আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। রাজ্যে শুরু হতে চলেছে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। কিন্তু তার আগেই একের পর এক কড়া সিদ্ধান্তে সরব নির্বাচন কমিশন। সাইলেন্স পিরিয়ড, ১০০ মিটারের নিষেধাজ্ঞা, ১৬৩ ধারা জারি সব মিলিয়ে গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ঘিরে তৈরি হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়।
প্রথম দফার ভোটের আগে থেকেই শুরু হচ্ছে সাইলেন্স পিরিয়ড,
যেখানে কোনওরকম নির্বাচনী প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
রাখতে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক সেরেছে কমিশন। নির্দেশ দেওয়া
হয়েছে, ভোটের আগের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেআইনি জমায়েত রুখতে ১৬৩ ধারা কার্যকর করতে হবে।
বিশেষ করে যে সব এলাকায় ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক বেশি, সেই সব জায়গায় নজরদারি বাড়ানোর
উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে প্রচার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি
সেই এলাকা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুথের আশপাশে অযথা ভিড় বা
জমায়েত রুখতে কড়া নজরদারির কথাও বলা হয়েছে। ভোটার নন এমন কাউকে বুথের ভিতরে বা আশেপাশে
থাকতে দেওয়া হবে না।
তবে এবারের ভোটে সবথেকে বড় পরিবর্তন হিসেবে সামনে এসেছে
“ডাবল আইডেন্টিফিকেশন” ব্যবস্থা। ভোট দিতে গেলে ভোটারদের দু’দফায় পরিচয় যাচাইয়ের মধ্যে
দিয়ে যেতে হবে। প্রথমে বুথের বাইরে প্রাথমিক যাচাই, তারপর ভিতরে গিয়ে আবার ভোটার তালিকার
সঙ্গে নাম মিলিয়ে পরিচয়পত্র যাচাই, আঙুলে কালি লাগানো এবং রেজিস্টারে সই করার পরেই
মিলবে ভোট দেওয়ার অনুমতি। কমিশনের দাবি, ভুয়ো ভোট রুখতেই এই কড়াকড়ি। যদিও সাধারণ
ভোটারদের একাংশ মনে করছেন, এতে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠতে
পারে।
এরই মধ্যে আরও বড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন।
সূত্রের খবর, এবারের ভোটে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীকে অনেকটাই স্বাধীনভাবে কাজ করার
সুযোগ দেওয়া হতে পারে। কমান্ড্যান্টের নেতৃত্বে বাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং গুরুত্বপূর্ণ
পরিস্থিতিতে স্থানীয় পুলিশের ওপর নির্ভর না করেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে তারা। কোথাও
অশান্তি বা বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হলে ঊর্ধ্বতন নির্দেশের অপেক্ষা না করেই লাঠিচার্জের
মতো পদক্ষেপ করা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
শুধু তাই নয়, নিয়মিত রুট মার্চের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের
সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। দ্রুত হস্তক্ষেপের জন্য গঠন করা হয়েছে
কুইক রেসপন্স টিম। নজরদারি বাড়াতে তাদের গাড়িতে সিসিটিভি বসানো হচ্ছে এবং বিভিন্ন
এলাকায় দ্রুত পৌঁছতে বাইক ব্যবহারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা এবং হাওড়া জেলায় নিরাপত্তা
আরও জোরদার করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয়
বাহিনীর হাতে আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি লাঠিও তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই
বিপুল পরিমাণ লাঠি সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
যদিও এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে
বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবুও একের পর এক কড়া সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু
হয়েছে তীব্র আলোচনা। প্রশাসনিক স্তরে দফায় দফায় বদলি এবং কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে সাধারণ
ভোটারদের একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগও। অনেকেই মনে করছেন, ভোট দিতে গিয়ে যেন বারবার
পরীক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে এই কড়া অবস্থান
কতটা কার্যকর হয়, নাকি তা সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করে এখন সেই দিকেই নজর
রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ ভোটার সকলের।

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। রাজ্যে শুরু হতে চলেছে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। কিন্তু তার আগেই একের পর এক কড়া সিদ্ধান্তে সরব নির্বাচন কমিশন। সাইলেন্স পিরিয়ড, ১০০ মিটারের নিষেধাজ্ঞা, ১৬৩ ধারা জারি সব মিলিয়ে গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ঘিরে তৈরি হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়।
প্রথম দফার ভোটের আগে থেকেই শুরু হচ্ছে সাইলেন্স পিরিয়ড,
যেখানে কোনওরকম নির্বাচনী প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
রাখতে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক সেরেছে কমিশন। নির্দেশ দেওয়া
হয়েছে, ভোটের আগের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেআইনি জমায়েত রুখতে ১৬৩ ধারা কার্যকর করতে হবে।
বিশেষ করে যে সব এলাকায় ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক বেশি, সেই সব জায়গায় নজরদারি বাড়ানোর
উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে প্রচার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি
সেই এলাকা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুথের আশপাশে অযথা ভিড় বা
জমায়েত রুখতে কড়া নজরদারির কথাও বলা হয়েছে। ভোটার নন এমন কাউকে বুথের ভিতরে বা আশেপাশে
থাকতে দেওয়া হবে না।
তবে এবারের ভোটে সবথেকে বড় পরিবর্তন হিসেবে সামনে এসেছে
“ডাবল আইডেন্টিফিকেশন” ব্যবস্থা। ভোট দিতে গেলে ভোটারদের দু’দফায় পরিচয় যাচাইয়ের মধ্যে
দিয়ে যেতে হবে। প্রথমে বুথের বাইরে প্রাথমিক যাচাই, তারপর ভিতরে গিয়ে আবার ভোটার তালিকার
সঙ্গে নাম মিলিয়ে পরিচয়পত্র যাচাই, আঙুলে কালি লাগানো এবং রেজিস্টারে সই করার পরেই
মিলবে ভোট দেওয়ার অনুমতি। কমিশনের দাবি, ভুয়ো ভোট রুখতেই এই কড়াকড়ি। যদিও সাধারণ
ভোটারদের একাংশ মনে করছেন, এতে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠতে
পারে।
এরই মধ্যে আরও বড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন।
সূত্রের খবর, এবারের ভোটে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীকে অনেকটাই স্বাধীনভাবে কাজ করার
সুযোগ দেওয়া হতে পারে। কমান্ড্যান্টের নেতৃত্বে বাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং গুরুত্বপূর্ণ
পরিস্থিতিতে স্থানীয় পুলিশের ওপর নির্ভর না করেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে তারা। কোথাও
অশান্তি বা বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হলে ঊর্ধ্বতন নির্দেশের অপেক্ষা না করেই লাঠিচার্জের
মতো পদক্ষেপ করা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
শুধু তাই নয়, নিয়মিত রুট মার্চের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের
সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। দ্রুত হস্তক্ষেপের জন্য গঠন করা হয়েছে
কুইক রেসপন্স টিম। নজরদারি বাড়াতে তাদের গাড়িতে সিসিটিভি বসানো হচ্ছে এবং বিভিন্ন
এলাকায় দ্রুত পৌঁছতে বাইক ব্যবহারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা এবং হাওড়া জেলায় নিরাপত্তা
আরও জোরদার করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয়
বাহিনীর হাতে আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি লাঠিও তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই
বিপুল পরিমাণ লাঠি সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
যদিও এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে
বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবুও একের পর এক কড়া সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু
হয়েছে তীব্র আলোচনা। প্রশাসনিক স্তরে দফায় দফায় বদলি এবং কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে সাধারণ
ভোটারদের একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগও। অনেকেই মনে করছেন, ভোট দিতে গিয়ে যেন বারবার
পরীক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে এই কড়া অবস্থান
কতটা কার্যকর হয়, নাকি তা সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করে এখন সেই দিকেই নজর
রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ ভোটার সকলের।

আপনার মতামত লিখুন