সংবাদ

কিশোর গ্যাং দমনে চাই টেকসই উদ্যোগ


প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম

কিশোর গ্যাং দমনে চাই টেকসই উদ্যোগ

কুমিল্লায় ১৮টি থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের অভিযানের প্রয়োজন রয়েছে। তবে কারও বিরুদ্ধে অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলে শুধু সন্দেহ, আড্ডা বা কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় অবস্থানের কারণে কাউকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। অপরাধী শনাক্তকরণে তথ্য-প্রমাণের ওপর নির্ভর করতে হবে। শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে আইনসম্মত ও সংবেদনশীল আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যা নতুন নয়। ২০১৫ সালের দিকে কয়েকটি গ্যাংয়ের তৎপরতার কথা জানা যায়। ২০২২ সালের দিকে কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা হয় অন্তত ২০টি। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ১২টি হত্যাকাণ্ডে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের নাম এসেছে। সর্বশেষ ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টিনতুন করে সামনে এসেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, শুধু অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে কিনা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আগেও ২৫০ জনের বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কিশোর হওয়ায় অনেকে দ্রুত মুক্তি পেয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। কাজেই কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়া কোনো কিশোর মুক্তির পর কী করছে সেটা নজরদারি করা দরকার। অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের পুনর্বাসনব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার পেছনে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক পরিবেশের ভূমিকা রয়েছে। তাই এই সমস্যার টেকসই সমাধানে অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনকে যুক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অপরাধে জড়িত কিশোরদের কাউন্সেলিং, শিক্ষা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার সুযোগও নিশ্চিত করা দরকার।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কিশোর গ্যাং দমনে চাই টেকসই উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লায় ১৮টি থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের অভিযানের প্রয়োজন রয়েছে। তবে কারও বিরুদ্ধে অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলে শুধু সন্দেহ, আড্ডা বা কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় অবস্থানের কারণে কাউকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। অপরাধী শনাক্তকরণে তথ্য-প্রমাণের ওপর নির্ভর করতে হবে। শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে আইনসম্মত ও সংবেদনশীল আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যা নতুন নয়। ২০১৫ সালের দিকে কয়েকটি গ্যাংয়ের তৎপরতার কথা জানা যায়। ২০২২ সালের দিকে কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা হয় অন্তত ২০টি। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ১২টি হত্যাকাণ্ডে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের নাম এসেছে। সর্বশেষ ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টিনতুন করে সামনে এসেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, শুধু অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে কিনা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আগেও ২৫০ জনের বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কিশোর হওয়ায় অনেকে দ্রুত মুক্তি পেয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। কাজেই কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়া কোনো কিশোর মুক্তির পর কী করছে সেটা নজরদারি করা দরকার। অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের পুনর্বাসনব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার পেছনে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক পরিবেশের ভূমিকা রয়েছে। তাই এই সমস্যার টেকসই সমাধানে অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনকে যুক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অপরাধে জড়িত কিশোরদের কাউন্সেলিং, শিক্ষা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার সুযোগও নিশ্চিত করা দরকার।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত