ফেনীতে প্রকৃতির এক বিরল ও ভয়াবহ রূপ দেখলো এলাকাবাসী। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত থেকে শুরু হওয়া নজিরবিহীন এক বৃষ্টিপাতে মুহূর্তেই ওলটপালট হয়ে গেছে পুরো জনপদ। সাধারণ কোনো বৃষ্টি নয়, আবহাওয়াবিদদের ভাষায় এটি ছিল এক শক্তিশালী ‘মেঘ বিস্ফোরণ’ বা 'ক্লাউডবার্স্ট'। মাত্র এক ঘণ্টার প্রবল বর্ষণেই ফেনী শহর ও এর আশপাশের নিচু এলাকাগুলো কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে এক আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই হঠাৎ যেন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায় রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি এবং ফসলি জমি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যেমন: ডাক্তারপাড়া, শহীদ শহিদুল্লা কায়সার সড়ক, পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস, শাহীন একাডেমি, পাঠানবাড়ি, নাজির রোড, মিজান রোড ও সদর হাসপাতাল মোড় এখন থৈ থৈ পানির নিচে। পানি এত দ্রুত ঘরে ঢুকে পড়ে যে, অনেক পরিবার তাদের আসবাবপত্র বা গবাদি পশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগটুকুও পায়নি।
ফেনী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দশকের মধ্যে এবারই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, “মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে বিস্ময়কর তথ্য হলো, শেষ এক ঘণ্টাতেই বৃষ্টি হয়েছে ১২৬ মিলিমিটার। এটি চলতি মৌসুমে তো বটেই, গত কয়েক দশকের মধ্যেও বিরল ঘটনা।”
এদিকে আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী ২-৩ দিন ফেনী জেলাজুড়ে বজ্রসহ বৃষ্টি জারি থাকতে পারে। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় জমে থাকা পানি দ্রুত নামা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বর্তমানে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে রিকশার বদলে মানুষকে কোমর সমান পানি ভেঙে চলতে হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ফেনীতে প্রকৃতির এক বিরল ও ভয়াবহ রূপ দেখলো এলাকাবাসী। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত থেকে শুরু হওয়া নজিরবিহীন এক বৃষ্টিপাতে মুহূর্তেই ওলটপালট হয়ে গেছে পুরো জনপদ। সাধারণ কোনো বৃষ্টি নয়, আবহাওয়াবিদদের ভাষায় এটি ছিল এক শক্তিশালী ‘মেঘ বিস্ফোরণ’ বা 'ক্লাউডবার্স্ট'। মাত্র এক ঘণ্টার প্রবল বর্ষণেই ফেনী শহর ও এর আশপাশের নিচু এলাকাগুলো কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে এক আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই হঠাৎ যেন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায় রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি এবং ফসলি জমি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যেমন: ডাক্তারপাড়া, শহীদ শহিদুল্লা কায়সার সড়ক, পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস, শাহীন একাডেমি, পাঠানবাড়ি, নাজির রোড, মিজান রোড ও সদর হাসপাতাল মোড় এখন থৈ থৈ পানির নিচে। পানি এত দ্রুত ঘরে ঢুকে পড়ে যে, অনেক পরিবার তাদের আসবাবপত্র বা গবাদি পশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগটুকুও পায়নি।
ফেনী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দশকের মধ্যে এবারই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, “মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে বিস্ময়কর তথ্য হলো, শেষ এক ঘণ্টাতেই বৃষ্টি হয়েছে ১২৬ মিলিমিটার। এটি চলতি মৌসুমে তো বটেই, গত কয়েক দশকের মধ্যেও বিরল ঘটনা।”
এদিকে আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী ২-৩ দিন ফেনী জেলাজুড়ে বজ্রসহ বৃষ্টি জারি থাকতে পারে। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় জমে থাকা পানি দ্রুত নামা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বর্তমানে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে রিকশার বদলে মানুষকে কোমর সমান পানি ভেঙে চলতে হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন