সংবাদ

যশোরের বেনাপোলে বাড়ছে মিষ্টি আখের চাষ


প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর)
প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫২ এএম

যশোরের বেনাপোলে বাড়ছে মিষ্টি আখের চাষ
ছবি : সংবাদ

গ্যান্ডারি ‘লিপস্টিক সুন্দরী’ ও ‘চায়না লাল সুন্দরী’সহ বিভিন্ন জাতের আখ চাষে সুদিন ফিরছে যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালি গ্রামের শতাধিক কৃষকের। পথের ধারে বসছে আখের বেচাকেনা। আখ চাষে লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন আবাদ বাড়ছে। এতে লাভবান হচ্ছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। দেশে যখন আখের আবাদ কমছে, ঠিক সে সময় বেনাপোলে বেড়েছে এর চাষ।

যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল, পুটখালী, বাগআঁচড়া, গোগা ও ডিহিসহ সীমান্ত এলাকাজুড়ে ধান, পাট, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন সবজি চাষের সুখ্যাতি ছিল। তবে অন্য ফসলে লাভ কম হওয়ায় অল্প খরচে অধিক লাভের আশায় দিনে দিনে এ অঞ্চলে মিষ্টি আখের চাষ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে শার্শা উপজেলায় প্রায় ৪৭ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। বিশেষ করে বেনাপোলের পুটখালী এলাকায় ব্যাপকভাবে হচ্ছে আখের চাষ। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার মিষ্টি আখ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

একদিকে সীমান্ত, অন্যদিকে সবুজ মাঠ-এরই মাঝে সারি সারি মিষ্টি আখ। বেনাপোলের পুটখালীতে এখন আখের বাগান ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। অল্প খরচে অধিক লাভ পাওয়ায় প্রতিবছরই বাড়ছে এই ফসলের আবাদ। প্রতি বিঘা জমিতে আখ চাষে খরচ হয় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে সেখান থেকে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন কৃষকেরা। ফলে কম খরচে বেশি লাভের আশায় অনেকেই আখ চাষে ঝুঁকছেন।

শুধু পুটখালী গ্রামেই শতাধিক কৃষক এখন আখ চাষের সঙ্গে যুক্ত। আখের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবেও বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি ফসল চাষ করছেন তারা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাস্তার পাশে ভ্যানে করেও বিক্রি হচ্ছে আখ। স্থানীয়রা ভ্যানেই যন্ত্র বসিয়ে আখের রস তৈরি করে বিক্রি করছেন। আবার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সরাসরি বাগানে এসেও আখ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।

পুটখালীর আখ মিষ্টি ও নরম হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বাগেরহাট, সিলেট, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এসে বাগান থেকে আখ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

শিক্ষিত বেকার যুবক তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘চাকরির পেছনে না ঘুরে উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা থেকে মাত্র পাঁচ কাঠা জমিতে আখ চাষ শুরু করেছিলাম। বর্তমানে আমার দুই বিঘা জমিতে আখ রয়েছে। আখ বিক্রির লাভের টাকা দিয়ে পরিবার ও সন্তানদের ভরণপোষণ চলছে।’

নাভারন থেকে আসা আখ ব্যবসায়ী আব্দুস শুকুর জানান, খোলা বাজারে আখ বিক্রিতে বেশি লাভ হওয়ায় তিনি পুটখালী থেকে আখ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় আখচাষি আরমান হোসেনসহ অনেকেই জানান, আখ চাষের সাফল্য দেখে এই অঞ্চলের অন্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি পুটখালীতে তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, ‘গ্যান্ডারি ঈশ্বরদী, এসআর ১৬ ও লিপস্টিক জাতের আখের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। সেই অনুযায়ী চাষ করে কৃষকেরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। আশা করছি, আগামী বছর আখের চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


যশোরের বেনাপোলে বাড়ছে মিষ্টি আখের চাষ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গ্যান্ডারি ‘লিপস্টিক সুন্দরী’ ও ‘চায়না লাল সুন্দরী’সহ বিভিন্ন জাতের আখ চাষে সুদিন ফিরছে যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালি গ্রামের শতাধিক কৃষকের। পথের ধারে বসছে আখের বেচাকেনা। আখ চাষে লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন আবাদ বাড়ছে। এতে লাভবান হচ্ছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। দেশে যখন আখের আবাদ কমছে, ঠিক সে সময় বেনাপোলে বেড়েছে এর চাষ।

যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল, পুটখালী, বাগআঁচড়া, গোগা ও ডিহিসহ সীমান্ত এলাকাজুড়ে ধান, পাট, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন সবজি চাষের সুখ্যাতি ছিল। তবে অন্য ফসলে লাভ কম হওয়ায় অল্প খরচে অধিক লাভের আশায় দিনে দিনে এ অঞ্চলে মিষ্টি আখের চাষ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে শার্শা উপজেলায় প্রায় ৪৭ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। বিশেষ করে বেনাপোলের পুটখালী এলাকায় ব্যাপকভাবে হচ্ছে আখের চাষ। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার মিষ্টি আখ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

একদিকে সীমান্ত, অন্যদিকে সবুজ মাঠ-এরই মাঝে সারি সারি মিষ্টি আখ। বেনাপোলের পুটখালীতে এখন আখের বাগান ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। অল্প খরচে অধিক লাভ পাওয়ায় প্রতিবছরই বাড়ছে এই ফসলের আবাদ। প্রতি বিঘা জমিতে আখ চাষে খরচ হয় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে সেখান থেকে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন কৃষকেরা। ফলে কম খরচে বেশি লাভের আশায় অনেকেই আখ চাষে ঝুঁকছেন।

শুধু পুটখালী গ্রামেই শতাধিক কৃষক এখন আখ চাষের সঙ্গে যুক্ত। আখের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবেও বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি ফসল চাষ করছেন তারা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাস্তার পাশে ভ্যানে করেও বিক্রি হচ্ছে আখ। স্থানীয়রা ভ্যানেই যন্ত্র বসিয়ে আখের রস তৈরি করে বিক্রি করছেন। আবার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সরাসরি বাগানে এসেও আখ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।

পুটখালীর আখ মিষ্টি ও নরম হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বাগেরহাট, সিলেট, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এসে বাগান থেকে আখ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

শিক্ষিত বেকার যুবক তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘চাকরির পেছনে না ঘুরে উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা থেকে মাত্র পাঁচ কাঠা জমিতে আখ চাষ শুরু করেছিলাম। বর্তমানে আমার দুই বিঘা জমিতে আখ রয়েছে। আখ বিক্রির লাভের টাকা দিয়ে পরিবার ও সন্তানদের ভরণপোষণ চলছে।’

নাভারন থেকে আসা আখ ব্যবসায়ী আব্দুস শুকুর জানান, খোলা বাজারে আখ বিক্রিতে বেশি লাভ হওয়ায় তিনি পুটখালী থেকে আখ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় আখচাষি আরমান হোসেনসহ অনেকেই জানান, আখ চাষের সাফল্য দেখে এই অঞ্চলের অন্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি পুটখালীতে তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, ‘গ্যান্ডারি ঈশ্বরদী, এসআর ১৬ ও লিপস্টিক জাতের আখের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। সেই অনুযায়ী চাষ করে কৃষকেরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। আশা করছি, আগামী বছর আখের চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত