মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে ইরি ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ভালো ফলনের আনন্দের চেয়ে এখন কৃষকদের মনে দুশ্চিন্তাই বেশি। হঠাৎ টানা বৃষ্টি আর নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ধান ঘরে তোলা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে যোগ হয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে গজারিয়ায় প্রায় ২ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে ইরি ধানের আবাদ হয়েছে। বিশেষ করে বিআর-২৮, ২৯ ও বিআর-৫০ জাতের ধানের ফলন হয়েছে সন্তোষজনক। তবে ধান কাটার এই ভরা মৌসুমে প্রকৃতির বিরূপ আচরণে লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে অনেক জমির ধান হেলে পড়েছে এবং খেতগুলোতে পানি জমেছে। ফলে শ্রমিকেরা কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
উপজেলার ভাটেরচর এলাকার কৃষক জাহাঙ্গীর, মোশাররফ ও হানিফ জানান, ধান খুব ভালো হলেও বৃষ্টির কারণে কাটা যাচ্ছে না। আবার বৈরী আবহাওয়ার সুযোগে ধানকাটা শ্রমিকের মজুরিও অনেক বেড়ে গেছে। বাড়তি টাকা দিয়েও পর্যাপ্ত শ্রমিক মিলছে না। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ধান কাটার চেষ্টা করছেন, তবে বৃষ্টির কারণে কাজে গতি আসছে না।
কৃষকেরা জানান, এভাবে বৃষ্টি হতে থাকলে পাকা ধান খেতে অঙ্কুরিত হয়ে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে ফসলের বড় একটি অংশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মানেরও ক্ষতি হবে।
গজারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আরাফাত বিন সিদ্দিক বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক সেচ ব্যবস্থার কারণে এবার ফলন ভালো হয়েছে। আমরা কৃষকদের আগেই পরামর্শ দিয়েছিলাম যেন ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলে দ্রুত কেটে ফেলা হয়। কিন্তু হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে তারা সমস্যায় পড়েছেন। সামনের কয়েক দিন আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা দুশ্চিন্তার কারণ। দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে কৃষি বিভাগ কৃষকদের পাশে রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন