সংবাদ

তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ: গ্রেপ্তার দেখানো হলো বরখাস্ত মেজর মাঞ্জিলকে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ: গ্রেপ্তার দেখানো হলো বরখাস্ত মেজর মাঞ্জিলকে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর ও মিরপুর এলাকায় সংঘটিত দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা ও বরখাস্ত মেজর মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চাঞ্চল্যকর এই মামলাগুলোর তদন্তে আসামির প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং মূল পরিকল্পনাকারীদের মুখোশ উন্মোচন করতে তাকে এসব ঘটনায় আরও গভীরভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার নথিপত্র ও পুলিশি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই শেরেবাংলা নগর থানার ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ স্কুলের সামনে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, তৎকালীন প্রভাবশালী মন্ত্রীসহ আসামিদের সরাসরি নির্দেশে সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়। ওই হামলায় এক ছাত্র নেতা দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন এবং পরবর্তী সময়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে একাধিক বুলেট অপসারণ করা হয়।

এছাড়া, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মিরপুর মডেল থানার প্রধান সড়কে আরেকটি মিছিলে নির্বিচারে গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। সে সময় মইনুল ইসলাম তূর্য নামের এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে তাকে রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে আহত করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ৯ এপ্রিল রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকা থেকে বরখাস্ত এই কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একাধিক মামলায় তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

বর্তমানে তিনি মিরপুর মডেল থানায় দায়েরকৃত অন্য একটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে বারবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আন্দোলন দমনের নেপথ্যে থাকা গুম ও হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর আরও অনেক গোপন তথ্য বেরিয়ে আসবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ: গ্রেপ্তার দেখানো হলো বরখাস্ত মেজর মাঞ্জিলকে

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর ও মিরপুর এলাকায় সংঘটিত দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা ও বরখাস্ত মেজর মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চাঞ্চল্যকর এই মামলাগুলোর তদন্তে আসামির প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং মূল পরিকল্পনাকারীদের মুখোশ উন্মোচন করতে তাকে এসব ঘটনায় আরও গভীরভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার নথিপত্র ও পুলিশি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই শেরেবাংলা নগর থানার ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ স্কুলের সামনে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, তৎকালীন প্রভাবশালী মন্ত্রীসহ আসামিদের সরাসরি নির্দেশে সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়। ওই হামলায় এক ছাত্র নেতা দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন এবং পরবর্তী সময়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে একাধিক বুলেট অপসারণ করা হয়।

এছাড়া, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মিরপুর মডেল থানার প্রধান সড়কে আরেকটি মিছিলে নির্বিচারে গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। সে সময় মইনুল ইসলাম তূর্য নামের এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে তাকে রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে আহত করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ৯ এপ্রিল রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকা থেকে বরখাস্ত এই কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একাধিক মামলায় তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

বর্তমানে তিনি মিরপুর মডেল থানায় দায়েরকৃত অন্য একটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে বারবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আন্দোলন দমনের নেপথ্যে থাকা গুম ও হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর আরও অনেক গোপন তথ্য বেরিয়ে আসবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত