত