সংবাদ

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে নবজাতকের শরীরে যে লক্ষণ দেখা দিতে পারে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪১ পিএম

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে নবজাতকের শরীরে যে লক্ষণ দেখা দিতে পারে

গর্ভাবস্থায় মায়েদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার মধ্যে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস অন্যতম। এ সময়ে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মায়ের শরীরে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদযন্ত্র ও কিডনির জটিলতাসহ দীর্ঘস্থায়ী বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়েদের প্রায় ৫০ শতাংশ পরবর্তী জীবনে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। তবে এর প্রভাব শুধু মায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নবজাতকের শরীরেও কিছু দৃশ্যমান লক্ষণ ও গুরুতর চিকিৎসাগত জটিলতা দেখা দিতে পারে।

শিশুর শরীরে কেন প্রভাব পড়ে

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে মায়ের শরীরে অতিরিক্ত গ্লুকোজ থাকলে তা প্লাসেন্টা মাধ্যমে শিশুর শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে নবজাতকের শরীরে কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখা যায়।

ম্যাক্রোসোমিয়া বা বেশি ওজন: এসব শিশুর জন্মের ওজন সাধারণ নবজাতকের তুলনায় বেশি হতে পারে। তাদের শরীর অনেক বড়, নাদুস-নুদুস ও গোল চেহারার দেখায়।

শরীরের রং বেশি লাল হওয়া: রক্তে লোহিত রক্তকণিকার আধিক্য বা পলিমেদ থাকার কারণে নবজাতকের গায়ের রং স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি লাল দেখাতে পারে।

কানে বেশি লোম: নবজাতকের কানে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত লোম দেখা যেতে পারে, যা সাধারণত অন্য নবজাতকের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।

জটিলতা এড়াতে যা জরুরি

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়ের সন্তান জন্মের পর দ্রুত সঠিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন।

১. উন্নত চিকিৎসাসুবিধায় প্রসব:

এ ধরনের মায়ের প্রসব এমন হাসপাতাল বা টারশিয়ারি কেয়ার সেন্টারে করানো প্রয়োজন, যেখানে দক্ষ শিশু বিশেষজ্ঞ, নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা এনআইসিইউ এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

২. জন্মের পর দ্রুত গ্লুকোজ পরীক্ষা ও বুকের দুধ:

শিশু জন্মের পরপরই স্ট্রিপের মাধ্যমে তার রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব মায়ের বুকের দুধ পান করাতে হবে।

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত ইঞ্জেকশন স্যালাইনের মাধ্যমে গ্লুকোজ দিতে হবে। কারণ গ্লুকোজের ঘাটতি হলে শিশুর মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতি বা পার্মানেন্ট ব্রেইন ড্যামেজ হতে পারে।

৩. গর্ভাবস্থায় মায়ের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ:

নবজাতকের এসব গুরুতর জটিলতা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন। এজন্য গর্ভাবস্থায় মায়ের রক্তের গ্লুকোজ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনসুলিন বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে নবজাতকের শরীরে যে লক্ষণ দেখা দিতে পারে

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

গর্ভাবস্থায় মায়েদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার মধ্যে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস অন্যতম। এ সময়ে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মায়ের শরীরে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদযন্ত্র ও কিডনির জটিলতাসহ দীর্ঘস্থায়ী বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়েদের প্রায় ৫০ শতাংশ পরবর্তী জীবনে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। তবে এর প্রভাব শুধু মায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নবজাতকের শরীরেও কিছু দৃশ্যমান লক্ষণ ও গুরুতর চিকিৎসাগত জটিলতা দেখা দিতে পারে।

শিশুর শরীরে কেন প্রভাব পড়ে

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে মায়ের শরীরে অতিরিক্ত গ্লুকোজ থাকলে তা প্লাসেন্টা মাধ্যমে শিশুর শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে নবজাতকের শরীরে কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখা যায়।

ম্যাক্রোসোমিয়া বা বেশি ওজন: এসব শিশুর জন্মের ওজন সাধারণ নবজাতকের তুলনায় বেশি হতে পারে। তাদের শরীর অনেক বড়, নাদুস-নুদুস ও গোল চেহারার দেখায়।

শরীরের রং বেশি লাল হওয়া: রক্তে লোহিত রক্তকণিকার আধিক্য বা পলিমেদ থাকার কারণে নবজাতকের গায়ের রং স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি লাল দেখাতে পারে।

কানে বেশি লোম: নবজাতকের কানে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত লোম দেখা যেতে পারে, যা সাধারণত অন্য নবজাতকের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।

জটিলতা এড়াতে যা জরুরি

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়ের সন্তান জন্মের পর দ্রুত সঠিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন।

১. উন্নত চিকিৎসাসুবিধায় প্রসব:

এ ধরনের মায়ের প্রসব এমন হাসপাতাল বা টারশিয়ারি কেয়ার সেন্টারে করানো প্রয়োজন, যেখানে দক্ষ শিশু বিশেষজ্ঞ, নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা এনআইসিইউ এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

২. জন্মের পর দ্রুত গ্লুকোজ পরীক্ষা ও বুকের দুধ:

শিশু জন্মের পরপরই স্ট্রিপের মাধ্যমে তার রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব মায়ের বুকের দুধ পান করাতে হবে।

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত ইঞ্জেকশন স্যালাইনের মাধ্যমে গ্লুকোজ দিতে হবে। কারণ গ্লুকোজের ঘাটতি হলে শিশুর মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতি বা পার্মানেন্ট ব্রেইন ড্যামেজ হতে পারে।

৩. গর্ভাবস্থায় মায়ের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ:

নবজাতকের এসব গুরুতর জটিলতা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন। এজন্য গর্ভাবস্থায় মায়ের রক্তের গ্লুকোজ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনসুলিন বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত