মৃগী রোগের চিকিৎসায় নিয়মিত ওষুধ সেবন করতেন বাওয়েন ওয়ান (৩১)। তবে ওষুধের মাত্রা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় পরামর্শ নিতে শুরু করেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির কাছে। অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের এআইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন এবং একপর্যায়ে তা বন্ধ করে দেন তিনি। এর কয়েক দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওপেনএআই ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বাওয়েনের মা-বাবা।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো কাউন্টির সুপিরিয়র কোর্টে মামলাটি করেন কুন ওয়ান ও মেইকিন জু। তাঁদের অভিযোগ, মেয়ের চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে এআইয়ের পরামর্শ ভূমিকা রেখেছিল। অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে বসবাস করতেন বাওয়েন। অ্যামাজনে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই মৃগী রোগে ভুগছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করতেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওষুধের মাত্রা নিয়ে চিকিৎসকের প্রতি একসময় সন্দেহ তৈরি হয় তাঁর। বিষয়টি বুঝতে ২০২৫ সালের মে মাসে ওপেনএআইয়ের চ্যাটবটের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন বাওয়েন। তাঁর মা-বাবার দাবি, এ বিষয়ে এআইয়ের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলতেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, এসব কথোপকথনে প্রথমে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয় এবং পরে ওষুধ বন্ধ করার কথাও বলা হয়। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওষুধসংক্রান্ত বিষয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার বার্তা আদান-প্রদান করেছিলেন বাওয়েন।
মা-বাবার অভিযোগ, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ওষুধ সেবন বন্ধ করে দেন বাওয়েন। এর পর ১২ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
বাওয়েনের মা-বাবা চীনে বসবাস করেন। মেয়ের মৃত্যুর আট মাস পর তাঁরা ওপেনএআই ও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন। মামলার নথি সংগ্রহ ও প্রস্তুতির দায়িত্বে ছিল শেঙ্ক ল ফার্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়া ভিকটিমস ল সেন্টার। এ কারণে মামলা করতে দেরি হয়েছে বলে তাঁরা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন।
মানসিক স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে এআই চ্যাটবটের পরামর্শ কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে আগেও বিতর্ক হয়েছে। চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে ১৬ বছর বয়সী অ্যাডাম রেইন এবং ৪০ বছর বয়সী অস্টিন গর্ডনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগও উঠেছে।
বাওয়েনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলাটি এআইয়ের দেওয়া স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শের সীমাবদ্ধতা এবং এ ধরনের প্রযুক্তির জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
মৃগী রোগের চিকিৎসায় নিয়মিত ওষুধ সেবন করতেন বাওয়েন ওয়ান (৩১)। তবে ওষুধের মাত্রা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় পরামর্শ নিতে শুরু করেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির কাছে। অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের এআইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন এবং একপর্যায়ে তা বন্ধ করে দেন তিনি। এর কয়েক দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওপেনএআই ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বাওয়েনের মা-বাবা।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো কাউন্টির সুপিরিয়র কোর্টে মামলাটি করেন কুন ওয়ান ও মেইকিন জু। তাঁদের অভিযোগ, মেয়ের চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে এআইয়ের পরামর্শ ভূমিকা রেখেছিল। অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে বসবাস করতেন বাওয়েন। অ্যামাজনে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই মৃগী রোগে ভুগছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করতেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওষুধের মাত্রা নিয়ে চিকিৎসকের প্রতি একসময় সন্দেহ তৈরি হয় তাঁর। বিষয়টি বুঝতে ২০২৫ সালের মে মাসে ওপেনএআইয়ের চ্যাটবটের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন বাওয়েন। তাঁর মা-বাবার দাবি, এ বিষয়ে এআইয়ের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলতেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, এসব কথোপকথনে প্রথমে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয় এবং পরে ওষুধ বন্ধ করার কথাও বলা হয়। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওষুধসংক্রান্ত বিষয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার বার্তা আদান-প্রদান করেছিলেন বাওয়েন।
মা-বাবার অভিযোগ, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ওষুধ সেবন বন্ধ করে দেন বাওয়েন। এর পর ১২ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
বাওয়েনের মা-বাবা চীনে বসবাস করেন। মেয়ের মৃত্যুর আট মাস পর তাঁরা ওপেনএআই ও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন। মামলার নথি সংগ্রহ ও প্রস্তুতির দায়িত্বে ছিল শেঙ্ক ল ফার্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়া ভিকটিমস ল সেন্টার। এ কারণে মামলা করতে দেরি হয়েছে বলে তাঁরা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন।
মানসিক স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে এআই চ্যাটবটের পরামর্শ কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে আগেও বিতর্ক হয়েছে। চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে ১৬ বছর বয়সী অ্যাডাম রেইন এবং ৪০ বছর বয়সী অস্টিন গর্ডনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগও উঠেছে।
বাওয়েনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলাটি এআইয়ের দেওয়া স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শের সীমাবদ্ধতা এবং এ ধরনের প্রযুক্তির জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন