সংবাদ

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক যেন আতঙ্কের নাম, থামছে না মৃত্যুর মিছিল


প্রতিনিধি, গৌরনদী (বরিশাল)
প্রতিনিধি, গৌরনদী (বরিশাল)
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক যেন আতঙ্কের নাম, থামছে না মৃত্যুর মিছিল
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের খানাখন্দ ও সরু রাস্তায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ছবি : সংবাদ

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দিন দিন পরিণত হচ্ছে এক চরম আতঙ্কের স্থানে। একের পর এক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি, আহত মানুষের আর্তনাদ ও স্বজনদের কান্না-কোনো কিছুই যেন থামাতে পারছে না এই মৃত্যুর মিছিল।

সর্বশেষ গত ১১ সেপ্টেম্বর বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ বিজয়পুর ও কটকস্থল এলাকায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেলচালক নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হন। এর দুদিন আগে ৯ সেপ্টেম্বর উজিরপুর উপজেলার ইচলাদী টোলপ্লাজার সামনে লাশবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্স ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ময়না বেগম (৩৫) নামে এক নারী নিহত হন।

তবে এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। চলতি বছরের ২৬ মে গৌরনদীর বাটাজোর এলাকায় বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের তিনজন-ফিরোজ মাহমুদ, তার স্ত্রী মনিরা বেগম ও তাদের শিশুকন্যা জান্নাত নিহত হন। এ ছাড়া ১৩ জুন গৌরনদীর আশোকাঠী এলাকায় বাসের ধাক্কায় আইসক্রিম বিক্রেতা বাবু লাল বিশ্বাস এবং ২৩ জুন খাঞ্জাপুরের বটতলা-কাপালিকান্দি এলাকায় বাসের চাপায় কুয়েতপ্রবাসী সোহেল ফকির নিহত হন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাসের পর মাস দুর্ঘটনা ঘটলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ, ভাঙাচোরা পিচ, সরু পথ, তীব্র যানবাহনের চাপ, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, যত্রতত্র বাজার ও অনিয়ন্ত্রিত ধীরগতির যানবাহনের চলাচল এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। গত আগস্টে টানা বর্ষণে গৌরনদী অংশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে।

শুধু সড়কের বেহাল দশাই নয়, বড় সংকট এর অপ্রশস্ততা। পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে যানবাহন চলাচল কয়েক গুণ বেড়েছে। কিন্তু ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত দীর্ঘ মহাসড়কের বড় অংশ এখনো দুই লেনের সরু সড়ক হিসেবেই রয়ে গেছে। সরু মহাসড়ক অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামলাতে না পারায় প্রতিনিয়ত যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ছে।

এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। চলতি বছরের ২৬ জুন গৌরনদীতে ভুরঘাটা থেকে ইল্লা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৬ লেনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে খানাখন্দ স্থায়ীভাবে মেরামত, বাঁক সোজা করা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং চালকদের বেপরোয়া গতি বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি। এর পাশাপাশি ভাঙ্গা–বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়ক দ্রুত ৬ লেনে উন্নীত করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক যেন আতঙ্কের নাম, থামছে না মৃত্যুর মিছিল

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দিন দিন পরিণত হচ্ছে এক চরম আতঙ্কের স্থানে। একের পর এক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি, আহত মানুষের আর্তনাদ ও স্বজনদের কান্না-কোনো কিছুই যেন থামাতে পারছে না এই মৃত্যুর মিছিল।

সর্বশেষ গত ১১ সেপ্টেম্বর বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ বিজয়পুর ও কটকস্থল এলাকায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেলচালক নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হন। এর দুদিন আগে ৯ সেপ্টেম্বর উজিরপুর উপজেলার ইচলাদী টোলপ্লাজার সামনে লাশবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্স ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ময়না বেগম (৩৫) নামে এক নারী নিহত হন।

তবে এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। চলতি বছরের ২৬ মে গৌরনদীর বাটাজোর এলাকায় বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের তিনজন-ফিরোজ মাহমুদ, তার স্ত্রী মনিরা বেগম ও তাদের শিশুকন্যা জান্নাত নিহত হন। এ ছাড়া ১৩ জুন গৌরনদীর আশোকাঠী এলাকায় বাসের ধাক্কায় আইসক্রিম বিক্রেতা বাবু লাল বিশ্বাস এবং ২৩ জুন খাঞ্জাপুরের বটতলা-কাপালিকান্দি এলাকায় বাসের চাপায় কুয়েতপ্রবাসী সোহেল ফকির নিহত হন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাসের পর মাস দুর্ঘটনা ঘটলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ, ভাঙাচোরা পিচ, সরু পথ, তীব্র যানবাহনের চাপ, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, যত্রতত্র বাজার ও অনিয়ন্ত্রিত ধীরগতির যানবাহনের চলাচল এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। গত আগস্টে টানা বর্ষণে গৌরনদী অংশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে।

শুধু সড়কের বেহাল দশাই নয়, বড় সংকট এর অপ্রশস্ততা। পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে যানবাহন চলাচল কয়েক গুণ বেড়েছে। কিন্তু ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত দীর্ঘ মহাসড়কের বড় অংশ এখনো দুই লেনের সরু সড়ক হিসেবেই রয়ে গেছে। সরু মহাসড়ক অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামলাতে না পারায় প্রতিনিয়ত যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ছে।

এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। চলতি বছরের ২৬ জুন গৌরনদীতে ভুরঘাটা থেকে ইল্লা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৬ লেনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে খানাখন্দ স্থায়ীভাবে মেরামত, বাঁক সোজা করা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং চালকদের বেপরোয়া গতি বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি। এর পাশাপাশি ভাঙ্গা–বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়ক দ্রুত ৬ লেনে উন্নীত করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত