কৃষক আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্র বাংলার ইতিহাসে স্মরণীয় এক নাম। ঝিনাইদহের শৈলকুপার বাগুটিয়া গ্রামে অবস্থিত তার পৈতৃক বাড়িটি ধ্বংসের পথে। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ইলা মিত্রের দাদা রাজমোহন সেন ১৮৯৯ সালে বাড়িটি নির্মাণ করেন। দেশভাগের পর তার পূর্বপুরুষেরা কলকাতায় চলে গেলে বাড়িটি বেদখল হয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে কয়েকটি পরিবার বসবাস করছে। একসময় বাড়িটিকে প্রত্নসম্পদ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে এ বিষয়ে সরকারি গেজেটও প্রকাশিত হয়। এরপর প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়নি।
বাড়িটির ছাদের অনেকাংশ ভেঙে গেছে। দেয়ালে ফাটল ধরেছে। দ্রুত সংস্কার না করলে ভবনটির ক্ষতি আরও বাড়বে। তখন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্মৃতিচিহ্ন হারিয়ে যাবে।
শুধু গেজেট প্রকাশ করলেই ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষিত হয় না। ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ। এজন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া দরকার। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ দরকার। বাড়িটিতে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ ও দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের পরিকল্পনা ও বরাদ্দের তালিকায় বাড়িটি রাখা হয়েছে। এই উদ্যোগ যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। নির্দিষ্ট সময়সীমা দিয়ে সংরক্ষণকাজ শুরু করতে হবে।
ইলা মিত্রের স্মৃতি রক্ষা করা মানে শুধু একটি পুরোনো বাড়ি রক্ষা করা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষকের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং আমাদের ইতিহাস। বিলম্ব না করে বাড়িটি সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
কৃষক আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্র বাংলার ইতিহাসে স্মরণীয় এক নাম। ঝিনাইদহের শৈলকুপার বাগুটিয়া গ্রামে অবস্থিত তার পৈতৃক বাড়িটি ধ্বংসের পথে। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ইলা মিত্রের দাদা রাজমোহন সেন ১৮৯৯ সালে বাড়িটি নির্মাণ করেন। দেশভাগের পর তার পূর্বপুরুষেরা কলকাতায় চলে গেলে বাড়িটি বেদখল হয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে কয়েকটি পরিবার বসবাস করছে। একসময় বাড়িটিকে প্রত্নসম্পদ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে এ বিষয়ে সরকারি গেজেটও প্রকাশিত হয়। এরপর প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়নি।
বাড়িটির ছাদের অনেকাংশ ভেঙে গেছে। দেয়ালে ফাটল ধরেছে। দ্রুত সংস্কার না করলে ভবনটির ক্ষতি আরও বাড়বে। তখন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্মৃতিচিহ্ন হারিয়ে যাবে।
শুধু গেজেট প্রকাশ করলেই ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষিত হয় না। ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ। এজন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া দরকার। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ দরকার। বাড়িটিতে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ ও দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের পরিকল্পনা ও বরাদ্দের তালিকায় বাড়িটি রাখা হয়েছে। এই উদ্যোগ যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। নির্দিষ্ট সময়সীমা দিয়ে সংরক্ষণকাজ শুরু করতে হবে।
ইলা মিত্রের স্মৃতি রক্ষা করা মানে শুধু একটি পুরোনো বাড়ি রক্ষা করা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষকের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং আমাদের ইতিহাস। বিলম্ব না করে বাড়িটি সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন