সাত মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবিতে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ে নিয়োজিত ২২ কর্মচারী মানববন্ধন করেছেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে মেডিকেল কলেজ চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা জানান, এ হাসপাতালে বর্তমানে ১৬০ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী কর্মরত আছেন। করোনাকালে জীবন বাজি রেখে তারা রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী বেতন শিটে স্বাক্ষর করার পর গত ৪ এপ্রিল তারা স্থানীয় অগ্রণী ব্যাংকে গিয়ে দেখেন, ১৬০ জনের মধ্যে ১৩৮ জনের অ্যাকাউন্টে টাকা এলেও বাকি ২২ জনের বেতন আসেনি। কোনো কারণ ছাড়াই তাদের বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং এখন তাদের চাকরিচ্যুত করার পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মানববন্ধনে আলামিন হোসেন নামের এক কর্মচারী বলেন, ‘আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গালফ সিকিউরিটি সার্ভিসের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে কাজ করছি। কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।’
আরেক কর্মচারী আজিজুল হক জানান, তার পরিবারে বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও স্কুল-কলেজপড়ুয়া তিন সন্তান রয়েছে। বেতন না পাওয়ায় তাদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।
কর্মচারী মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বেতন শিটে সই করার পরও তাদের টাকা আসেনি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গালফ সার্ভিসের ব্যবস্থাপক পারভেজ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগ ও ছাঁটাইয়ের বিষয়টি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গালফ সিকিউরিটি সার্ভিস। কর্মচারীদের ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গালফ সিকিউরিটি সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন