সংবাদ

সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা বন্ধ


প্রকাশ: ৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা বন্ধ

  • ব্যয় সংকোচনে কঠোর অবস্থানে সরকার
  • গাড়ি কেনার পাশাপাশি বিদেশ ভ্রমণ ও আপ্যায়নও বাতিল

সরকারি পরিচালন ব্যয় কমাতে বড় ধরনের কৃচ্ছ্রসাধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সরকারি কর্মকর্তারা গাড়ি কেনার জন্য আর সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা পাবেন না। একই সঙ্গে সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুক্রবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রিসভার নেওয়া সিদ্ধান্তের বিষয়ে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ‘প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০অনুযায়ী এতদিন উপ-সচিব তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তারা গাড়ি কেনার জন্য সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ পেয়ে আসছিলেন। সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এই বিশেষ সুবিধাটি আপাতত আর বহাল থাকছে না।

কর্মকর্তাদের শুধু ঋণ সুবিধাই নয়, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ চালকের বেতনের জন্য প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হতো। এ ছাড়া গাড়ির জন্য প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে অবচয় সুবিধাও কার্যকর ছিল, যা এখন থেকে স্থগিত থাকবে।

মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার সুদমুক্ত ঋণ এবং সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

এ ছাড়া সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ে অন্যান্য খাতেও বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যয় আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। সভা বা সেমিনারের আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ, সেমিনার কনফারেন্স বাবদ খরচ ২০ শতাংশ এবং ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মূলত দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ কমাতেই এমন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বর্তমান মন্ত্রিসভা। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা বন্ধ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

  • ব্যয় সংকোচনে কঠোর অবস্থানে সরকার
  • গাড়ি কেনার পাশাপাশি বিদেশ ভ্রমণ ও আপ্যায়নও বাতিল

সরকারি পরিচালন ব্যয় কমাতে বড় ধরনের কৃচ্ছ্রসাধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সরকারি কর্মকর্তারা গাড়ি কেনার জন্য আর সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা পাবেন না। একই সঙ্গে সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার চতুর্থ বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুক্রবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রিসভার নেওয়া সিদ্ধান্তের বিষয়ে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ‘প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০অনুযায়ী এতদিন উপ-সচিব তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তারা গাড়ি কেনার জন্য সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ পেয়ে আসছিলেন। সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এই বিশেষ সুবিধাটি আপাতত আর বহাল থাকছে না।

কর্মকর্তাদের শুধু ঋণ সুবিধাই নয়, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ চালকের বেতনের জন্য প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হতো। এ ছাড়া গাড়ির জন্য প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে অবচয় সুবিধাও কার্যকর ছিল, যা এখন থেকে স্থগিত থাকবে।

মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার সুদমুক্ত ঋণ এবং সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

এ ছাড়া সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ে অন্যান্য খাতেও বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যয় আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। সভা বা সেমিনারের আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ, সেমিনার কনফারেন্স বাবদ খরচ ২০ শতাংশ এবং ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মূলত দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ কমাতেই এমন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বর্তমান মন্ত্রিসভা। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত