সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উদযাপনের নামে চরম অমানবিকতার এক নজির সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের ওপরতলায় যখন রোগাক্রান্ত শিশুরা ব্যথায় ও যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল, ঠিক তখনই নিচতলায় উচ্চ শব্দে ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে নাচে মেতে ওঠেন নার্সরা। সেই নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ও জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
আজ ১২ মে (মঙ্গলবার) আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী রোগীদের স্বজনরা জানান, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের নিচতলায় বিশাল আকৃতির স্পিকার ও ব্যান্ড দল নিয়ে গানের তালে তালে নাচে মেতে ওঠেন নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। ড্রাম ও সাউন্ড বক্সের তীব্র শব্দে পুরো হাসপাতাল এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ইউনিটে অসংখ্য মুমূর্ষু রোগী চিকিৎসাধীন। বিশেষ করে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের কান্না ও যন্ত্রণার মাঝেই নিচতলা থেকে আসা উচ্চ শব্দ রোগীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থাকে আরও সংকটাপন্ন করে তোলে।
হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার বাচ্চাটা যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারছে না, আর নিচে তারা মাইক বাজিয়ে নাচছে। এটি হাসপাতাল নাকি কোনো ক্লাব বোঝা দায়। আমাদের দেখার যেন কেউ নেই।’
চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী হাসপাতাল একটি ‘সাইলেন্স জোন’ বা নীরব এলাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ শব্দ হৃদরোগী, উচ্চ রক্তচাপের রোগী এবং শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তীব্র শব্দদূষণ রোগীদের স্নায়বিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় এবং সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। সেবার ব্রত নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের কাছ থেকে এমন অপেশাদার আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নার্সরা দল বেঁধে উচ্চস্বরে গানের তালে নাচছেন, যা হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থী নেটিজেনরা একে ‘অমানবিক’ ও ‘সেবার নামে তামাশা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নার্স দাবি করেন, দিবসটি উদযাপন করতে তারা এই আয়োজন করেছিলেন; এটি রোগীদের এতটাই ভোগাবে, তা তারা বুঝতে পারেননি।
সচেতন মহলের মতে, ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের আদর্শে যারা দীক্ষিত, তাদের উদযাপনে রোগীদের কষ্টের ছোঁয়া থাকা উচিত ছিল না। স্থানীয় নাগরিক সমাজ দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উদযাপনের নামে চরম অমানবিকতার এক নজির সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের ওপরতলায় যখন রোগাক্রান্ত শিশুরা ব্যথায় ও যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল, ঠিক তখনই নিচতলায় উচ্চ শব্দে ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে নাচে মেতে ওঠেন নার্সরা। সেই নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ও জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
আজ ১২ মে (মঙ্গলবার) আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী রোগীদের স্বজনরা জানান, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের নিচতলায় বিশাল আকৃতির স্পিকার ও ব্যান্ড দল নিয়ে গানের তালে তালে নাচে মেতে ওঠেন নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। ড্রাম ও সাউন্ড বক্সের তীব্র শব্দে পুরো হাসপাতাল এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ইউনিটে অসংখ্য মুমূর্ষু রোগী চিকিৎসাধীন। বিশেষ করে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের কান্না ও যন্ত্রণার মাঝেই নিচতলা থেকে আসা উচ্চ শব্দ রোগীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থাকে আরও সংকটাপন্ন করে তোলে।
হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার বাচ্চাটা যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারছে না, আর নিচে তারা মাইক বাজিয়ে নাচছে। এটি হাসপাতাল নাকি কোনো ক্লাব বোঝা দায়। আমাদের দেখার যেন কেউ নেই।’
চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী হাসপাতাল একটি ‘সাইলেন্স জোন’ বা নীরব এলাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ শব্দ হৃদরোগী, উচ্চ রক্তচাপের রোগী এবং শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তীব্র শব্দদূষণ রোগীদের স্নায়বিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় এবং সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। সেবার ব্রত নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের কাছ থেকে এমন অপেশাদার আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নার্সরা দল বেঁধে উচ্চস্বরে গানের তালে নাচছেন, যা হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থী নেটিজেনরা একে ‘অমানবিক’ ও ‘সেবার নামে তামাশা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নার্স দাবি করেন, দিবসটি উদযাপন করতে তারা এই আয়োজন করেছিলেন; এটি রোগীদের এতটাই ভোগাবে, তা তারা বুঝতে পারেননি।
সচেতন মহলের মতে, ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের আদর্শে যারা দীক্ষিত, তাদের উদযাপনে রোগীদের কষ্টের ছোঁয়া থাকা উচিত ছিল না। স্থানীয় নাগরিক সমাজ দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

আপনার মতামত লিখুন