সংবাদ

জলবায়ু উদ্বাস্তুদের ফ্ল্যাট বরাদ্দে অনিয়ম, তদন্তের দাবি


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কক্সবাজার
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কক্সবাজার
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

জলবায়ু উদ্বাস্তুদের ফ্ল্যাট বরাদ্দে অনিয়ম, তদন্তের দাবি
ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারের খুরুশকুল জলবায়ু উদ্বাস্তু পুনর্বাসন প্রকল্পের ফ্ল্যাট বরাদ্দে অনিয়ম, উপকারভোগীর তালিকায় অসঙ্গতি এবং অর্থের বিনিময়ে সিরিয়াল বা ‘দরজা’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কুতুবদিয়া পাড়া সমাজের একটি পরিবারের নামে একাধিক সিরিয়াল থাকা এবং অন্য একটি সমাজের সিরিয়াল ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত জলবায়ু উদ্বাস্তুদের মধ্যে ফ্ল্যাট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দক্ষিণ কুতুবদিয়া পাড়া সমাজের একটি পরিবারের সঙ্গে চারটি সিরিয়ালের সংশ্লিষ্টতা কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পূর্ব কুতুবদিয়া পাড়া সমাজের একটি সিরিয়াল দক্ষিণ কুতুবদিয়া পাড়া সমাজের তালিকায় কীভাবে যুক্ত হলো, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পরিবারের নামে দুটি সিরিয়াল রয়েছে—SKP-184 ও SKP-183। এর বাইরে আরও তিনটি সিরিয়াল অর্থের বিনিময়ে অন্য ব্যক্তিদের কাছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সিরিয়ালগুলো হলো—EKP-622, SKP-551 ও SKP-500। তবে এসব সিরিয়াল অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে দেওয়ার অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীরা বলছেন, একই পরিবারের নামে একাধিক সিরিয়াল এবং ভিন্ন সমাজের সিরিয়াল অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। তারা উপকারভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, স্থায়ী ঠিকানা, পূর্বের বসতভিটার অবস্থান, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বাস্তুচ্যুতির কারণ, পুরোনো তালিকা এবং মাঠপর্যায়ের যাচাই প্রতিবেদন মিলিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তারকে অবহিত করা হলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের কথা জানান। সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তার সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

উল্লেখ্য, খুরুশকুল প্রকল্পের সুবিধাভোগী নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই সরকার ২০১১ সালে তৈরি ৪ হাজার ৪০৯ জনের পুরোনো সুবিধাভোগীর তালিকা বাতিল করে। সরকারি প্রজ্ঞাপনে তালিকাটিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ, প্রশ্নবিদ্ধ ও পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এরপর নতুন নীতিমালার আলোকে প্রকৃত উপকারভোগী বাছাই ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ খুরুশকুল প্রকল্প পরিদর্শনের সময় তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপকারভোগীর তালিকা প্রণয়নে স্বচ্ছতা, দায়িত্ব বণ্টন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

২০২৬ সালের ২ আগস্ট খুরুশকুল প্রকল্পে লটারির মাধ্যমে আরও ৭৩০টি পরিবারের মধ্যে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর আগে ৬০০ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছিল বলে ২০২৫ সালের মার্চে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন।

এদিকে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উপকারভোগী নির্বাচন ও পুনঃযাচাই ঘিরে নতুন অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

আবাসন

স্থানীয়দের দাবি, নতুন করে তালিকা চূড়ান্ত করার আগে প্রতিটি পরিবারের প্রকৃত বসতভিটা ও বাস্তুচ্যুতির ইতিহাস সরেজমিনে যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে কথিত অর্থ লেনদেন, সিরিয়াল পরিবর্তন এবং একাধিক সিরিয়ালের সঙ্গে একই পরিবারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, এত বড় একটি পুনর্বাসন প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত জলবায়ু উদ্বাস্তুদের কাছে পৌঁছাতে হলে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জলবায়ু উদ্বাস্তুদের ফ্ল্যাট বরাদ্দে অনিয়ম, তদন্তের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের খুরুশকুল জলবায়ু উদ্বাস্তু পুনর্বাসন প্রকল্পের ফ্ল্যাট বরাদ্দে অনিয়ম, উপকারভোগীর তালিকায় অসঙ্গতি এবং অর্থের বিনিময়ে সিরিয়াল বা ‘দরজা’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কুতুবদিয়া পাড়া সমাজের একটি পরিবারের নামে একাধিক সিরিয়াল থাকা এবং অন্য একটি সমাজের সিরিয়াল ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত জলবায়ু উদ্বাস্তুদের মধ্যে ফ্ল্যাট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দক্ষিণ কুতুবদিয়া পাড়া সমাজের একটি পরিবারের সঙ্গে চারটি সিরিয়ালের সংশ্লিষ্টতা কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পূর্ব কুতুবদিয়া পাড়া সমাজের একটি সিরিয়াল দক্ষিণ কুতুবদিয়া পাড়া সমাজের তালিকায় কীভাবে যুক্ত হলো, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পরিবারের নামে দুটি সিরিয়াল রয়েছে—SKP-184 ও SKP-183। এর বাইরে আরও তিনটি সিরিয়াল অর্থের বিনিময়ে অন্য ব্যক্তিদের কাছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সিরিয়ালগুলো হলো—EKP-622, SKP-551 ও SKP-500। তবে এসব সিরিয়াল অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে দেওয়ার অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীরা বলছেন, একই পরিবারের নামে একাধিক সিরিয়াল এবং ভিন্ন সমাজের সিরিয়াল অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। তারা উপকারভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, স্থায়ী ঠিকানা, পূর্বের বসতভিটার অবস্থান, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বাস্তুচ্যুতির কারণ, পুরোনো তালিকা এবং মাঠপর্যায়ের যাচাই প্রতিবেদন মিলিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তারকে অবহিত করা হলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের কথা জানান। সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তার সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

উল্লেখ্য, খুরুশকুল প্রকল্পের সুবিধাভোগী নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই সরকার ২০১১ সালে তৈরি ৪ হাজার ৪০৯ জনের পুরোনো সুবিধাভোগীর তালিকা বাতিল করে। সরকারি প্রজ্ঞাপনে তালিকাটিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ, প্রশ্নবিদ্ধ ও পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এরপর নতুন নীতিমালার আলোকে প্রকৃত উপকারভোগী বাছাই ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ খুরুশকুল প্রকল্প পরিদর্শনের সময় তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপকারভোগীর তালিকা প্রণয়নে স্বচ্ছতা, দায়িত্ব বণ্টন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

২০২৬ সালের ২ আগস্ট খুরুশকুল প্রকল্পে লটারির মাধ্যমে আরও ৭৩০টি পরিবারের মধ্যে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর আগে ৬০০ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছিল বলে ২০২৫ সালের মার্চে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন।

এদিকে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উপকারভোগী নির্বাচন ও পুনঃযাচাই ঘিরে নতুন অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

আবাসন

স্থানীয়দের দাবি, নতুন করে তালিকা চূড়ান্ত করার আগে প্রতিটি পরিবারের প্রকৃত বসতভিটা ও বাস্তুচ্যুতির ইতিহাস সরেজমিনে যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে কথিত অর্থ লেনদেন, সিরিয়াল পরিবর্তন এবং একাধিক সিরিয়ালের সঙ্গে একই পরিবারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, এত বড় একটি পুনর্বাসন প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত জলবায়ু উদ্বাস্তুদের কাছে পৌঁছাতে হলে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত