সংবাদ

সাইবার সুরক্ষার নামে মতপ্রকাশে বাধা নয়


প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৭ এএম

সাইবার সুরক্ষার নামে মতপ্রকাশে বাধা নয়

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ নিয়ে সম্পাদক পরিষদ ১২ দফা সুপারিশ দিয়েছে। প্রস্তাবিত আইন নিয়ে এর আগে বিভিন্ন অংশীজনকে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর আইনের প্রয়োজন আছে। তবে সেই আইন যেন মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা না হয় সেটা নিশ্চিত করা দরকার। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে অংশীজনদের উদ্বেগ তাই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।

সম্পাদক পরিষদ যেসব সুপারিশ দিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, তল্লাশি, ডিজিটাল যন্ত্র জব্দ ও নজরদারির আগে আদালতের অনুমতি নেওয়া। জরুরি প্রয়োজনে সংবাদ বা অনলাইন কনটেন্ট বন্ধ করা হলেও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিচারিক পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে সুপারিশে। সাংবাদিকের তথ্যসূত্রের গোপনীয়তা রক্ষা এবং জনস্বার্থে প্রকাশিত সংবাদকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

টিআইবির আশঙ্কা, খসড়াটির কিছু ধারা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। অস্পষ্ট সংজ্ঞার কারণে সরকারের সমালোচনা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কিংবা ভিন্নমতও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমন আইন কার্যকর হলে নাগরিকদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। এতে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিও দুর্বল হবে।

ভুল তথ্য ও গুজব ছড়ানো অবশ্যই প্রতিরোধ করতে হবে। অনলাইনে হয়রানি, প্রতারণা ও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি। তবে এসব অপরাধের সংজ্ঞা স্পষ্ট করতে হবে। শুধু সমালোচনা বা কারও অপছন্দের সংবাদ প্রকাশের কারণে কাউকে হয়রানি করা যাবে না। সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনের জন্য পুরো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার সুযোগও থাকা উচিত নয়।

আইন প্রয়োগে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের একক ক্ষমতা সীমিত করা প্রয়োজন। গ্রেপ্তার, তল্লাশি ও কনটেন্ট অপসারণের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদারকি এবং আপিলের সুযোগ রাখতে হবে।

প্রস্তাবিত আইন চূড়ান্ত করার আগে সাংবাদিক, আইনজ্ঞ, মানবাধিকারকর্মী, প্রযুক্তিবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত নিতে হবে। প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে আইনটিকে জনবান্ধব করতে হবে। ভারসাম্যপূর্ণ আইন করা হলে তার মাধ্যমে নাগরিকের অধিকার এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা উভয়ই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আমরা বিশ্বাস করতে চাই।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


সাইবার সুরক্ষার নামে মতপ্রকাশে বাধা নয়

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ নিয়ে সম্পাদক পরিষদ ১২ দফা সুপারিশ দিয়েছে। প্রস্তাবিত আইন নিয়ে এর আগে বিভিন্ন অংশীজনকে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর আইনের প্রয়োজন আছে। তবে সেই আইন যেন মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা না হয় সেটা নিশ্চিত করা দরকার। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে অংশীজনদের উদ্বেগ তাই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।

সম্পাদক পরিষদ যেসব সুপারিশ দিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, তল্লাশি, ডিজিটাল যন্ত্র জব্দ ও নজরদারির আগে আদালতের অনুমতি নেওয়া। জরুরি প্রয়োজনে সংবাদ বা অনলাইন কনটেন্ট বন্ধ করা হলেও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিচারিক পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে সুপারিশে। সাংবাদিকের তথ্যসূত্রের গোপনীয়তা রক্ষা এবং জনস্বার্থে প্রকাশিত সংবাদকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

টিআইবির আশঙ্কা, খসড়াটির কিছু ধারা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। অস্পষ্ট সংজ্ঞার কারণে সরকারের সমালোচনা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কিংবা ভিন্নমতও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমন আইন কার্যকর হলে নাগরিকদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। এতে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিও দুর্বল হবে।

ভুল তথ্য ও গুজব ছড়ানো অবশ্যই প্রতিরোধ করতে হবে। অনলাইনে হয়রানি, প্রতারণা ও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি। তবে এসব অপরাধের সংজ্ঞা স্পষ্ট করতে হবে। শুধু সমালোচনা বা কারও অপছন্দের সংবাদ প্রকাশের কারণে কাউকে হয়রানি করা যাবে না। সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনের জন্য পুরো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার সুযোগও থাকা উচিত নয়।

আইন প্রয়োগে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের একক ক্ষমতা সীমিত করা প্রয়োজন। গ্রেপ্তার, তল্লাশি ও কনটেন্ট অপসারণের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদারকি এবং আপিলের সুযোগ রাখতে হবে।

প্রস্তাবিত আইন চূড়ান্ত করার আগে সাংবাদিক, আইনজ্ঞ, মানবাধিকারকর্মী, প্রযুক্তিবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত নিতে হবে। প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে আইনটিকে জনবান্ধব করতে হবে। ভারসাম্যপূর্ণ আইন করা হলে তার মাধ্যমে নাগরিকের অধিকার এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা উভয়ই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আমরা বিশ্বাস করতে চাই।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত