সংবাদ

সড়কের পাশে বর্জ্যের স্তূপ, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য


প্রতিনিধি, রাণীনগর (নওগাঁ)
প্রতিনিধি, রাণীনগর (নওগাঁ)
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৩ পিএম

সড়কের পাশে বর্জ্যের স্তূপ, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য
রাণীনগর-আবাদপুকুর সড়কের পাশে খোলা স্থানে বর্জ্য ফেলায় ছড়িয়ে পড়ছে উৎকট দুর্গন্ধ। ছবি : সংবাদ

নওগাঁর রাণীনগরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে অবাধে মুরগির বর্জ্য ফেলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আবাদপুকুর চারমাথা থেকে মাদারতলী পর্যন্ত সড়কের দুই ধারে প্রতিদিন মুরগির নাড়িভুঁড়ি, পালক ও রক্ত ফেলায় ওই এলাকা এখন বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে শুধু পরিবেশ দূষিত হচ্ছে না, বরং জনস্বাস্থ্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাণীনগর-আবাদপুকুর প্রধান সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় স্তূপ হয়ে থাকা বর্জ্য থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। প্রতিদিন শত শত যানবাহনের যাত্রীসহ হাজারো মানুষ এই পথ দিয়ে চলাচল করেন। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা নাকে রুমাল চেপে এই পথ পার হচ্ছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা এই বর্জ্য এখন স্থানীয়দের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভুক্তভোগী পথচারীরা জানান, দিনের বেলা দুর্গন্ধ সহ্য করা গেলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পচা মাংসের লোভে ওই এলাকায় শেয়ালের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অনেক সময় শেয়াল পথচারীদের ওপর আক্রমণও করে। এ ছাড়া কুকুরের আনাগোনার কারণে মোটরসাইকেল ও রিকশা আরোহীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

বাদল নামের এক পথচারী বলেন, ‘মুরগির আবর্জনার কারণে সন্ধ্যার পর শেয়ালের দল রাস্তায় চলে আসে। এমন অবস্থার মুখে আমি নিজেও পড়েছি। বিশেষ করে শীতকালে এদের উপদ্রব আরও বেড়ে যায়।’

বর্জ্যের কারণে মশা-মাছির উপদ্রব আশপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ছে। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলছেন, এভাবে খোলা স্থানে বর্জ্য ফেলায় এলাকায় ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। এ ছাড়া বর্ষায় এই বর্জ্য জলাশয়ে মিশলে মাছ ও জলজ প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

মুরগি ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট জায়গার অভাবকে দায়ী করছেন। বাইজিদ ও শহীদ নামের দুই ব্যবসায়ী বলেন, বর্জ্য ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে ফেলছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত নির্দিষ্ট ডাম্পিং এলাকা নির্ধারণ করে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বন্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তা না হলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি জনচলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬


সড়কের পাশে বর্জ্যের স্তূপ, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নওগাঁর রাণীনগরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে অবাধে মুরগির বর্জ্য ফেলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আবাদপুকুর চারমাথা থেকে মাদারতলী পর্যন্ত সড়কের দুই ধারে প্রতিদিন মুরগির নাড়িভুঁড়ি, পালক ও রক্ত ফেলায় ওই এলাকা এখন বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে শুধু পরিবেশ দূষিত হচ্ছে না, বরং জনস্বাস্থ্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাণীনগর-আবাদপুকুর প্রধান সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় স্তূপ হয়ে থাকা বর্জ্য থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। প্রতিদিন শত শত যানবাহনের যাত্রীসহ হাজারো মানুষ এই পথ দিয়ে চলাচল করেন। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা নাকে রুমাল চেপে এই পথ পার হচ্ছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা এই বর্জ্য এখন স্থানীয়দের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভুক্তভোগী পথচারীরা জানান, দিনের বেলা দুর্গন্ধ সহ্য করা গেলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পচা মাংসের লোভে ওই এলাকায় শেয়ালের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অনেক সময় শেয়াল পথচারীদের ওপর আক্রমণও করে। এ ছাড়া কুকুরের আনাগোনার কারণে মোটরসাইকেল ও রিকশা আরোহীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

বাদল নামের এক পথচারী বলেন, ‘মুরগির আবর্জনার কারণে সন্ধ্যার পর শেয়ালের দল রাস্তায় চলে আসে। এমন অবস্থার মুখে আমি নিজেও পড়েছি। বিশেষ করে শীতকালে এদের উপদ্রব আরও বেড়ে যায়।’

বর্জ্যের কারণে মশা-মাছির উপদ্রব আশপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ছে। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলছেন, এভাবে খোলা স্থানে বর্জ্য ফেলায় এলাকায় ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। এ ছাড়া বর্ষায় এই বর্জ্য জলাশয়ে মিশলে মাছ ও জলজ প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

মুরগি ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট জায়গার অভাবকে দায়ী করছেন। বাইজিদ ও শহীদ নামের দুই ব্যবসায়ী বলেন, বর্জ্য ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে ফেলছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত নির্দিষ্ট ডাম্পিং এলাকা নির্ধারণ করে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বন্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তা না হলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি জনচলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত