সংবাদ

টেকনাফ থেকে চকরিয়া : খুনের হিড়িক, জননিরাপত্তা নিয়ে বড় শঙ্কা


জসিম সিদ্দিকী, কক্সবাজার
জসিম সিদ্দিকী, কক্সবাজার
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

টেকনাফ থেকে চকরিয়া : খুনের হিড়িক, জননিরাপত্তা নিয়ে বড় শঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় গত তিন দিনে নারী ও তরুণসহ অন্তত ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও নির্যাতনের একের পর এক ঘটনায় জেলাজুড়ে জনমনে গভীর আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় অপরাধী চক্রের সক্রিয়তার কারণে হত্যা, অপহরণ ও মানবপাচারের মতো অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

সর্বশেষ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের মিস্ত্রীপাড়া এলাকায় তানিয়া আক্তার (২১) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তানিয়া ওই এলাকার মকতুল হোসেনের পুত্রবধূ।

তার স্বজনদের অভিযোগ, স্বামী শাহরিয়াত তাকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। মৃত্যুর আগে তানিয়া তার মুঠোফোনে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় আকুতি জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আমাকে অনেক মারধর করছে, আমাকে বাঁচাও! না হলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ স্বামী শাহরিয়াত বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

একই দিন সকালে চকরিয়া উপজেলার হাজিয়ান এলাকায় একটি তামাকখেত থেকে রাকিবুল ইসলাম (১৮) নামের এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রাকিবুল স্থানীয় একটি ফুচকার দোকানের কর্মচারী ছিলেন।

পুলিশের ধারণা, তাকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে বা মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহে আঘাতের একাধিক চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, আগের রাতে দুই ব্যক্তি তাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি আর ফেরেননি।

এর আগে গত মঙ্গলবার টেকনাফ উপজেলার উত্তর শীলখালী এলাকার দুর্গম পাহাড় থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন-রবি আলম, মুজিব উল্লাহ ও নুরুল বশর। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া রক্তমাখা কোদাল দিয়ে তাদের আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

একই দিন ঈদগাঁও উপজেলার কালিরছড়া খাল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মো. জিহাদ (১৮) নামের আরেক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চকরিয়া ও টেকনাফসহ সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্বল্প সময়ের ব্যবধানে খুনের পাশাপাশি অপহরণ, চুরি-ডাকাতি ও মানবপাচারের অভিযোগ বেড়ে যাওয়ায় কক্সবাজারের সাধারণ মানুষ এখন চরম অস্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছেন।

অপরাধ বিশ্লেষকেরা বলছেন, দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব না হলে পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


টেকনাফ থেকে চকরিয়া : খুনের হিড়িক, জননিরাপত্তা নিয়ে বড় শঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় গত তিন দিনে নারী ও তরুণসহ অন্তত ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও নির্যাতনের একের পর এক ঘটনায় জেলাজুড়ে জনমনে গভীর আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় অপরাধী চক্রের সক্রিয়তার কারণে হত্যা, অপহরণ ও মানবপাচারের মতো অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

সর্বশেষ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের মিস্ত্রীপাড়া এলাকায় তানিয়া আক্তার (২১) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তানিয়া ওই এলাকার মকতুল হোসেনের পুত্রবধূ।

তার স্বজনদের অভিযোগ, স্বামী শাহরিয়াত তাকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। মৃত্যুর আগে তানিয়া তার মুঠোফোনে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় আকুতি জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আমাকে অনেক মারধর করছে, আমাকে বাঁচাও! না হলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ স্বামী শাহরিয়াত বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

একই দিন সকালে চকরিয়া উপজেলার হাজিয়ান এলাকায় একটি তামাকখেত থেকে রাকিবুল ইসলাম (১৮) নামের এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রাকিবুল স্থানীয় একটি ফুচকার দোকানের কর্মচারী ছিলেন।

পুলিশের ধারণা, তাকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে বা মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহে আঘাতের একাধিক চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, আগের রাতে দুই ব্যক্তি তাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি আর ফেরেননি।

এর আগে গত মঙ্গলবার টেকনাফ উপজেলার উত্তর শীলখালী এলাকার দুর্গম পাহাড় থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন-রবি আলম, মুজিব উল্লাহ ও নুরুল বশর। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া রক্তমাখা কোদাল দিয়ে তাদের আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

একই দিন ঈদগাঁও উপজেলার কালিরছড়া খাল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মো. জিহাদ (১৮) নামের আরেক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চকরিয়া ও টেকনাফসহ সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্বল্প সময়ের ব্যবধানে খুনের পাশাপাশি অপহরণ, চুরি-ডাকাতি ও মানবপাচারের অভিযোগ বেড়ে যাওয়ায় কক্সবাজারের সাধারণ মানুষ এখন চরম অস্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছেন।

অপরাধ বিশ্লেষকেরা বলছেন, দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব না হলে পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠতে পারে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত