চা বা কফি খুব গরম অবস্থায় পান করার অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরম পানীয় গ্রহণের সঙ্গে খাদ্যনালীর একটি নির্দিষ্ট ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকদের পরামর্শ, চা-কফি পান করার আগে কিছুটা ঠান্ডা করে নেওয়া ভালো।
‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্যান্সার’-এ
প্রকাশিত গবেষণাটিতে খাদ্যনালীর ‘স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা’ (এসসিসি) নিয়ে তথ্য বিশ্লেষণ
করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, সাধারণ উষ্ণ পানীয়ের তুলনায় অত্যন্ত গরম পানীয় পানকারীদের
মধ্যে এ ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ বেশি হতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শুধু
পানীয়ের তাপমাত্রা নয়, প্রতিদিন বেশি পরিমাণে গরম পানীয় পান করার অভ্যাসও ঝুঁকির সঙ্গে
সম্পর্কিত। প্রতিদিন ছয় কাপ বা তার বেশি গরম পানীয় পানকারীদের ক্ষেত্রে এসসিসির ঝুঁকি
৭১ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দেখা গেছে। তবে খাদ্যনালীর আরেক ধরনের ক্যান্সার ‘অ্যাডেনোকার্সিনোমা’র
সঙ্গে পানীয়ের তাপমাত্রা বা পরিমাণের একই ধরনের সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
প্রায় ১০ লাখ মানুষের
তথ্য বিশ্লেষণ
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা
স্বাস্থ্য বিভাগের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় যুক্তরাজ্যের প্রায় ৯ লাখ
৮০ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ১৪ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ
করা হয়েছে। তাঁদের চা-কফি ও অন্যান্য গরম পানীয় গ্রহণের অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে তথ্য
সংগ্রহ করা হয়েছিল।
গবেষকদের এই পর্যবেক্ষণ আগের
কয়েকটি গবেষণার ফলাফলের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে
পরিচালিত গবেষণায় ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার চা বা মাতে পান করার সঙ্গে
খাদ্যনালীর ক্যান্সারের বাড়তি ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
কেন ঝুঁকি বাড়তে পারে
গবেষকদের ধারণা, অতিরিক্ত গরম
পানীয় নিয়মিত পান করলে খাদ্যনালীর ভেতরের আবরণে বারবার তাপজনিত ক্ষতি হতে পারে। দীর্ঘদিন
এ ধরনের ক্ষতি ও প্রদাহ চলতে থাকলে কোষে পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
২০১৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
ক্যান্সারবিষয়ক গবেষণা সংস্থা আইএআরসি ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার ‘খুব গরম
পানীয়’কে মানুষের জন্য ‘সম্ভবত ক্যান্সারসৃষ্টিকারী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। এখানে
মূল বিষয় পানীয়টি চা বা কফি কি না, তার চেয়ে সেটি কতটা গরম অবস্থায় পান করা হচ্ছে।
কিছুটা ঠান্ডা করে পান
করার পরামর্শ
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চা বা কফি
পরিবেশনের পর সরাসরি পান না করে কিছুটা সময় অপেক্ষা করা ভালো। পানীয়ের তাপমাত্রা সহনীয়
পর্যায়ে নেমে এলে তা পান করা যেতে পারে।
তবে গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও
রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া স্ব-প্রতিবেদিত তথ্যের ওপর পানীয়ের তাপমাত্রা ও গ্রহণের
অভ্যাস নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যক্তিভেদে ‘খুব গরম’ বা ‘সহনীয়’ তাপমাত্রার অনুভূতি ভিন্ন
হতে পারে। ফলে শুধু এসব তথ্যের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত ঝুঁকি শতভাগ নির্ধারণ করা সম্ভব
নয়।
তাই গবেষণার ফলাফলকে আতঙ্কের কারণ হিসেবে না দেখে নিয়মিত অত্যন্ত গরম পানীয় পান করার অভ্যাস এড়িয়ে চলাকেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চা বা কফি খুব গরম অবস্থায় পান করার অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরম পানীয় গ্রহণের সঙ্গে খাদ্যনালীর একটি নির্দিষ্ট ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকদের পরামর্শ, চা-কফি পান করার আগে কিছুটা ঠান্ডা করে নেওয়া ভালো।
‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্যান্সার’-এ
প্রকাশিত গবেষণাটিতে খাদ্যনালীর ‘স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা’ (এসসিসি) নিয়ে তথ্য বিশ্লেষণ
করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, সাধারণ উষ্ণ পানীয়ের তুলনায় অত্যন্ত গরম পানীয় পানকারীদের
মধ্যে এ ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ বেশি হতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শুধু
পানীয়ের তাপমাত্রা নয়, প্রতিদিন বেশি পরিমাণে গরম পানীয় পান করার অভ্যাসও ঝুঁকির সঙ্গে
সম্পর্কিত। প্রতিদিন ছয় কাপ বা তার বেশি গরম পানীয় পানকারীদের ক্ষেত্রে এসসিসির ঝুঁকি
৭১ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দেখা গেছে। তবে খাদ্যনালীর আরেক ধরনের ক্যান্সার ‘অ্যাডেনোকার্সিনোমা’র
সঙ্গে পানীয়ের তাপমাত্রা বা পরিমাণের একই ধরনের সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
প্রায় ১০ লাখ মানুষের
তথ্য বিশ্লেষণ
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা
স্বাস্থ্য বিভাগের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় যুক্তরাজ্যের প্রায় ৯ লাখ
৮০ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ১৪ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ
করা হয়েছে। তাঁদের চা-কফি ও অন্যান্য গরম পানীয় গ্রহণের অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে তথ্য
সংগ্রহ করা হয়েছিল।
গবেষকদের এই পর্যবেক্ষণ আগের
কয়েকটি গবেষণার ফলাফলের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে
পরিচালিত গবেষণায় ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার চা বা মাতে পান করার সঙ্গে
খাদ্যনালীর ক্যান্সারের বাড়তি ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
কেন ঝুঁকি বাড়তে পারে
গবেষকদের ধারণা, অতিরিক্ত গরম
পানীয় নিয়মিত পান করলে খাদ্যনালীর ভেতরের আবরণে বারবার তাপজনিত ক্ষতি হতে পারে। দীর্ঘদিন
এ ধরনের ক্ষতি ও প্রদাহ চলতে থাকলে কোষে পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
২০১৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
ক্যান্সারবিষয়ক গবেষণা সংস্থা আইএআরসি ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার ‘খুব গরম
পানীয়’কে মানুষের জন্য ‘সম্ভবত ক্যান্সারসৃষ্টিকারী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। এখানে
মূল বিষয় পানীয়টি চা বা কফি কি না, তার চেয়ে সেটি কতটা গরম অবস্থায় পান করা হচ্ছে।
কিছুটা ঠান্ডা করে পান
করার পরামর্শ
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চা বা কফি
পরিবেশনের পর সরাসরি পান না করে কিছুটা সময় অপেক্ষা করা ভালো। পানীয়ের তাপমাত্রা সহনীয়
পর্যায়ে নেমে এলে তা পান করা যেতে পারে।
তবে গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও
রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া স্ব-প্রতিবেদিত তথ্যের ওপর পানীয়ের তাপমাত্রা ও গ্রহণের
অভ্যাস নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যক্তিভেদে ‘খুব গরম’ বা ‘সহনীয়’ তাপমাত্রার অনুভূতি ভিন্ন
হতে পারে। ফলে শুধু এসব তথ্যের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত ঝুঁকি শতভাগ নির্ধারণ করা সম্ভব
নয়।
তাই গবেষণার ফলাফলকে আতঙ্কের কারণ হিসেবে না দেখে নিয়মিত অত্যন্ত গরম পানীয় পান করার অভ্যাস এড়িয়ে চলাকেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন