ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার কুলিকুণ্ডা গ্রামে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি মেলা। প্রতিবছরের মতো এবারও পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে এ মেলা জমে উঠেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল থেকে দুই দিনব্যাপী এ শুঁটকি মেলা শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাংলা সনের দ্বিতীয় দিনে এ মেলা শুরু হলেও পুরোনো পঞ্জিকা অনুযায়ী দিনটি পয়লা বৈশাখ। স্থানীয় জেলেরা পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রায় দুই’শ বছর ধরে ব্যতিক্রমী এই মেলার আয়োজন করে আসছেন। একসময় মেলায় পণ্য বিনিময়ের (বিনিময় প্রথা) প্রচলন থাকলেও এখন নগদ টাকায় লেনদেন হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা বাহারি শুঁটকির পসরা নিয়ে বসেছেন। প্রায় দুই শতাধিক জাতের দেশি ও সামুদ্রিক শুঁটকি মেলায় বিক্রি হচ্ছে।
এর মধ্যে গজার, শোল, বাইম, বোয়াল, ছুরি, লইট্টা, পুঁটি ও টেংরাসহ নানা জাতের দেশীয় শুঁটকির কদর সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে আমদানি করা শুঁটকি এবং মাছের ডিমের শুঁটকিও নজর কাড়ছে ক্রেতাদের।
মেলায় শুঁটকি কিনতে আসা কান্দুরা গ্রামের মইন উদ্দিন (৩৯) বলেন, ‘ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে এই মেলায় আসতাম। সেই ঐতিহ্য এখনো টিকে আছে দেখে ভালো লাগছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে পছন্দের শুঁটকি কিনতে আসেন।’
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা থেকে আসা শুঁটকি ব্যবসায়ী সন্তোষ দাস বলেন, ‘আগে আমার বাবা এই মেলায় শুঁটকি বিক্রি করতেন। বাবা অসুস্থ হওয়ায় এখন আমি আসছি। এবার প্রায় ২৫ ধরনের শুঁটকি নিয়ে এসেছি। এখানে বেচাকেনা বেশ ভালো হয়।’
নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কুলিকুণ্ডা গ্রামের বাসিন্দা কে এম বশির উদ্দিন তুহিন বলেন, মেলাটি এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। সিলেট, চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ীরা এখানে শুঁটকি নিয়ে আসেন। দুই দিনের এই মেলায় কয়েক কোটি টাকার শুঁটকি বিক্রি হয় বলে তিনি জানান।
আপনার মতামত লিখুন