জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হওয়া চার সাংবাদিকের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সোমবার আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের কাছে ই-মেইলে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি জানানো হয়।
সিপিজে বলেছে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা তুলে নেওয়ার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বিএনপির সরকার মানবে বলেই তারা আশা করে। যে চার সাংবাদিকের মুক্তি চেয়েছে তারা হলেন- ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল হক বাবু ও শ্যামল দত্ত।
সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর কুনাল মজুমদার চিঠিতে লিখেছেন, হত্যা মামলায় চার সাংবাদিককে ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে আটক রাখা হয়েছে। সংগঠটির নথিপত্র, পরিবারের সাক্ষ্য ও আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞদের পর্যালোচনার ভিত্তিতে দেখা গেছে, অভিযোগের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এ পর্যন্ত কোনো অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়নি।
চিঠিতে বলা হয়, এসব মামলার ধরন দেখে মনে হয়, এগুলো সাংবাদিকদের প্রতিবেদন ও রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। সরকার প্রকাশ্যে এসব চর্চা থেকে বেরিয়ে আসার ইচ্ছা পোষণ করেছে বলে উল্লেখ করে সিপিজে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। চিঠিতে গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরা হয়েছে—
ফারজানা রূপা: ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাকে দুই সপ্তাহের জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সংরক্ষিত ‘কনডেম সেলে’ রাখা হয়েছিল।
শ্যামল দত্ত: ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তার স্ট্রোক হয়। কিন্তু তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারকে জানানো হয়নি। তার হৃদরোগ ও মারাত্মক ‘স্লিপ অ্যাপনিয়ার’ ইতিহাস থাকলেও কারা হেফাজতে তা আমলে নেওয়া হয়নি।
মোজাম্মেল হক বাবু: একই দিনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৩ সালের শেষ দিকে তার প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়ে। একটি বড় অস্ত্রোপচার করা হলেও প্রয়োজনীয় পরবর্তী চিকিৎসা তিনি পাচ্ছেন না, যা তাকে ফের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রেখেছে।
সিপিজে বলছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস’-এর অধীনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত। এসব বিষয় বিবেচনায় চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরপরই বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হন এই চার সাংবাদিক। তাদের মুক্তির দাবিতে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সংগঠন সরব হলেও এখনো তাদের মামলা নিষ্পত্তি হয়নি।

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হওয়া চার সাংবাদিকের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সোমবার আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের কাছে ই-মেইলে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি জানানো হয়।
সিপিজে বলেছে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা তুলে নেওয়ার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বিএনপির সরকার মানবে বলেই তারা আশা করে। যে চার সাংবাদিকের মুক্তি চেয়েছে তারা হলেন- ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল হক বাবু ও শ্যামল দত্ত।
সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর কুনাল মজুমদার চিঠিতে লিখেছেন, হত্যা মামলায় চার সাংবাদিককে ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে আটক রাখা হয়েছে। সংগঠটির নথিপত্র, পরিবারের সাক্ষ্য ও আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞদের পর্যালোচনার ভিত্তিতে দেখা গেছে, অভিযোগের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এ পর্যন্ত কোনো অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়নি।
চিঠিতে বলা হয়, এসব মামলার ধরন দেখে মনে হয়, এগুলো সাংবাদিকদের প্রতিবেদন ও রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। সরকার প্রকাশ্যে এসব চর্চা থেকে বেরিয়ে আসার ইচ্ছা পোষণ করেছে বলে উল্লেখ করে সিপিজে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। চিঠিতে গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরা হয়েছে—
ফারজানা রূপা: ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাকে দুই সপ্তাহের জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সংরক্ষিত ‘কনডেম সেলে’ রাখা হয়েছিল।
শ্যামল দত্ত: ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তার স্ট্রোক হয়। কিন্তু তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারকে জানানো হয়নি। তার হৃদরোগ ও মারাত্মক ‘স্লিপ অ্যাপনিয়ার’ ইতিহাস থাকলেও কারা হেফাজতে তা আমলে নেওয়া হয়নি।
মোজাম্মেল হক বাবু: একই দিনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৩ সালের শেষ দিকে তার প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়ে। একটি বড় অস্ত্রোপচার করা হলেও প্রয়োজনীয় পরবর্তী চিকিৎসা তিনি পাচ্ছেন না, যা তাকে ফের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রেখেছে।
সিপিজে বলছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস’-এর অধীনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত। এসব বিষয় বিবেচনায় চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরপরই বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হন এই চার সাংবাদিক। তাদের মুক্তির দাবিতে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সংগঠন সরব হলেও এখনো তাদের মামলা নিষ্পত্তি হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন