সংবাদ

জামায়াত অপরাধ স্বীকার না করা পর্যন্ত ‘মুক্তিযুদ্ধ কার্ড’ রাজনীতিতে থাকবে: জাহেদ উর রহমান


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম

জামায়াত অপরাধ স্বীকার না করা পর্যন্ত ‘মুক্তিযুদ্ধ কার্ড’ রাজনীতিতে থাকবে: জাহেদ উর রহমান

বাংলাদেশে রাজনীতিতে ‘মুক্তিযুদ্ধ কার্ড’-এর ব্যবহার বন্ধ হবে না যতদিন না জামায়াতে ইসলামী তাদের অতীতের অপরাধ নিঃশর্তভাবে স্বীকার করে। এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি এই রাজনৈতিক কার্ডটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন।

আজ বৃহস্পতিবার নিজের ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেল ‘জাহেদ টকস’-এ প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের লোকজন ফৌজদারি অপরাধে জড়িত ছিল এতে কোনো সন্দেহ নেই। তারা কোলাবরেট করতে গিয়ে নানা রকম মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত হয়েছিল।” এই ঐতিহাসিক সত্যটি যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করবে, ততক্ষণ এই ইস্যুটি রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থেকে যাবে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধ এবং জামায়াত ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে সংসদ সদস্যদের জোরালো বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সংসদে প্রচুর বাহাস হচ্ছে। কিন্তু ফেসবুকে অনেকে দাবি করছেন বিএনপি আবার মুক্তিযুদ্ধের কথা তুলে ভুল করছে এবং সমাজে বিভক্তি তৈরি করছে। তাদের মতে, এতে বিএনপির ভরাডুবি নিশ্চিত।”

এই সমালোচনার জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “যারা এই ধরনের কথা বলছেন তারা আসলে বিএনপিকে পছন্দ করেন না, তারা বিএনপিবিরোধী মানুষ।”

গণতন্ত্রের তত্ত্বে ‘বিভাজন’-এর একটি ব্যাখ্যা দেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, “গণতন্ত্র মানেই এক অর্থে বিভাজন তৈরি করা। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব চিন্তা থাকে এবং সেই চিন্তার ভিত্তিতে তারা মানুষকে নিজেদের দিকে টানে। তবে এই বিভাজনের একটি শর্ত আছে এটি ঘৃণা উৎপাদন করতে পারবে না এবং অন্যের নাগরিক বা রাজনৈতিক অধিকার হরণ করতে পারবে না।”

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার সময়কালে যে বিভাজন করা হয়েছিল, তা কাম্য নয়। তিনি বিভাজনের মাধ্যমে ঘৃণা ছড়িয়েছেন, হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন এবং মানুষের মানবিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছেন। আমরা সেই ধরনের বিভাজন চাই না।”

 

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬


জামায়াত অপরাধ স্বীকার না করা পর্যন্ত ‘মুক্তিযুদ্ধ কার্ড’ রাজনীতিতে থাকবে: জাহেদ উর রহমান

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে রাজনীতিতে ‘মুক্তিযুদ্ধ কার্ড’-এর ব্যবহার বন্ধ হবে না যতদিন না জামায়াতে ইসলামী তাদের অতীতের অপরাধ নিঃশর্তভাবে স্বীকার করে। এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি এই রাজনৈতিক কার্ডটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন।

আজ বৃহস্পতিবার নিজের ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেল ‘জাহেদ টকস’-এ প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের লোকজন ফৌজদারি অপরাধে জড়িত ছিল এতে কোনো সন্দেহ নেই। তারা কোলাবরেট করতে গিয়ে নানা রকম মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত হয়েছিল।” এই ঐতিহাসিক সত্যটি যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করবে, ততক্ষণ এই ইস্যুটি রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থেকে যাবে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধ এবং জামায়াত ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে সংসদ সদস্যদের জোরালো বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সংসদে প্রচুর বাহাস হচ্ছে। কিন্তু ফেসবুকে অনেকে দাবি করছেন বিএনপি আবার মুক্তিযুদ্ধের কথা তুলে ভুল করছে এবং সমাজে বিভক্তি তৈরি করছে। তাদের মতে, এতে বিএনপির ভরাডুবি নিশ্চিত।”

এই সমালোচনার জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “যারা এই ধরনের কথা বলছেন তারা আসলে বিএনপিকে পছন্দ করেন না, তারা বিএনপিবিরোধী মানুষ।”

গণতন্ত্রের তত্ত্বে ‘বিভাজন’-এর একটি ব্যাখ্যা দেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, “গণতন্ত্র মানেই এক অর্থে বিভাজন তৈরি করা। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব চিন্তা থাকে এবং সেই চিন্তার ভিত্তিতে তারা মানুষকে নিজেদের দিকে টানে। তবে এই বিভাজনের একটি শর্ত আছে এটি ঘৃণা উৎপাদন করতে পারবে না এবং অন্যের নাগরিক বা রাজনৈতিক অধিকার হরণ করতে পারবে না।”

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার সময়কালে যে বিভাজন করা হয়েছিল, তা কাম্য নয়। তিনি বিভাজনের মাধ্যমে ঘৃণা ছড়িয়েছেন, হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন এবং মানুষের মানবিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছেন। আমরা সেই ধরনের বিভাজন চাই না।”

 

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত