সংবাদ

উৎপাদন খরচ ১০০০, বাজারে বিক্রি ৬৭০

সুনামগঞ্জে আগাম বন্যার আতঙ্ক, পানির দরে বিক্রি হচ্ছে ধান


লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ
লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

সুনামগঞ্জে আগাম বন্যার আতঙ্ক, পানির দরে বিক্রি হচ্ছে ধান
ছবি : সংগৃহীত

একদিকে নদ-নদীর পানি বেড়ে আগাম বন্যার আশঙ্কা, অন্যদিকে শ্রমিকের সংকট ও ধানের অস্বাভাবিক কম বাজারমূল্য-এই ত্রিমুখী সংকটে সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের কৃষকেরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ধান কাটার ভরা মৌসুমে হাসি থাকার কথা থাকলেও কৃষকের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এই ফসল রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করেছে।

তবে কৃষকদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত বাঁধ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পাউবো জানিয়েছে, পাহাড়ি ঢলে সুরমা, কুশিয়ারা ও বৌলাইসহ প্রধান নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে। এ অবস্থায় নিচু এলাকার ধান দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু ধান কাটার শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যদিও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুকের দাবি, জেলায় ৯০ হাজার শ্রমিক এবং ৬০২টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার কাজ করছে।

তবে এই তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী। তিনি বলেন, সরকারি তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জায়গায় মেশিন চালানো যাচ্ছে না।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক ইউপি সদস্য রেদওয়ান আলী ও তাহিরপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান, নিচু এলাকার ধান তলিয়ে যাচ্ছে। ৭০০-৮০০ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টির কারণে ধান শুকানোর জায়গা নেই, ফলে বাধ্য হয়ে কাঁচা ধান কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

শাল্লা উপজেলার কৃষক কৃপেশ দাসের আক্ষেপ, ‘প্রতি মণ ধানে উৎপাদন খরচ পড়ছে প্রায় ১০০০ টাকা। অথচ বাজারে ভেজা ধান বিক্রি করতে হচ্ছে ৬৩০ থেকে ৬৭০ টাকায়। ধান চাষ এখন আমাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু না হওয়ায় কৃষকেরা মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এই সংকটের কথা জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি উৎপাদন খরচের সঙ্গে সংগতি রেখে ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য মণপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।

 জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস জানিয়েছে, সরকার প্রতি কেজি ধানের মূল্য ৩৬ টাকা (মণপ্রতি ১,৪৪০ টাকা) নির্ধারণ করেছে। তবে সাধারণ কৃষকেরা এই সুফল এখনো পাচ্ছেন না।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


সুনামগঞ্জে আগাম বন্যার আতঙ্ক, পানির দরে বিক্রি হচ্ছে ধান

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

একদিকে নদ-নদীর পানি বেড়ে আগাম বন্যার আশঙ্কা, অন্যদিকে শ্রমিকের সংকট ও ধানের অস্বাভাবিক কম বাজারমূল্য-এই ত্রিমুখী সংকটে সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের কৃষকেরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ধান কাটার ভরা মৌসুমে হাসি থাকার কথা থাকলেও কৃষকের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এই ফসল রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করেছে।

তবে কৃষকদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত বাঁধ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পাউবো জানিয়েছে, পাহাড়ি ঢলে সুরমা, কুশিয়ারা ও বৌলাইসহ প্রধান নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে। এ অবস্থায় নিচু এলাকার ধান দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু ধান কাটার শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যদিও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুকের দাবি, জেলায় ৯০ হাজার শ্রমিক এবং ৬০২টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার কাজ করছে।

তবে এই তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী। তিনি বলেন, সরকারি তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জায়গায় মেশিন চালানো যাচ্ছে না।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক ইউপি সদস্য রেদওয়ান আলী ও তাহিরপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান, নিচু এলাকার ধান তলিয়ে যাচ্ছে। ৭০০-৮০০ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টির কারণে ধান শুকানোর জায়গা নেই, ফলে বাধ্য হয়ে কাঁচা ধান কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

শাল্লা উপজেলার কৃষক কৃপেশ দাসের আক্ষেপ, ‘প্রতি মণ ধানে উৎপাদন খরচ পড়ছে প্রায় ১০০০ টাকা। অথচ বাজারে ভেজা ধান বিক্রি করতে হচ্ছে ৬৩০ থেকে ৬৭০ টাকায়। ধান চাষ এখন আমাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু না হওয়ায় কৃষকেরা মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এই সংকটের কথা জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি উৎপাদন খরচের সঙ্গে সংগতি রেখে ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য মণপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।

 জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস জানিয়েছে, সরকার প্রতি কেজি ধানের মূল্য ৩৬ টাকা (মণপ্রতি ১,৪৪০ টাকা) নির্ধারণ করেছে। তবে সাধারণ কৃষকেরা এই সুফল এখনো পাচ্ছেন না।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত