চাকরির আবেদন থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁয় টেবিল বুকিং, এমনকি পরিবারের বাজারের তালিকা তৈরি - দৈনন্দিন নানা কাজ সহজ করতে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এআই এজেন্ট। এ ধরনের কাজে আলোচনায় রয়েছে মেটার মিউজ ও ওপেনএআইয়ের ডটস। ব্যবহারকারীর হয়ে ওয়েব ব্রাউজ করে একাধিক ধাপের কাজ সম্পন্ন করার সক্ষমতা রয়েছে দুই প্ল্যাটফর্মেরই। তবে বাস্তব কাজের ক্ষেত্রে দুটির দক্ষতায় কিছু পার্থক্য দেখা গেছে।
মিউজ ও ডটস সাধারণ চ্যাটবটের মতো শুধু প্রশ্নের উত্তর দেয় না। নিজস্ব ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে চাকরির আবেদন, রেস্তোরাঁ বুকিং কিংবা ইমেল পাঠানোর মতো কাজেও সহায়তা করতে পারে। তবে কোন কাজে কোনটি বেশি কার্যকর, তা বোঝার জন্য কয়েকটি দৈনন্দিন কাজের ভিত্তিতে তুলনা করা হয়েছে।
ওপেনএআইয়ের ডটস ব্যবহার করতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাসে ১০০ ডলারের ‘ChatGPT Pro 100’ সাবস্ক্রিপশন প্রয়োজন। সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার পর এজেন্ট সেটআপের অপশনে গিয়ে একটি নাম নির্বাচন করতে হবে। এরপর এর সঙ্গে জিমেইল যুক্ত করার ধাপ রয়েছে।
অন্যদিকে মেটার মিউজ ব্যবহার করতে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। অ্যাকাউন্ট তৈরির পর ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী নাম নির্ধারণ করে সেটআপ সম্পন্ন করতে হবে।
দুই প্ল্যাটফর্মের সক্ষমতা যাচাইয়ে প্রথমেই রেস্তোরাঁয় টেবিল বুকিংয়ের কাজ দেওয়া হয়। বিশেষ করে যেসব রেস্তোরাঁয় আসন পাওয়া কঠিন, সেখানে বুকিংয়ের দায়িত্ব সামলাতে পারে কি না, তা দেখা হয়।
এই পরীক্ষায় ডটস সফল হলেও মিউজ় টেবিল বুক করতে পারেনি। ফলে রেস্তোরাঁর আসন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ডটসের সক্ষমতা সামনে এসেছে।
জিমে পৌঁছানো কিংবা ক্লাইম্বিং শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় দুই এআই এজেন্টকে। এ ক্ষেত্রে ডটস কাজটি করতে রাজি হয়নি। কারণ হিসেবে জানিয়েছে, ব্যবহারকারীর রিয়েল টাইম অবস্থানের ভিত্তিতে কাজ করার সক্ষমতা তার নেই।
অন্যদিকে মিউজ কোনো আপত্তি ছাড়াই কাজটি করতে পারে। ফলে অবস্থানভিত্তিক কাজের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষায় মিউজ এগিয়ে ছিল।
চাকরি খোঁজা এবং আবেদন করার মতো একাধিক ধাপের কাজেও দুই প্ল্যাটফর্মের দক্ষতা যাচাই করা হয়। এ ক্ষেত্রে দুটির সক্ষমতা কাছাকাছি হলেও ডটসের ওয়েব ব্রাউজারে কিছু ত্রুটি দেখা যায়। এতে চাকরি খোঁজার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে মিউজ় তুলনামূলক দক্ষতার সঙ্গে কাজটি সম্পন্ন করতে পারে।
পরিবারের প্রতিদিনের খাবারের তালিকা তৈরি, প্রয়োজনীয় মুদিপণ্য কেনার পরিকল্পনা এবং রেস্তোরাঁর খাবার বাছাইয়ের মতো কাজ দেওয়া হয় দুই প্ল্যাটফর্মকে। এ ক্ষেত্রে মিউজ ও ডটসের পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়নি। দুটি প্ল্যাটফর্মই এসব কাজে সমান দক্ষতা দেখিয়েছে।
কোনো পণ্য কেনার আগে অনলাইন ও স্থানীয় দোকানের দাম তুলনা করা এবং কোথায় কম খরচে পণ্যটি পাওয়া যাবে, তা নির্ধারণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজেও মিউজ ও ডটসকে পরীক্ষা করা হয়। দুই প্ল্যাটফর্মই অনলাইন ও স্থানীয় দোকানের দামের পার্থক্য খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে কেনাকাটার পরিকল্পনায় দুটিকেই কাজে লাগানো যেতে পারে।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, সব ধরনের কাজে কোনো একটি প্ল্যাটফর্ম এককভাবে এগিয়ে নেই। রেস্তোরাঁ বুকিংয়ে ডটস সফল হলেও অবস্থানভিত্তিক ও চাকরির আবেদনসংক্রান্ত কাজে মিউজ ভালো করেছে। আবার খাবারের পরিকল্পনা ও পণ্যের দাম তুলনায় দুটির সক্ষমতা কাছাকাছি।
তবে ব্যবহারের খরচ বিবেচনায় বড় পার্থক্য রয়েছে। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডটস ব্যবহারে মাসে ১০০ ডলার খরচ হলেও মিউজ বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যায়। তাই কাজের ধরন, প্রয়োজন এবং সাবস্ক্রিপশন খরচ বিবেচনা করেই ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়া উচিত।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
চাকরির আবেদন থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁয় টেবিল বুকিং, এমনকি পরিবারের বাজারের তালিকা তৈরি - দৈনন্দিন নানা কাজ সহজ করতে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এআই এজেন্ট। এ ধরনের কাজে আলোচনায় রয়েছে মেটার মিউজ ও ওপেনএআইয়ের ডটস। ব্যবহারকারীর হয়ে ওয়েব ব্রাউজ করে একাধিক ধাপের কাজ সম্পন্ন করার সক্ষমতা রয়েছে দুই প্ল্যাটফর্মেরই। তবে বাস্তব কাজের ক্ষেত্রে দুটির দক্ষতায় কিছু পার্থক্য দেখা গেছে।
মিউজ ও ডটস সাধারণ চ্যাটবটের মতো শুধু প্রশ্নের উত্তর দেয় না। নিজস্ব ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে চাকরির আবেদন, রেস্তোরাঁ বুকিং কিংবা ইমেল পাঠানোর মতো কাজেও সহায়তা করতে পারে। তবে কোন কাজে কোনটি বেশি কার্যকর, তা বোঝার জন্য কয়েকটি দৈনন্দিন কাজের ভিত্তিতে তুলনা করা হয়েছে।
ওপেনএআইয়ের ডটস ব্যবহার করতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাসে ১০০ ডলারের ‘ChatGPT Pro 100’ সাবস্ক্রিপশন প্রয়োজন। সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার পর এজেন্ট সেটআপের অপশনে গিয়ে একটি নাম নির্বাচন করতে হবে। এরপর এর সঙ্গে জিমেইল যুক্ত করার ধাপ রয়েছে।
অন্যদিকে মেটার মিউজ ব্যবহার করতে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। অ্যাকাউন্ট তৈরির পর ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী নাম নির্ধারণ করে সেটআপ সম্পন্ন করতে হবে।
দুই প্ল্যাটফর্মের সক্ষমতা যাচাইয়ে প্রথমেই রেস্তোরাঁয় টেবিল বুকিংয়ের কাজ দেওয়া হয়। বিশেষ করে যেসব রেস্তোরাঁয় আসন পাওয়া কঠিন, সেখানে বুকিংয়ের দায়িত্ব সামলাতে পারে কি না, তা দেখা হয়।
এই পরীক্ষায় ডটস সফল হলেও মিউজ় টেবিল বুক করতে পারেনি। ফলে রেস্তোরাঁর আসন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ডটসের সক্ষমতা সামনে এসেছে।
জিমে পৌঁছানো কিংবা ক্লাইম্বিং শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় দুই এআই এজেন্টকে। এ ক্ষেত্রে ডটস কাজটি করতে রাজি হয়নি। কারণ হিসেবে জানিয়েছে, ব্যবহারকারীর রিয়েল টাইম অবস্থানের ভিত্তিতে কাজ করার সক্ষমতা তার নেই।
অন্যদিকে মিউজ কোনো আপত্তি ছাড়াই কাজটি করতে পারে। ফলে অবস্থানভিত্তিক কাজের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষায় মিউজ এগিয়ে ছিল।
চাকরি খোঁজা এবং আবেদন করার মতো একাধিক ধাপের কাজেও দুই প্ল্যাটফর্মের দক্ষতা যাচাই করা হয়। এ ক্ষেত্রে দুটির সক্ষমতা কাছাকাছি হলেও ডটসের ওয়েব ব্রাউজারে কিছু ত্রুটি দেখা যায়। এতে চাকরি খোঁজার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে মিউজ় তুলনামূলক দক্ষতার সঙ্গে কাজটি সম্পন্ন করতে পারে।
পরিবারের প্রতিদিনের খাবারের তালিকা তৈরি, প্রয়োজনীয় মুদিপণ্য কেনার পরিকল্পনা এবং রেস্তোরাঁর খাবার বাছাইয়ের মতো কাজ দেওয়া হয় দুই প্ল্যাটফর্মকে। এ ক্ষেত্রে মিউজ ও ডটসের পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়নি। দুটি প্ল্যাটফর্মই এসব কাজে সমান দক্ষতা দেখিয়েছে।
কোনো পণ্য কেনার আগে অনলাইন ও স্থানীয় দোকানের দাম তুলনা করা এবং কোথায় কম খরচে পণ্যটি পাওয়া যাবে, তা নির্ধারণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজেও মিউজ ও ডটসকে পরীক্ষা করা হয়। দুই প্ল্যাটফর্মই অনলাইন ও স্থানীয় দোকানের দামের পার্থক্য খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে কেনাকাটার পরিকল্পনায় দুটিকেই কাজে লাগানো যেতে পারে।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, সব ধরনের কাজে কোনো একটি প্ল্যাটফর্ম এককভাবে এগিয়ে নেই। রেস্তোরাঁ বুকিংয়ে ডটস সফল হলেও অবস্থানভিত্তিক ও চাকরির আবেদনসংক্রান্ত কাজে মিউজ ভালো করেছে। আবার খাবারের পরিকল্পনা ও পণ্যের দাম তুলনায় দুটির সক্ষমতা কাছাকাছি।
তবে ব্যবহারের খরচ বিবেচনায় বড় পার্থক্য রয়েছে। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডটস ব্যবহারে মাসে ১০০ ডলার খরচ হলেও মিউজ বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যায়। তাই কাজের ধরন, প্রয়োজন এবং সাবস্ক্রিপশন খরচ বিবেচনা করেই ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়া উচিত।

আপনার মতামত লিখুন