সংবাদ

কোরবানি ঘিরে যে প্রস্তুতি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের


বাকী বিল্লাহ
বাকী বিল্লাহ
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ১১:২১ পিএম

কোরবানি ঘিরে যে প্রস্তুতি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের

  • পেশাদার কসাইসহ ৩৮ হাজার ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ
  • মোটাতাজা গরু-মহিষ ৫৬,৯৫,৮৭৮টি, ছাগল-ভেড়া ৬৬,৩২,৩০৭টি 
  • নিরাপদ মাংস উৎপাদন ও পশু মোটাতাজাকরণ ৬৭ হাজার খামার পরিদর্শন: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর
  • চামড়া সংরক্ষণ ও নিরাপদ মাংস উৎপাদনে দেশজুড়ে ব্যাপক তোড়জোড়
  • ১ কোটি ২৩ লাখ পশুর জোগান

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু কোরবানি এবং পশুর চামড়া সঠিক পদ্ধতিতে ছাড়ানো সংরক্ষণে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সারা দেশে ১৫ হাজার ৪৪৪ জন পেশাদার কসাইকে বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। শুধু পেশাদার কসাই- নয়, কোরবানির সময় পশুর চামড়ার গুণমান রক্ষা দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতে আরও ২২ হাজার ৯১৮ জন অপেশাদার বা মৌসুমী কসাইকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে। রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যে এসব চাঞ্চল্যকর আশাব্যঞ্জক প্রস্তুতির চিত্র উঠে এসেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, কোরবানির চামড়া দেশের একটি বড় সম্পদ। প্রতিবছর সঠিক জ্ঞানের অভাবে বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। এটি রোধ করতেই এবার কোমর বেঁধে নেমেছে অধিদপ্তর। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিভাগভিত্তিক পেশাদার কসাই প্রশিক্ষণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বরিশাল বিভাগে, যেখানে হাজার ৪৭৯ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিভাগে হাজার ৪১০ জন, চট্টগ্রামে হাজার ৮৪৩ জন, রাজশাহীতে হাজার ২০৭ জন, খুলনায় হাজার ৭৬০ জন, সিলেটে ৬৫৩ জন, রংপুরে হাজার ৯২৫ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে হাজার ১৬৭ জন পেশাদার কসাই প্রশিক্ষিত হয়েছেন। এভাবে আট বিভাগ মিলিয়ে মোট ১৫ হাজার ৪৪৪ জন দক্ষ কসাই মাঠপর্যায়ে সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।

অন্যদিকে, কোরবানির মৌসুমে যে বিশাল সংখ্যক অপেশাদার বা মৌসুমী কসাই পশু জবাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হন, তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও নেওয়া হয়েছে কার্যকর পদক্ষেপ। সারা দেশে মোট ২২ হাজার ৯১৮ জন এমন ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে হাজার ৩২৪ জন, চট্টগ্রামে হাজার ৬২৮ জন, রাজশাহীতে হাজার ৭৪৫ জন, খুলনায় হাজার ৩৫৯ জন, বরিশালে হাজার ৬২৫ জন, সিলেটে হাজার ৫০৭ জন, রংপুরে হাজার ২৯ জন এবং ময়মনসিংহে হাজার ৭০১ জন রয়েছেন। তারা কোরবানির দিন পশু জবাই চামড়া ছাড়ানোর মূল দায়িত্ব পালন করবেন।

পশুর চামড়া ছাড়ানো এবং এর সঠিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতেও পিছিয়ে নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এরই মধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার ছাত্র, জনপ্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী আড়তদারদের নিয়ে সারা দেশে হাজার ৬৬৩টি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাধারণ মানুষকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে বিতরণ করা হয়েছে লাখ ৮৮ হাজার ৭৪টি পোস্টার লিফলেট। নিরাপদ মাংস উৎপাদন নিশ্চিত করতে ভেটেরিনারি চিকিৎসকরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তারা সারা দেশের ৬৭ হাজার ৩৬৬টি খামার পরিদর্শন করে খামারিদের প্রয়োজনীয় গাইডলাইন দিয়েছেন। এর মধ্যে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৭টি এবং ঢাকায় ১৪ হাজার ৬৫৩টি খামার পরিদর্শন করা হয়েছে।

পশুর চাহিদার তুলনায় বছর প্রাপ্তি বা জোগান অনেক বেশি বলে নিশ্চিত করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর বিপরীতে দেশব্যাপী চাহিদা রয়েছে কোটি লাখ হাজার ৩৩৪টি পশুর। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশি ১৮ লাখ ৭০ হাজার পশু উদ্বৃত্ত আছে। তবে ঢাকা চট্টগ্রামে চাহিদার তুলনায় সামান্য ঘাটতি দেখা গেলেও পার্শ্ববর্তী বিভাগগুলো থেকে পশু আসার মাধ্যমে তা সহজেই পূরণ হবে বলে জানানো হয়েছে।

অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সারা দেশের লাখ ১৬ হাজার ১৮৭টি খামারে বর্তমানে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু-মহিষ এবং ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি ছাগল-ভেড়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে এর বাইরেও দেশের অসংখ্য প্রান্তিক ক্ষুদ্র পরিবার রয়েছে যারা বাড়িতে একটি বা দুটি করে পশু পালন করেন। তাদের উৎপাদিত পশুর হিসাব যুক্ত করলে কোরবানির পশুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আসন্ন ঈদে পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, পশু জবাই চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


কোরবানি ঘিরে যে প্রস্তুতি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

  • পেশাদার কসাইসহ ৩৮ হাজার ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ
  • মোটাতাজা গরু-মহিষ ৫৬,৯৫,৮৭৮টি, ছাগল-ভেড়া ৬৬,৩২,৩০৭টি 
  • নিরাপদ মাংস উৎপাদন ও পশু মোটাতাজাকরণ ৬৭ হাজার খামার পরিদর্শন: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর
  • চামড়া সংরক্ষণ ও নিরাপদ মাংস উৎপাদনে দেশজুড়ে ব্যাপক তোড়জোড়
  • ১ কোটি ২৩ লাখ পশুর জোগান

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু কোরবানি এবং পশুর চামড়া সঠিক পদ্ধতিতে ছাড়ানো সংরক্ষণে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সারা দেশে ১৫ হাজার ৪৪৪ জন পেশাদার কসাইকে বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। শুধু পেশাদার কসাই- নয়, কোরবানির সময় পশুর চামড়ার গুণমান রক্ষা দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতে আরও ২২ হাজার ৯১৮ জন অপেশাদার বা মৌসুমী কসাইকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে। রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যে এসব চাঞ্চল্যকর আশাব্যঞ্জক প্রস্তুতির চিত্র উঠে এসেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, কোরবানির চামড়া দেশের একটি বড় সম্পদ। প্রতিবছর সঠিক জ্ঞানের অভাবে বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। এটি রোধ করতেই এবার কোমর বেঁধে নেমেছে অধিদপ্তর। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিভাগভিত্তিক পেশাদার কসাই প্রশিক্ষণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বরিশাল বিভাগে, যেখানে হাজার ৪৭৯ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিভাগে হাজার ৪১০ জন, চট্টগ্রামে হাজার ৮৪৩ জন, রাজশাহীতে হাজার ২০৭ জন, খুলনায় হাজার ৭৬০ জন, সিলেটে ৬৫৩ জন, রংপুরে হাজার ৯২৫ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে হাজার ১৬৭ জন পেশাদার কসাই প্রশিক্ষিত হয়েছেন। এভাবে আট বিভাগ মিলিয়ে মোট ১৫ হাজার ৪৪৪ জন দক্ষ কসাই মাঠপর্যায়ে সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।

অন্যদিকে, কোরবানির মৌসুমে যে বিশাল সংখ্যক অপেশাদার বা মৌসুমী কসাই পশু জবাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হন, তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও নেওয়া হয়েছে কার্যকর পদক্ষেপ। সারা দেশে মোট ২২ হাজার ৯১৮ জন এমন ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে হাজার ৩২৪ জন, চট্টগ্রামে হাজার ৬২৮ জন, রাজশাহীতে হাজার ৭৪৫ জন, খুলনায় হাজার ৩৫৯ জন, বরিশালে হাজার ৬২৫ জন, সিলেটে হাজার ৫০৭ জন, রংপুরে হাজার ২৯ জন এবং ময়মনসিংহে হাজার ৭০১ জন রয়েছেন। তারা কোরবানির দিন পশু জবাই চামড়া ছাড়ানোর মূল দায়িত্ব পালন করবেন।

পশুর চামড়া ছাড়ানো এবং এর সঠিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতেও পিছিয়ে নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এরই মধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার ছাত্র, জনপ্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী আড়তদারদের নিয়ে সারা দেশে হাজার ৬৬৩টি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাধারণ মানুষকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে বিতরণ করা হয়েছে লাখ ৮৮ হাজার ৭৪টি পোস্টার লিফলেট। নিরাপদ মাংস উৎপাদন নিশ্চিত করতে ভেটেরিনারি চিকিৎসকরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তারা সারা দেশের ৬৭ হাজার ৩৬৬টি খামার পরিদর্শন করে খামারিদের প্রয়োজনীয় গাইডলাইন দিয়েছেন। এর মধ্যে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৭টি এবং ঢাকায় ১৪ হাজার ৬৫৩টি খামার পরিদর্শন করা হয়েছে।

পশুর চাহিদার তুলনায় বছর প্রাপ্তি বা জোগান অনেক বেশি বলে নিশ্চিত করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর বিপরীতে দেশব্যাপী চাহিদা রয়েছে কোটি লাখ হাজার ৩৩৪টি পশুর। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশি ১৮ লাখ ৭০ হাজার পশু উদ্বৃত্ত আছে। তবে ঢাকা চট্টগ্রামে চাহিদার তুলনায় সামান্য ঘাটতি দেখা গেলেও পার্শ্ববর্তী বিভাগগুলো থেকে পশু আসার মাধ্যমে তা সহজেই পূরণ হবে বলে জানানো হয়েছে।

অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সারা দেশের লাখ ১৬ হাজার ১৮৭টি খামারে বর্তমানে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু-মহিষ এবং ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি ছাগল-ভেড়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে এর বাইরেও দেশের অসংখ্য প্রান্তিক ক্ষুদ্র পরিবার রয়েছে যারা বাড়িতে একটি বা দুটি করে পশু পালন করেন। তাদের উৎপাদিত পশুর হিসাব যুক্ত করলে কোরবানির পশুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আসন্ন ঈদে পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, পশু জবাই চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত