প্রতিবছর বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলে পলি জমে সুনামগঞ্জের নদীগুলোর নাব্যতা তলানিতে ঠেকেছে। এতে জেলার কৃষি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বর্ষায় ধারণক্ষমতা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, আর শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিচ্ছে সেচসংকট।
কৃষকদের দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ১৩টি নদী পুনঃখননে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে। তবে দুই বছর পার হলেও গুরুত্বপূর্ণ এই প্রস্তাবটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন না পেয়ে পরিকল্পনা কমিশনে ফাইলবন্দী হয়ে আছে।
স্থানীয়রা জানান, পলি জমে নদী ভরাট হওয়ায় বর্ষায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বোরো চাষের জন্য জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ ও ফসল কাটা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। ২০২৪ সালে নেওয়া এই উদ্যোগ ২০২৬ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও অনুমোদন না মেলায় কাজ শুরুই করা যায়নি।
গত বোরো মৌসুমে দেখার হাওরে মহাসিং নদী ভরাট থাকায় ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়। পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে 'উথারিয়া বাঁধ' নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে এই বাঁধ কাটা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে বাঁধটি কেটে দেয়। তবে তার আগেই শত শত একর জমির ধান পচে নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষোভ, এত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও মহাসিং নদীটি পাউবোর প্রস্তাবিত পুনঃখনন তালিকা থেকেও বাদ পড়েছে।
হাওরাঞ্চলের সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল বলেন, পলি জমার পাশাপাশি অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট ও অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণের কারণে পানির স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ হচ্ছে। একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল হাওরবাসীকে বাঁচাতে অবিলম্বে নদী-নালা ও বিল পুনঃখনন প্রয়োজন।
প্রকল্পের বিষয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ এমদাদুল হক বলেন, ‘প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। আমরা আশা করছি খুব শীঘ্রই এর অনুমোদন পাওয়া যাবে।’

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রতিবছর বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলে পলি জমে সুনামগঞ্জের নদীগুলোর নাব্যতা তলানিতে ঠেকেছে। এতে জেলার কৃষি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বর্ষায় ধারণক্ষমতা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, আর শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিচ্ছে সেচসংকট।
কৃষকদের দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ১৩টি নদী পুনঃখননে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে। তবে দুই বছর পার হলেও গুরুত্বপূর্ণ এই প্রস্তাবটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন না পেয়ে পরিকল্পনা কমিশনে ফাইলবন্দী হয়ে আছে।
স্থানীয়রা জানান, পলি জমে নদী ভরাট হওয়ায় বর্ষায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বোরো চাষের জন্য জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ ও ফসল কাটা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। ২০২৪ সালে নেওয়া এই উদ্যোগ ২০২৬ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও অনুমোদন না মেলায় কাজ শুরুই করা যায়নি।
গত বোরো মৌসুমে দেখার হাওরে মহাসিং নদী ভরাট থাকায় ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়। পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে 'উথারিয়া বাঁধ' নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে এই বাঁধ কাটা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে বাঁধটি কেটে দেয়। তবে তার আগেই শত শত একর জমির ধান পচে নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষোভ, এত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও মহাসিং নদীটি পাউবোর প্রস্তাবিত পুনঃখনন তালিকা থেকেও বাদ পড়েছে।
হাওরাঞ্চলের সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল বলেন, পলি জমার পাশাপাশি অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট ও অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণের কারণে পানির স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ হচ্ছে। একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল হাওরবাসীকে বাঁচাতে অবিলম্বে নদী-নালা ও বিল পুনঃখনন প্রয়োজন।
প্রকল্পের বিষয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ এমদাদুল হক বলেন, ‘প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। আমরা আশা করছি খুব শীঘ্রই এর অনুমোদন পাওয়া যাবে।’

আপনার মতামত লিখুন