বাঘের তাড়া খেয়ে সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে চলে এসেছিল একটি চিত্রল হরিণ। গ্রামবাসী হরিণটিকে ধরার পর পিটিয়ে মারা তো দূরের কথা, পরম যত্নে কেউ ক্ষতস্থানে ওষুধ লাগিয়ে দিচ্ছিলেন, কেউবা খাওয়াচ্ছিলেন বিশুদ্ধ পানি। গত ১৯ এপ্রিল বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামে দেখা গেছে বন্যপ্রাণীর প্রতি মানুষের এই অনন্য সহমর্মিতার চিত্র।
সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয়ে একসময় বন্য প্রাণীর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ছিল চরম সংঘাতের। লোকালয়ে হরিণ, বাঘ বা বন্য শূকর চলে এলে মানুষ দল বেঁধে পিটিয়ে মারত। তবে গত দুই দশকে এই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। সরকারি-বেসরকারি সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং বন ব্যবস্থাপনায় স্থানীয়দের অংশীদারত্বের ফলে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে সিডর ও আইলার মতো দুর্যোগে সুন্দরবন যেভাবে ঢাল হয়ে লোকালয়কে রক্ষা করেছে, তা মানুষের মনে বনের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করেছে।
বন বিভাগ জানায়, গত ১৯ এপ্রিল সকালে খুড়িয়াখালী গ্রামের জামাল মীরের পুকুরপাড়ে হরিণটি আশ্রয় নেয়। পরে বন বিভাগ, ওয়াইল্ড টিম, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআরটি) ও স্থানীয়রা মিলে হরিণটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন। আনুমানিক ২৫ কেজি ওজনের হরিণটি পরে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়।
ওয়াইল্ড টিমের শরণখোলা ফিল্ড অফিসার মো. আলম হাওলাদার জানান, শুধু হরিণই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় অর্ধশতাধিক বিষধর সাপ ও বাজপাখি উদ্ধার করে বনে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি কিছুদিন আগে একটি অজগর লোকালয়ে এসে দিনমজুরের ছাগল গিলে খেলেও গ্রামবাসী সেটিকে কোনো আঘাত না করে নিরাপদে বনে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত সহায়তায় আমরা হরিণটিকে উদ্ধার করতে পেরেছি। বন্য প্রাণী রক্ষায় এটি একটি বড় অর্জন।’
সুন্দরবন সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি এম ওয়াদুদ আকন বলেন, আগে মানুষ বন্যপ্রাণী হত্যা করে আনন্দ পেত। এখন সেই মানুষগুলোই বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে বনে ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্যে সার্থকতা খুঁজে পায়। বন ও পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে এটি এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
আপনার মতামত লিখুন