সংবাদ

চোখের ক্লান্তিতে আই-মাসাজার, কারা ব্যবহার করবেন আর কারা নয়


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

চোখের ক্লান্তিতে আই-মাসাজার, কারা ব্যবহার করবেন আর কারা নয়

দিনের বড় একটা সময় কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও মোবাইলের স্ক্রিনে কাটছে অনেকের। অফিসের কাজ, পড়াশোনা কিংবা ফ্রিল্যান্সিংয়ের কারণে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকায় চোখে ক্লান্তি, জ্বালা, শুষ্কতা ও চোখের চারপাশে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব থাকলে এই অস্বস্তি আরও স্পষ্ট হয়।

এমন পরিস্থিতিতে সাময়িক স্বস্তির জন্য বাজারে পাওয়া যাচ্ছে আই-মাসাজার। দেখতে অনেকটা স্লিপ মাস্কের মতো এই বৈদ্যুতিন ডিভাইসটি কীভাবে কাজ করে এবং সবার জন্য এটি নিরাপদ কি না, তা জানা জরুরি।

আই-মাসাজারে থাকে যেসব সুবিধা

মডেলভেদে আই-মাসাজারে উষ্ণতা, হালকা কম্পন এবং এয়ার-প্রেশারের ব্যবস্থা থাকতে পারে। চোখ বন্ধ করে নির্দিষ্ট সময় ব্যবহার করলে চোখের চারপাশে ম্যাসাজের মতো অনুভূতি তৈরি হয়।

তবে এর উদ্দেশ্য চোখের কোনো রোগ সারানো নয়। দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের পর চোখের চারপাশের ক্লান্তি ও অস্বস্তিতে সাময়িক আরাম দেওয়াই মূল লক্ষ্য।

                 

যেভাবে আরাম দিতে পারে

  • উষ্ণতা: কিছু ডিভাইসে নিয়ন্ত্রিত তাপ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে। হালকা উষ্ণতা চোখের পাতার তেলগ্রন্থির কার্যকারিতায় সহায়তা করতে পারে। এতে কিছু মানুষের ড্রাই আইয়ের উপসর্গে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে।
  • মৃদু চাপ: কয়েকটি মডেলে থাকা এয়ার-ব্যাগ চোখের চারপাশে হালকা চাপ তৈরি করে। এতে ম্যাসাজের মতো অনুভূতি হয় এবং দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের পর চোখের চারপাশের টান ও ক্লান্তি কিছুটা আরামদায়ক মনে হতে পারে।
  • কম্পন: কিছু আই-মাসাজারে ভাইব্রেশন বা ম্যাসাজ মোড থাকে। হালকা কম্পনের মাধ্যমে চোখের চারপাশে আরামের অনুভূতি তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য।

কারা ব্যবহার করতে পারেন

যারা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা মোবাইল ব্যবহার করেন এবং এতে চোখে ক্লান্তি বা অস্বস্তি অনুভব করেন, তারা সাময়িক আরামের জন্য আই-মাসাজার ব্যবহার করতে পারেন। ঘুমানোর আগে ব্যবহার করাও অনেকের কাছে আরামদায়ক মনে হতে পারে।

তবে চোখের নিচের কালো দাগ বা দীর্ঘদিনের ফোলা ভাব দূর করার প্রমাণিত চিকিৎসা হিসেবে এটিকে দেখা যাবে না। এসব সমস্যার পেছনে ঘুমের অভাব, অ্যালার্জি, জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বা অন্য শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে।

যাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি

গ্লকোমা, চোখের সংক্রমণ, সাম্প্রতিক চোখের অস্ত্রোপচার কিংবা গুরুতর চোখের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আই-মাসাজার ব্যবহার না করাই ভালো।

কনজাঙ্কটিভাইটিসের মতো চোখের সংক্রমণ থাকলেও এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। একইভাবে কনট্যাক্ট লেন্স পরা অবস্থায় এই ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করা ঠিক নয়।

দাম কত

বাংলাদেশের বাজারে আই-মাসাজারের মূল্য মডেল ও ফিচারের ওপর নির্ভর করে। সাধারণ মডেলের দাম প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। উন্নত ফিচারযুক্ত মডেলের দাম ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

তবে চোখের ক্লান্তি কমানোর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত স্ক্রিন বিরতি এবং চোখের যত্নই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আই-মাসাজারকে চোখের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে না দেখে সাময়িক আরামের ডিভাইস হিসেবে বিবেচনা করাই ভালো।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


চোখের ক্লান্তিতে আই-মাসাজার, কারা ব্যবহার করবেন আর কারা নয়

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দিনের বড় একটা সময় কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও মোবাইলের স্ক্রিনে কাটছে অনেকের। অফিসের কাজ, পড়াশোনা কিংবা ফ্রিল্যান্সিংয়ের কারণে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকায় চোখে ক্লান্তি, জ্বালা, শুষ্কতা ও চোখের চারপাশে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব থাকলে এই অস্বস্তি আরও স্পষ্ট হয়।

এমন পরিস্থিতিতে সাময়িক স্বস্তির জন্য বাজারে পাওয়া যাচ্ছে আই-মাসাজার। দেখতে অনেকটা স্লিপ মাস্কের মতো এই বৈদ্যুতিন ডিভাইসটি কীভাবে কাজ করে এবং সবার জন্য এটি নিরাপদ কি না, তা জানা জরুরি।

আই-মাসাজারে থাকে যেসব সুবিধা

মডেলভেদে আই-মাসাজারে উষ্ণতা, হালকা কম্পন এবং এয়ার-প্রেশারের ব্যবস্থা থাকতে পারে। চোখ বন্ধ করে নির্দিষ্ট সময় ব্যবহার করলে চোখের চারপাশে ম্যাসাজের মতো অনুভূতি তৈরি হয়।

তবে এর উদ্দেশ্য চোখের কোনো রোগ সারানো নয়। দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের পর চোখের চারপাশের ক্লান্তি ও অস্বস্তিতে সাময়িক আরাম দেওয়াই মূল লক্ষ্য।

                 

যেভাবে আরাম দিতে পারে

  • উষ্ণতা: কিছু ডিভাইসে নিয়ন্ত্রিত তাপ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে। হালকা উষ্ণতা চোখের পাতার তেলগ্রন্থির কার্যকারিতায় সহায়তা করতে পারে। এতে কিছু মানুষের ড্রাই আইয়ের উপসর্গে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে।
  • মৃদু চাপ: কয়েকটি মডেলে থাকা এয়ার-ব্যাগ চোখের চারপাশে হালকা চাপ তৈরি করে। এতে ম্যাসাজের মতো অনুভূতি হয় এবং দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের পর চোখের চারপাশের টান ও ক্লান্তি কিছুটা আরামদায়ক মনে হতে পারে।
  • কম্পন: কিছু আই-মাসাজারে ভাইব্রেশন বা ম্যাসাজ মোড থাকে। হালকা কম্পনের মাধ্যমে চোখের চারপাশে আরামের অনুভূতি তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য।

কারা ব্যবহার করতে পারেন

যারা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা মোবাইল ব্যবহার করেন এবং এতে চোখে ক্লান্তি বা অস্বস্তি অনুভব করেন, তারা সাময়িক আরামের জন্য আই-মাসাজার ব্যবহার করতে পারেন। ঘুমানোর আগে ব্যবহার করাও অনেকের কাছে আরামদায়ক মনে হতে পারে।

তবে চোখের নিচের কালো দাগ বা দীর্ঘদিনের ফোলা ভাব দূর করার প্রমাণিত চিকিৎসা হিসেবে এটিকে দেখা যাবে না। এসব সমস্যার পেছনে ঘুমের অভাব, অ্যালার্জি, জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বা অন্য শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে।

যাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি

গ্লকোমা, চোখের সংক্রমণ, সাম্প্রতিক চোখের অস্ত্রোপচার কিংবা গুরুতর চোখের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আই-মাসাজার ব্যবহার না করাই ভালো।

কনজাঙ্কটিভাইটিসের মতো চোখের সংক্রমণ থাকলেও এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। একইভাবে কনট্যাক্ট লেন্স পরা অবস্থায় এই ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করা ঠিক নয়।

দাম কত

বাংলাদেশের বাজারে আই-মাসাজারের মূল্য মডেল ও ফিচারের ওপর নির্ভর করে। সাধারণ মডেলের দাম প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। উন্নত ফিচারযুক্ত মডেলের দাম ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

তবে চোখের ক্লান্তি কমানোর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত স্ক্রিন বিরতি এবং চোখের যত্নই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আই-মাসাজারকে চোখের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে না দেখে সাময়িক আরামের ডিভাইস হিসেবে বিবেচনা করাই ভালো।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত