পশ্চিমবঙ্গে এবার ভোটের পর যে সামগ্রিক চিত্র সামনে এসেছে, তা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে — এই নির্বাচন শুধু উচ্চ ভোটার উপস্থিতির জন্য নয়, বরং তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং টানটান প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভোট পরবর্তী বা বুথফেরত জরিপগুলি কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও সেগুলি চূড়ান্ত ফল নয়। একাধিক আঞ্চলিক সমীক্ষা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক ও মহিলা ভোটারদের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারে, বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক আসনে। আর, কিছু জাতীয় স্তরের পোলিং নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় বিজেপির শহরাঞ্চল, সীমান্তবর্তী এলাকা এবং মেরুকৃত আসনগুলিতে ভালো লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে।
বেশ কয়েকটি জেলায় হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বিজেপির সামান্য এগিয়ে থাকার সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে।
কংগ্রেস-বাম জোটের ক্ষেত্রে ভোটের অংশ কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিত থাকলেও, তা কতটা আসনে রূপান্তরিত হবে তা এখনও অনিশ্চিত।
বিভিন্ন সূত্র ও মাঠের প্রতিবেদনে উঠে আসা চিত্রে দেখা যাচ্ছে, বুথফেরত জরিপের নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ না হলেও প্রবণতা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ইঙ্গিত মিলছে। কিছু জরিপকারী সংস্থা বিজেপিকে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল — বিশেষ করে শহরাঞ্চল ও মেরুকৃত এলাকায় — এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে, একাধিক জরিপ ও বিশ্লেষণে তৃণমূল কংগ্রেসকে সামগ্রিকভাবে বেশি আসন পাওয়ার সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে, বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চল, শহরের একাংশ এবং মহিলা ভোটব্যাঙ্কের ভিত্তিতে।
২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন।
একটি জরিপে তৃণমূল কংগ্রেস ২০৫টি আসন জিততে পারে বলে ধারণা দেয়া হয়েছে। আবার আরেক জরিপে বিজেপি ২০৮ আসন পেতে পারে বলে বলা হচ্ছে।
যে ৮টি বুথফেরত জরিপ প্রকাশিত হয়েছে তার তিনটিতে বিজেপি জিতবে বলে ইঙ্গিত দিয়ে হয়েছে। আর দুটিতে তৃণমূলের জয়ের আভাস মিলছে। বাকী তিনটিতে বিজেপি এবং তৃণমূলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ভারতের নির্বাচনী ইতিহাস বলছে, অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের বুথফেরত বা প্রাক নির্বাচনী জনমত সমীক্ষা মেলে না। তবে মিলে যাওয়ার কিছু উদাহরণও রয়েছে।
ফলে স্পষ্ট করে বলা যায়, কোনও একক চিত্র এখানে সামনে আসছে না — বরং ভিন্ন ভিন্ন জরিপে ভিন্ন ইঙ্গিত মিলছে।
এই ভিন্নতার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রথমত, এবারের ভোটে বেশি ভোটার উপস্থিতি — যা ‘নীরব ভোটার’ ফ্যাক্টরকে বড় করে তুলেছে। দ্বিতীয়ত, অঞ্চলভেদে ভোটের প্রবণতা সম্পূর্ণ আলাদা — এক জায়গায় যে ট্রেন্ড, অন্য জায়গায় তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। তৃতীয়ত, মহিলা ভোটার এবং প্রথমবার ভোটদাতাদের আচরণ সঠিকভাবে ধরা কঠিন, ফলে জরিপের ফলাফলেও তার প্রভাব পড়ছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় বিধানসভার ২৯৪ আসনে ভোট হয়েছে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। ভোট ৯৩ শতাংশের বেশি পড়েছে বলে বলা হচ্ছে। এবার নির্বাচনে বহু ভোটার বাদ পড়া, নিরাপত্তার কড়াকড়ি বড় আলোচনার বিষয়। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের চেয়ে এবার ৫১ লাখ ভোটার কমেছে। তবে সেবারের চাইতে এবার ৩০ লাখ ভোট বেশী পড়েছে।
তবে শেষ কথা বলবে ৪ মে গণনার দিনের রায়। আর সেই রায়ই ঠিক করে দেবে পশ্চিমবঙ্গের আগামীর রাজনৈতিক দিশা।

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে এবার ভোটের পর যে সামগ্রিক চিত্র সামনে এসেছে, তা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে — এই নির্বাচন শুধু উচ্চ ভোটার উপস্থিতির জন্য নয়, বরং তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং টানটান প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভোট পরবর্তী বা বুথফেরত জরিপগুলি কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও সেগুলি চূড়ান্ত ফল নয়। একাধিক আঞ্চলিক সমীক্ষা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক ও মহিলা ভোটারদের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারে, বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক আসনে। আর, কিছু জাতীয় স্তরের পোলিং নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় বিজেপির শহরাঞ্চল, সীমান্তবর্তী এলাকা এবং মেরুকৃত আসনগুলিতে ভালো লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে।
বেশ কয়েকটি জেলায় হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বিজেপির সামান্য এগিয়ে থাকার সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে।
কংগ্রেস-বাম জোটের ক্ষেত্রে ভোটের অংশ কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিত থাকলেও, তা কতটা আসনে রূপান্তরিত হবে তা এখনও অনিশ্চিত।
বিভিন্ন সূত্র ও মাঠের প্রতিবেদনে উঠে আসা চিত্রে দেখা যাচ্ছে, বুথফেরত জরিপের নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ না হলেও প্রবণতা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ইঙ্গিত মিলছে। কিছু জরিপকারী সংস্থা বিজেপিকে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল — বিশেষ করে শহরাঞ্চল ও মেরুকৃত এলাকায় — এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে, একাধিক জরিপ ও বিশ্লেষণে তৃণমূল কংগ্রেসকে সামগ্রিকভাবে বেশি আসন পাওয়ার সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে, বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চল, শহরের একাংশ এবং মহিলা ভোটব্যাঙ্কের ভিত্তিতে।
২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন।
একটি জরিপে তৃণমূল কংগ্রেস ২০৫টি আসন জিততে পারে বলে ধারণা দেয়া হয়েছে। আবার আরেক জরিপে বিজেপি ২০৮ আসন পেতে পারে বলে বলা হচ্ছে।
যে ৮টি বুথফেরত জরিপ প্রকাশিত হয়েছে তার তিনটিতে বিজেপি জিতবে বলে ইঙ্গিত দিয়ে হয়েছে। আর দুটিতে তৃণমূলের জয়ের আভাস মিলছে। বাকী তিনটিতে বিজেপি এবং তৃণমূলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ভারতের নির্বাচনী ইতিহাস বলছে, অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের বুথফেরত বা প্রাক নির্বাচনী জনমত সমীক্ষা মেলে না। তবে মিলে যাওয়ার কিছু উদাহরণও রয়েছে।
ফলে স্পষ্ট করে বলা যায়, কোনও একক চিত্র এখানে সামনে আসছে না — বরং ভিন্ন ভিন্ন জরিপে ভিন্ন ইঙ্গিত মিলছে।
এই ভিন্নতার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রথমত, এবারের ভোটে বেশি ভোটার উপস্থিতি — যা ‘নীরব ভোটার’ ফ্যাক্টরকে বড় করে তুলেছে। দ্বিতীয়ত, অঞ্চলভেদে ভোটের প্রবণতা সম্পূর্ণ আলাদা — এক জায়গায় যে ট্রেন্ড, অন্য জায়গায় তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। তৃতীয়ত, মহিলা ভোটার এবং প্রথমবার ভোটদাতাদের আচরণ সঠিকভাবে ধরা কঠিন, ফলে জরিপের ফলাফলেও তার প্রভাব পড়ছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় বিধানসভার ২৯৪ আসনে ভোট হয়েছে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। ভোট ৯৩ শতাংশের বেশি পড়েছে বলে বলা হচ্ছে। এবার নির্বাচনে বহু ভোটার বাদ পড়া, নিরাপত্তার কড়াকড়ি বড় আলোচনার বিষয়। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের চেয়ে এবার ৫১ লাখ ভোটার কমেছে। তবে সেবারের চাইতে এবার ৩০ লাখ ভোট বেশী পড়েছে।
তবে শেষ কথা বলবে ৪ মে গণনার দিনের রায়। আর সেই রায়ই ঠিক করে দেবে পশ্চিমবঙ্গের আগামীর রাজনৈতিক দিশা।

আপনার মতামত লিখুন