দ্বীপ জেলা ভোলার বিচ্ছিন্নতা ঘুচিয়ে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রহমতপুর-মুলাদী-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে ভোলা পর্যন্ত প্রস্তাবিত একটি বাইপাস মহাসড়ক এখন দক্ষিণাঞ্চলবাসীর নতুন স্বপ্নের নাম। স্থানীয়দের আশা, এই সড়কটি নির্মিত হলে শুধু যাতায়াত সহজ হবে না, দীর্ঘদিনের দাবি ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পথও প্রশস্ত হবে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই মহাসড়কটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার। এই পথ নির্মাণে অন্তত দুটি বড় সেতুসহ বেশ কয়েকটি ছোট সেতুর প্রয়োজন হবে। সেতু বিভাগের প্রাথমিক প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। তবে সড়ক বিভাগ মনে করছে, ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যেই প্রকল্পটি শেষ করা সম্ভব।
বর্তমানে রহমতপুর থেকে বরিশাল হয়ে ভোলা যাওয়ার দূরত্ব ৫৮ কিলোমিটার। তবে তীব্র যানজটের কারণে এই পথে অন্তত ৩০ মিনিট বাড়তি সময় নষ্ট হয়। নতুন বাইপাস মহাসড়কটি চালু হলে দূরত্ব কমার পাশাপাশি সময় বাঁচবে কয়েক ঘণ্টা। ফলে ঢাকা ও বরিশালের সঙ্গে ভোলার যোগাযোগে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
অবহেলিত মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জের বাসিন্দারা এই প্রকল্পকে তাদের ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়দের মতে, এই সড়কের সঙ্গে যদি গ্যাসের পাইপলাইন যুক্ত করা যায়, তবে ভোলার বিপুল গ্যাস জাতীয় গ্রিডে নেওয়া সম্ভব হবে। এতে জ্বালানি সংকটে থাকা দেশের শিল্প খাতে প্রাণ সঞ্চার হবে।
প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) ও বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, 'বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। মুলাদী-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ ও ভোলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ ঘোচাতে এই মহাসড়কটি বড় ভূমিকা রাখবে।' তবে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি জানান।
রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব রাজন সিকদার বলেন, 'এই মহাসড়ক হলে নদীপথে ট্রলারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকার কষ্ট আর থাকবে না। অবহেলিত এই জনপদগুলোর অর্থনীতিতে নতুন গতি ফিরবে।'
তবে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীরা আপাতত সড়ক ও সেতুর ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন। বরিশাল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম জানান, মহাসড়কের সঙ্গে গ্যাস সংযোগের বিষয়টি পুরোপুরি আলাদা। এটি সরকারের ভিন্ন কোনো পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। বর্তমানে তারা বিদ্যমান সড়ক সংস্কার ও নতুন অংশ নির্মাণের প্রস্তাবনা নিয়েই কাজ করছেন।
সব ঠিক থাকলে এই মহাসড়কটিই হতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দ্বীপ জেলা ভোলার বিচ্ছিন্নতা ঘুচিয়ে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রহমতপুর-মুলাদী-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে ভোলা পর্যন্ত প্রস্তাবিত একটি বাইপাস মহাসড়ক এখন দক্ষিণাঞ্চলবাসীর নতুন স্বপ্নের নাম। স্থানীয়দের আশা, এই সড়কটি নির্মিত হলে শুধু যাতায়াত সহজ হবে না, দীর্ঘদিনের দাবি ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পথও প্রশস্ত হবে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই মহাসড়কটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার। এই পথ নির্মাণে অন্তত দুটি বড় সেতুসহ বেশ কয়েকটি ছোট সেতুর প্রয়োজন হবে। সেতু বিভাগের প্রাথমিক প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। তবে সড়ক বিভাগ মনে করছে, ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যেই প্রকল্পটি শেষ করা সম্ভব।
বর্তমানে রহমতপুর থেকে বরিশাল হয়ে ভোলা যাওয়ার দূরত্ব ৫৮ কিলোমিটার। তবে তীব্র যানজটের কারণে এই পথে অন্তত ৩০ মিনিট বাড়তি সময় নষ্ট হয়। নতুন বাইপাস মহাসড়কটি চালু হলে দূরত্ব কমার পাশাপাশি সময় বাঁচবে কয়েক ঘণ্টা। ফলে ঢাকা ও বরিশালের সঙ্গে ভোলার যোগাযোগে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
অবহেলিত মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জের বাসিন্দারা এই প্রকল্পকে তাদের ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়দের মতে, এই সড়কের সঙ্গে যদি গ্যাসের পাইপলাইন যুক্ত করা যায়, তবে ভোলার বিপুল গ্যাস জাতীয় গ্রিডে নেওয়া সম্ভব হবে। এতে জ্বালানি সংকটে থাকা দেশের শিল্প খাতে প্রাণ সঞ্চার হবে।
প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) ও বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, 'বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। মুলাদী-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ ও ভোলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ ঘোচাতে এই মহাসড়কটি বড় ভূমিকা রাখবে।' তবে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি জানান।
রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব রাজন সিকদার বলেন, 'এই মহাসড়ক হলে নদীপথে ট্রলারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকার কষ্ট আর থাকবে না। অবহেলিত এই জনপদগুলোর অর্থনীতিতে নতুন গতি ফিরবে।'
তবে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীরা আপাতত সড়ক ও সেতুর ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন। বরিশাল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম জানান, মহাসড়কের সঙ্গে গ্যাস সংযোগের বিষয়টি পুরোপুরি আলাদা। এটি সরকারের ভিন্ন কোনো পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। বর্তমানে তারা বিদ্যমান সড়ক সংস্কার ও নতুন অংশ নির্মাণের প্রস্তাবনা নিয়েই কাজ করছেন।
সব ঠিক থাকলে এই মহাসড়কটিই হতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন