সংবাদ

মেটার সঙ্গে সমঝোতা, স্ন্যাপের বিরুদ্ধে বিচার


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

মেটার সঙ্গে সমঝোতা, স্ন্যাপের বিরুদ্ধে বিচার

শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও আসক্তি নিয়ে করা একটি মামলায় বিচার শুরুর আগে সমঝোতায় পৌঁছেছে মেটা। এতে মামলার একমাত্র বিবাদী হিসেবে থাকছে স্ন্যাপ। আগামী মাসে মামলাটির বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মিসিসিপির ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী ‘কে.ডি.বি.’ মামলাটি করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করার অভ্যাসের কারণে রাতের পর রাত ঘুমাতে পারতেন না তিনি। শ্রেণিকক্ষেও মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হতো। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা ভিডিওর পদ্ধতি অনুসরণ করে নিজের ক্ষতি করার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

লস অ্যাঞ্জেলেসে চলতি সপ্তাহের শুরুতে মামলার জুরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। শুক্রবার বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, মেটার সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। এর আগে টিকটক ও ইউটিউবের সঙ্গেও সমঝোতায় পৌঁছান ওই তরুণী।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এমিলি জেফকট এক বিবৃতিতে বলেন, শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়ে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মামলাটির ন্যায়সংগত সমাধানে পৌঁছানোয় তাঁরা সন্তুষ্ট। তবে মেটার সঙ্গে সমঝোতার আর্থিক বা অন্যান্য শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্যও করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

আদালতে সাক্ষ্য দেবেন স্ন্যাপের প্রধান নির্বাহী

মেটার সরে দাঁড়ানোর পর মামলায় এখন একমাত্র বিবাদী স্ন্যাপ। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইভান স্পিগেলের আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে বিচারপ্রক্রিয়া।

স্পিগেল সাক্ষ্য দিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি নিয়ে কোনো মামলার বিচারে স্ন্যাপের প্রতিষ্ঠাতার আদালতে হাজির হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম হবে।

স্ন্যাপের দাবি, অভিযোগে ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে প্ল্যাটফর্ম

মামলার বিষয়ে মেটার সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি স্ন্যাপ। তবে প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, মামলায় স্ন্যাপচ্যাটের কার্যপদ্ধতি মৌলিকভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচলিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তুলনায় ভিন্নভাবে নকশা করা হয়েছে স্ন্যাপচ্যাট। অ্যাপটি চালু করলে প্রথমেই ক্যামেরা দেখা যায়, কোনো কনটেন্ট ফিড নয়। পাশাপাশি অন্যদের পোস্টের র‌্যাঙ্কিং বা সামাজিক তুলনার সুযোগও এতে নেই।

ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তায় বিভিন্ন সুরক্ষাব্যবস্থা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও শিক্ষামূলক উপকরণ যুক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের মতে, মামলার অভিযোগে বাদীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং প্ল্যাটফর্মটির নকশা সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি।

একই ধরনের মামলায় আগেও সমঝোতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি ও শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক মামলা হয়েছে। এর আগে একই ধরনের অভিযোগে করা আরেকটি আলোচিত মামলাতেও সমঝোতায় পৌঁছেছিল স্ন্যাপ।

পরে অন্য একটি মামলার বিচারে মেটা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে রায় দেন জুরিরা। ওই মামলায় প্রতিষ্ঠান দুটিকে ছয় মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া কিশোরদের দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর ঘটনায় স্ন্যাপচ্যাটের ‘স্পিড ফিল্টার’ ভূমিকা রেখেছিল - এমন অভিযোগে করা দীর্ঘদিনের আরেকটি মামলাতেও সম্প্রতি সমঝোতায় পৌঁছেছে স্ন্যাপ।

শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নকশা নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে স্ন্যাপের বিরুদ্ধে চলমান মামলাটির বিচার ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


মেটার সঙ্গে সমঝোতা, স্ন্যাপের বিরুদ্ধে বিচার

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও আসক্তি নিয়ে করা একটি মামলায় বিচার শুরুর আগে সমঝোতায় পৌঁছেছে মেটা। এতে মামলার একমাত্র বিবাদী হিসেবে থাকছে স্ন্যাপ। আগামী মাসে মামলাটির বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মিসিসিপির ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী ‘কে.ডি.বি.’ মামলাটি করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করার অভ্যাসের কারণে রাতের পর রাত ঘুমাতে পারতেন না তিনি। শ্রেণিকক্ষেও মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হতো। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা ভিডিওর পদ্ধতি অনুসরণ করে নিজের ক্ষতি করার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

লস অ্যাঞ্জেলেসে চলতি সপ্তাহের শুরুতে মামলার জুরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। শুক্রবার বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, মেটার সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। এর আগে টিকটক ও ইউটিউবের সঙ্গেও সমঝোতায় পৌঁছান ওই তরুণী।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এমিলি জেফকট এক বিবৃতিতে বলেন, শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়ে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মামলাটির ন্যায়সংগত সমাধানে পৌঁছানোয় তাঁরা সন্তুষ্ট। তবে মেটার সঙ্গে সমঝোতার আর্থিক বা অন্যান্য শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্যও করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

আদালতে সাক্ষ্য দেবেন স্ন্যাপের প্রধান নির্বাহী

মেটার সরে দাঁড়ানোর পর মামলায় এখন একমাত্র বিবাদী স্ন্যাপ। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইভান স্পিগেলের আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে বিচারপ্রক্রিয়া।

স্পিগেল সাক্ষ্য দিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি নিয়ে কোনো মামলার বিচারে স্ন্যাপের প্রতিষ্ঠাতার আদালতে হাজির হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম হবে।

স্ন্যাপের দাবি, অভিযোগে ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে প্ল্যাটফর্ম

মামলার বিষয়ে মেটার সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি স্ন্যাপ। তবে প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, মামলায় স্ন্যাপচ্যাটের কার্যপদ্ধতি মৌলিকভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচলিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তুলনায় ভিন্নভাবে নকশা করা হয়েছে স্ন্যাপচ্যাট। অ্যাপটি চালু করলে প্রথমেই ক্যামেরা দেখা যায়, কোনো কনটেন্ট ফিড নয়। পাশাপাশি অন্যদের পোস্টের র‌্যাঙ্কিং বা সামাজিক তুলনার সুযোগও এতে নেই।

ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তায় বিভিন্ন সুরক্ষাব্যবস্থা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও শিক্ষামূলক উপকরণ যুক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের মতে, মামলার অভিযোগে বাদীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং প্ল্যাটফর্মটির নকশা সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি।

একই ধরনের মামলায় আগেও সমঝোতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি ও শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক মামলা হয়েছে। এর আগে একই ধরনের অভিযোগে করা আরেকটি আলোচিত মামলাতেও সমঝোতায় পৌঁছেছিল স্ন্যাপ।

পরে অন্য একটি মামলার বিচারে মেটা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে রায় দেন জুরিরা। ওই মামলায় প্রতিষ্ঠান দুটিকে ছয় মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া কিশোরদের দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর ঘটনায় স্ন্যাপচ্যাটের ‘স্পিড ফিল্টার’ ভূমিকা রেখেছিল - এমন অভিযোগে করা দীর্ঘদিনের আরেকটি মামলাতেও সম্প্রতি সমঝোতায় পৌঁছেছে স্ন্যাপ।

শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নকশা নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে স্ন্যাপের বিরুদ্ধে চলমান মামলাটির বিচার ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত