সংবাদ

সাংবাদিকের ওপর হামলায় দুই আসামির জামিনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ


জেলা বার্তা পরিবেশক, কুষ্টিয়া
জেলা বার্তা পরিবেশক, কুষ্টিয়া
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম

সাংবাদিকের ওপর হামলায় দুই আসামির জামিনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ
ছবি : সংবাদ

সাংবাদিকের ওপর হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামির জামিনের প্রতিবাদে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিকেরা। এ সময় প্রাঙ্গণে প্রবেশে পুলিশ বাধা দিলে তা উপেক্ষা করে প্রবেশ করেন তারা এবং সেখানে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এবং জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা হামলার ঘটনায় জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং গ্রেপ্তার আসামিদের জামিনের সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে পর্যালোচনার দাবি জানান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারককে কুষ্টিয়া থেকে প্রত্যাহারের দাবি তুলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সমাবেশে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল মামুন সাগর বলেন, 'সাংবাদিক উল্লাস হামলার শিকার হয়ে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অথচ গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানোর পর পরই জামিন দেওয়া হয়েছে। এতে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট বিচারককে প্রত্যাহার করা না হলে আদালত প্রাঙ্গণে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।'

কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন বলেন, 'পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক হামলার শিকার হলেন, অথচ আসামিরা সহজেই জামিন পেয়ে গেলেন। আমরা কথা বললেই আদালত অবমাননার কথা বলা হয়, কিন্তু কুষ্টিয়ার আদালতে কী হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন।'

এর আগে সকালে সাংবাদিকেরা আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে তারা পুলিশের বাঁধা ঠেলে ভেতরে ঢুকে অবস্থান নেন ও বিক্ষোভ শুরু করেন।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, সাংবাদিক উল্লাসের ওপর হামলার মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ও সংসদ সদস্যের দেহরক্ষী পরিচয়দানকারী রুহুল আমিনকে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কুমারখালীর চড়াইকোল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে শনিবার রাতে মামলার অন্য দুই আসামি আমিরুল ইসলাম ও মারুফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। রোববারে তাদের আদালতে পাঠালে বিজ্ঞ আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১টার দিকে কুমারখালী পৌরসভার কুন্ডুপাড়া এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন বাংলা টিভির প্রতিনিধি মাহবুবুল আহসান উল্লাস। এ ঘটনায় তিনি নিজে বাদী হয়ে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের ছেলে, ভাই ও দেহরক্ষীসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে কুমারখালী থানায় মামলা করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাংবাদিকের ওপর হামলায় দুই আসামির জামিনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সাংবাদিকের ওপর হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামির জামিনের প্রতিবাদে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিকেরা। এ সময় প্রাঙ্গণে প্রবেশে পুলিশ বাধা দিলে তা উপেক্ষা করে প্রবেশ করেন তারা এবং সেখানে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এবং জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা হামলার ঘটনায় জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং গ্রেপ্তার আসামিদের জামিনের সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে পর্যালোচনার দাবি জানান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারককে কুষ্টিয়া থেকে প্রত্যাহারের দাবি তুলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সমাবেশে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল মামুন সাগর বলেন, 'সাংবাদিক উল্লাস হামলার শিকার হয়ে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অথচ গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানোর পর পরই জামিন দেওয়া হয়েছে। এতে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট বিচারককে প্রত্যাহার করা না হলে আদালত প্রাঙ্গণে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।'

কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন বলেন, 'পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক হামলার শিকার হলেন, অথচ আসামিরা সহজেই জামিন পেয়ে গেলেন। আমরা কথা বললেই আদালত অবমাননার কথা বলা হয়, কিন্তু কুষ্টিয়ার আদালতে কী হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন।'

এর আগে সকালে সাংবাদিকেরা আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে তারা পুলিশের বাঁধা ঠেলে ভেতরে ঢুকে অবস্থান নেন ও বিক্ষোভ শুরু করেন।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, সাংবাদিক উল্লাসের ওপর হামলার মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ও সংসদ সদস্যের দেহরক্ষী পরিচয়দানকারী রুহুল আমিনকে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কুমারখালীর চড়াইকোল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে শনিবার রাতে মামলার অন্য দুই আসামি আমিরুল ইসলাম ও মারুফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। রোববারে তাদের আদালতে পাঠালে বিজ্ঞ আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১টার দিকে কুমারখালী পৌরসভার কুন্ডুপাড়া এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন বাংলা টিভির প্রতিনিধি মাহবুবুল আহসান উল্লাস। এ ঘটনায় তিনি নিজে বাদী হয়ে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের ছেলে, ভাই ও দেহরক্ষীসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে কুমারখালী থানায় মামলা করেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত