সংবাদ

দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৭ এএম

দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা
ছবি : সংগৃহীত

নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার পদে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া জটিলতার মুখে পড়েছে। দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করতে ঢাকার পক্ষ থেকে এক মাসেরও বেশি সময় আগে নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক সম্মতি বা ‘এগ্রিমেন্ট’ চাওয়া হলেও, ভারত এখনও এ বিষয়ে কোনো সাড়া দেয়নি। ফলে প্রস্তাবিত এই নিয়োগটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও কার্যকরকরণ আটকে গেছে।

কূটনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো দেশ অন্য দেশে মিশনপ্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বাগতিক দেশের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে কোনো দেশের জন্য প্রস্তাবিত প্রার্থীকে অনুমোদন না দিলে বা প্রস্তাব স্থগিত রাখলে তার নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা স্বাগতিক রাষ্ট্রের থাকে না। ফলে ভারতের এই নীরবতার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ্য না হলেও এটি আন্তর্জাতিক বার্তা বহন করছে।

দিল্লিতে বাংলাদেশের বর্তমান হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর জেনেভায় জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নতুন দায়িত্ব নিতে অক্টোবরের মাঝামাঝি স্থানান্তরের কথা রয়েছে। এর ঠিক পরপরই নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মিশনের নেতৃত্বে ফাঁকা পদ তৈরি হবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্বে আসা এবং পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা অভিজ্ঞ কূটনীতিক আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগ অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নয়া দিল্লিতে নতুন মিশনপ্রধানকে পাঠানো যাচ্ছে না।

দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক সম্পর্কে সাম্প্রতিক নানা টানাপোড়েনের মধ্যেই এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পূর্বনির্ধারিত ভারত সফর স্থগিত হওয়া, বিমসটেক চেয়ার হিসেবে নয়াদিল্লির ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে তার বা বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধির যোগ না দেওয়া এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ইত্যাদি ইস্যু বর্তমানে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

রাজনৈতিক টানাপোড়েন দৃশ্যমান হলেও দুই দেশের কারিগরি ও প্রশাসনিক স্তরের সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়নি। সম্প্রতি ঢাকায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং দ্বিপক্ষীয় সংযোগের কাজ সচল রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন ইস্যুতে ইতিবাচক বৈঠক করেছেন। তা সত্ত্বেও মূল পদে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সবুজ সংকেত না আসাটা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে আলোচনার নতুন মোড় তৈরি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার পদে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া জটিলতার মুখে পড়েছে। দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করতে ঢাকার পক্ষ থেকে এক মাসেরও বেশি সময় আগে নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক সম্মতি বা ‘এগ্রিমেন্ট’ চাওয়া হলেও, ভারত এখনও এ বিষয়ে কোনো সাড়া দেয়নি। ফলে প্রস্তাবিত এই নিয়োগটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও কার্যকরকরণ আটকে গেছে।

কূটনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো দেশ অন্য দেশে মিশনপ্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বাগতিক দেশের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে কোনো দেশের জন্য প্রস্তাবিত প্রার্থীকে অনুমোদন না দিলে বা প্রস্তাব স্থগিত রাখলে তার নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা স্বাগতিক রাষ্ট্রের থাকে না। ফলে ভারতের এই নীরবতার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ্য না হলেও এটি আন্তর্জাতিক বার্তা বহন করছে।

দিল্লিতে বাংলাদেশের বর্তমান হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর জেনেভায় জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নতুন দায়িত্ব নিতে অক্টোবরের মাঝামাঝি স্থানান্তরের কথা রয়েছে। এর ঠিক পরপরই নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মিশনের নেতৃত্বে ফাঁকা পদ তৈরি হবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্বে আসা এবং পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা অভিজ্ঞ কূটনীতিক আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগ অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নয়া দিল্লিতে নতুন মিশনপ্রধানকে পাঠানো যাচ্ছে না।

দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক সম্পর্কে সাম্প্রতিক নানা টানাপোড়েনের মধ্যেই এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পূর্বনির্ধারিত ভারত সফর স্থগিত হওয়া, বিমসটেক চেয়ার হিসেবে নয়াদিল্লির ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে তার বা বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধির যোগ না দেওয়া এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ইত্যাদি ইস্যু বর্তমানে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

রাজনৈতিক টানাপোড়েন দৃশ্যমান হলেও দুই দেশের কারিগরি ও প্রশাসনিক স্তরের সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়নি। সম্প্রতি ঢাকায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং দ্বিপক্ষীয় সংযোগের কাজ সচল রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন ইস্যুতে ইতিবাচক বৈঠক করেছেন। তা সত্ত্বেও মূল পদে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সবুজ সংকেত না আসাটা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে আলোচনার নতুন মোড় তৈরি করেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত