সংবাদ

যে ১০ মিনিট বদলে দিল নেপালের ৯০০ শিশুর গল্প


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম

যে ১০ মিনিট বদলে দিল নেপালের ৯০০ শিশুর গল্প
প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি। যার ১০ মিনিটের সিদ্ধান্ত রক্ষা করেছিল ৯০০ শিশুকে।

নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিভুবন ত্রিশূলি সেকেন্ডারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে একটি ফোন এলো তার কাছে। উজানের বেত্রাবতী গ্রাম পুরোপুরি ভেসে গেছে- পানি দ্রুত নিচে নামছে।

খবর পেয়ে প্রথমে শিক্ষক ভেবেছিলেন স্কুলটি নিরাপদ। তিনতলা পাকা ভবনটি নদী থেকে প্রায় ৬০ মিটার উঁচুতে। কিন্তু পরপর চারটি ফোন, আর একজন অভিভাবকের দৌড়ে এসে সতর্ক করা- পরিস্থিতি বুঝতে সময় লাগেনি তার।

তিনি স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে দেন। শিক্ষকদের বললেন দ্রুত সব শ্রেণিকক্ষ খালি করতে। তখন স্কুলে ছিল প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী। আরও ৭০০ জন পথে ।

শিক্ষার্থীদের উঁচু জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দাওয়াদি স্কুলের বাসচালকদের ফোন করেন। প্রায় ৮০ জন করে শিক্ষার্থী নিয়ে আসা বাসগুলোকে ফিরিয়ে দিতে বলেন তিনি।

সব কয়টি বাসকে আটকানো গেল। শুধু একটি বাস স্কুলের ব্রিজ পার হচ্ছিল। পানি ইতোমধ্যে স্কুল চত্বরে ঢুকে গেছে। দাওয়াদি দৌড়ে গিয়ে চালককে ইশারা করলেন। বাসটি ফিরে গেল- মুহূর্ত পরেই ব্রিজটি ভেঙে পড়ে নদীতে।

শিশুরা পায়ে হেঁটে পাহাড়ের ওপর উঠতে থাকে। এক মেয়ে আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সবাই একটি বড় বটগাছের নিচে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকেই তারা দেখে- তিনতলা স্কুল ভবন, হোস্টেল, সব ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে।

মোট ১,৬৪৩ জন শিক্ষার্থীকে বাঁচিয়েছেন দাওয়াদি। তবে দুজন কর্মী ফিরে যান আর ফেরেননি। সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক সান্তোষ পারিয়ার (৩২) নদীর পাশের ভাড়া ঘরে ফিরে গিয়েছিলেন নাশতা করতে। স্কুলের দারোয়ান সুলতান লামা গিয়ে দরজা বন্ধ করতে গিয়ে ভেসে যান।

পরে দাওয়াদি বলেছিলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে আর এক মুহূর্তও দেরি করা ঠিক হবে না। এমনকি বন্যা যদি শেষ পর্যন্ত নাও আসত, বড়জোর একটি দিনের ক্লাসই তো নষ্ট হতো।’

হিমবাহ ধসে ৯ মিটার উঁচু পানি, বরফ ও কাদার প্রবাহ নেমে আসে ত্রিশূলি উপত্যকায়। পুরো এলাকা ধ্বংস হয়ে যায়। নেপালে এখন পর্যন্ত ৭৮৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৯৮ জন। উদ্ধার কাজ চলছে। ১০০ জন শ্রমিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকা পড়েছেন। ভারত ও চীন উদ্ধার দল পাঠিয়েছে। সূত্র: বিবিসি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


যে ১০ মিনিট বদলে দিল নেপালের ৯০০ শিশুর গল্প

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিভুবন ত্রিশূলি সেকেন্ডারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে একটি ফোন এলো তার কাছে। উজানের বেত্রাবতী গ্রাম পুরোপুরি ভেসে গেছে- পানি দ্রুত নিচে নামছে।

খবর পেয়ে প্রথমে শিক্ষক ভেবেছিলেন স্কুলটি নিরাপদ। তিনতলা পাকা ভবনটি নদী থেকে প্রায় ৬০ মিটার উঁচুতে। কিন্তু পরপর চারটি ফোন, আর একজন অভিভাবকের দৌড়ে এসে সতর্ক করা- পরিস্থিতি বুঝতে সময় লাগেনি তার।

তিনি স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে দেন। শিক্ষকদের বললেন দ্রুত সব শ্রেণিকক্ষ খালি করতে। তখন স্কুলে ছিল প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী। আরও ৭০০ জন পথে ।

শিক্ষার্থীদের উঁচু জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দাওয়াদি স্কুলের বাসচালকদের ফোন করেন। প্রায় ৮০ জন করে শিক্ষার্থী নিয়ে আসা বাসগুলোকে ফিরিয়ে দিতে বলেন তিনি।

সব কয়টি বাসকে আটকানো গেল। শুধু একটি বাস স্কুলের ব্রিজ পার হচ্ছিল। পানি ইতোমধ্যে স্কুল চত্বরে ঢুকে গেছে। দাওয়াদি দৌড়ে গিয়ে চালককে ইশারা করলেন। বাসটি ফিরে গেল- মুহূর্ত পরেই ব্রিজটি ভেঙে পড়ে নদীতে।

শিশুরা পায়ে হেঁটে পাহাড়ের ওপর উঠতে থাকে। এক মেয়ে আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সবাই একটি বড় বটগাছের নিচে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকেই তারা দেখে- তিনতলা স্কুল ভবন, হোস্টেল, সব ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে।

মোট ১,৬৪৩ জন শিক্ষার্থীকে বাঁচিয়েছেন দাওয়াদি। তবে দুজন কর্মী ফিরে যান আর ফেরেননি। সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক সান্তোষ পারিয়ার (৩২) নদীর পাশের ভাড়া ঘরে ফিরে গিয়েছিলেন নাশতা করতে। স্কুলের দারোয়ান সুলতান লামা গিয়ে দরজা বন্ধ করতে গিয়ে ভেসে যান।

পরে দাওয়াদি বলেছিলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে আর এক মুহূর্তও দেরি করা ঠিক হবে না। এমনকি বন্যা যদি শেষ পর্যন্ত নাও আসত, বড়জোর একটি দিনের ক্লাসই তো নষ্ট হতো।’

হিমবাহ ধসে ৯ মিটার উঁচু পানি, বরফ ও কাদার প্রবাহ নেমে আসে ত্রিশূলি উপত্যকায়। পুরো এলাকা ধ্বংস হয়ে যায়। নেপালে এখন পর্যন্ত ৭৮৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৯৮ জন। উদ্ধার কাজ চলছে। ১০০ জন শ্রমিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকা পড়েছেন। ভারত ও চীন উদ্ধার দল পাঠিয়েছে। সূত্র: বিবিসি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত