কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও সাবেক সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের প্রধান প্রত্যাশা ছিল তারা পুরোপুরি জনবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, কিন্তু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন নীতির চাপ সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর এসে পড়ছে। ভোজ্যতেলের দামও পুনরায় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় জনগণের জীবনযাত্রা চরম সংকটের মুখে পড়েছে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় ক্যাব সভাপতি মধ্যরাতে মূল্যবৃদ্ধির সংস্কৃতি অবিলম্বে বন্ধ করার এ দাবি জানিয়েছেন। সোমবার আয়োজিত এই মানববন্ধনে সব ধরনের নিত্যপণ্য, ওষুধ, এলপিজি সিলিন্ডার ও জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও বিভিন্ন গোষ্ঠী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছে। এ সময় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সরকার কি চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সত্যিই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে? দেশে সবকিছুর দাম লাগামহীনভাবে বাড়লেও তা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সামনে পবিত্র রমজান মাসকে বিশেষভাবে বিবেচনায় রেখে সরকারকে এখনই সিন্ডিকেট দমনে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ১৮ কোটি মানুষের না বলা দাবি শুনে জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়া, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গভীর রাতে গোপনে মূল্য বাড়ানোর পুরোনো সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের যৌক্তিক দাবিগুলো সরকার এখনো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করছে না এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, দুর্নীতিবাজ ও সিন্ডিকেট চক্র যত শক্তিশালীই হোক না কেন, দেশের সাধারণ মানুষের সম্মিলিত শক্তি তার চেয়ে অনেক বড়। মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব ধনীক শ্রেণীর চেয়ে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বহুগুণ বেশি পড়ছে।
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া বলেন, ক্যাব দেশের ১৮ কোটি মানুষের ভোক্তা অধিকারের প্রতিনিধিত্ব করে এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানকে প্রতিনিয়ত নিচের দিকে নামিয়ে দিচ্ছে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। বক্তারা সবাই এক বাক্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি বন্ধ না হলে এবং বিকল্প বাজারব্যবস্থা গড়ে না উঠলে সাধারণ মানুষ তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও সাবেক সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের প্রধান প্রত্যাশা ছিল তারা পুরোপুরি জনবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, কিন্তু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন নীতির চাপ সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর এসে পড়ছে। ভোজ্যতেলের দামও পুনরায় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় জনগণের জীবনযাত্রা চরম সংকটের মুখে পড়েছে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় ক্যাব সভাপতি মধ্যরাতে মূল্যবৃদ্ধির সংস্কৃতি অবিলম্বে বন্ধ করার এ দাবি জানিয়েছেন। সোমবার আয়োজিত এই মানববন্ধনে সব ধরনের নিত্যপণ্য, ওষুধ, এলপিজি সিলিন্ডার ও জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও বিভিন্ন গোষ্ঠী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছে। এ সময় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সরকার কি চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সত্যিই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে? দেশে সবকিছুর দাম লাগামহীনভাবে বাড়লেও তা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সামনে পবিত্র রমজান মাসকে বিশেষভাবে বিবেচনায় রেখে সরকারকে এখনই সিন্ডিকেট দমনে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ১৮ কোটি মানুষের না বলা দাবি শুনে জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়া, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গভীর রাতে গোপনে মূল্য বাড়ানোর পুরোনো সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের যৌক্তিক দাবিগুলো সরকার এখনো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করছে না এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, দুর্নীতিবাজ ও সিন্ডিকেট চক্র যত শক্তিশালীই হোক না কেন, দেশের সাধারণ মানুষের সম্মিলিত শক্তি তার চেয়ে অনেক বড়। মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব ধনীক শ্রেণীর চেয়ে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বহুগুণ বেশি পড়ছে।
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া বলেন, ক্যাব দেশের ১৮ কোটি মানুষের ভোক্তা অধিকারের প্রতিনিধিত্ব করে এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানকে প্রতিনিয়ত নিচের দিকে নামিয়ে দিচ্ছে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। বক্তারা সবাই এক বাক্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি বন্ধ না হলে এবং বিকল্প বাজারব্যবস্থা গড়ে না উঠলে সাধারণ মানুষ তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

আপনার মতামত লিখুন